জান্নাতুল ফেরদৌসকে মর্যাদা দিল মহানগর যুবদল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৮ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির পোড় খাওয়া নেতাদের মধ্যে একজন ছিলেন জান্নাতুল ফেরদৌস। দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নির্দেশে দলে ভেড়া এ নেতা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ছাত্রদল, যুবদল ও সবশেষ বিএনপিতে। আর এই বিএনপি নেতা জান্নাতুল ফেরদৌস খুব কম বয়সেই সকলকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে পরকালে পাড়ি জমিয়েছেন। ফলে তার এই মৃত্যু নিতে পারছে না কেউই। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরাও এই বিষয়টি মেনে নিতে পারে নি।

৪ ডিসেম্বর বুধবার জান্নাতুল ফেরদৌসের অন্তিম যাত্রায় শেষ বিদায় জানাতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের নেতাকর্মীরা হাজির হয়েছিলেন। তার জানাযায় শরিক হয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে জান্নাতুল ফেরদৌসের প্রতি ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন করা হয়েছে। সেই সাথে জান্নাতুল ফেরদৌসের কপিনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের টুপি রেখে দলীয় মর্যাদায় সম্মান জানিয়েছেন তারা। শোকাহত পরিবেশে ঝেরেছেন চোখের নোনা জল। হৃদয়ের গহীন থেকে ফেলেছেন বেদনা ও আক্ষেপের ভারী নিঃশ্বাস। অন্যদের মতো তারাও ভাবতে পারেনি এ সময়েই সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে যাবেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, সহ সভাপতি মনোয়ার হোসেন শোখন, আক্তার হোসেন খোকন শাহ, জুয়েল প্রধান, রিটন দে, নাজমুল কবীর নাহিদ, জানে আলম দুলাল,  সাধারন সম্পাদক মন্তাজউদ্দিন মন্তু, যুগ্ম সম্পাদক নুর এলাহী সোহাগ, সহ সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম ও দপ্তর সম্পাদক শওকত খন্দকার সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য ৪ ডিসেম্বর বুধবার বেলা ১২টায় রাজধানী ঢাকার মিডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফেরদৌস। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। জান্নাতুল ফেরদৌস প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে আসেন। ১৯৮১ সালে জিয়া হলে বিজ্ঞানমেলায় আসেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেখানে রাষ্ট্রপতি জিয়ার চোখে পড়ে বুদ্ধিদীপ্ত জান্নাতুল ফেরদৌস। ওই সালেই বিএনপির অঙ্গ-সংগঠন ছাত্রদল গঠন করা হয়। ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির ৫১ সদস্যের মধ্যে জান্নাতুল ফেরদৌস ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ।

পর্যায়ক্রমে তিনি যুবদলের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরে জেলা যুবদলের আহবায়ক হন। ১৯৯১ সালে জেলা বিএনপির কমিটিতে তাকে দপ্তর সম্পাদক বানানো হয়। দুইবারের কমিটিতে তিনি ওই দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ জেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়াও তিনি বিএনপির সহযোগী সংগঠন জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌসের মৃত্যুতে আবেগতাড়িত হতে পারেননি জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক সহ জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা। তাদের হৃদয় স্পর্শ করতে পারেননি। আর সে কারণেই হয়তো শহীদুল ইসলাম টিটু ও গোলাম ফারুক অনুপস্থিত ছিলেন। যদিও জান্নাতুল নিজেও একসময় যুবদলের নেতৃত্বে ছিল। তারপরেও তার শেষ যাত্রায় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের হৃদয়ে দাগ কাটতে পারেনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর জান্নাতুল ফেরদৌসকে আহবায়ক করে ২২ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ যুবদলের অনেক নেতাকর্মীই তার হাত ধরে সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদও তার হাত ধরে যুবদলের রাজনীতি করেছেন। যা তিনি নিজে স্বীকার করেছেন।

জান্নাতুল ফেরদৌসের দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৭ সালে মামুন মাহামুদকে সভাপতি ও আশরাফুল আলম রিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাদের মধ্যে মামুন এখন জেলা বিএনপির সেক্রেটারী। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মোশারফ হোসেনকে সভাপতি, সালাউদ্দীন মোল্লাকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, শাহআলম মুকুলকে সাধারণ সম্পাদক ও একরামুল কবির মামুনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর জেলা যুবদেলর আংশিক কমিটি ঘোষণা করে। জেলা যুবদলে সভাপতি করা হয়েছে শহীদুল ইসলাম টিটুকে যিনি বর্তমানে ফতুল্লা থানা কমিটির সভাপতি। আর সেক্রেটারী করা হয়েছে গোলাম ফারুক খোকনকে যিনি এখন রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি। যা গত ২৪ মার্চ যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন সাক্ষরে ২০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির রূপ দেয়া হয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও