কি মধু ফতুল্লা আওয়ামী লীগে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২০ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

কি মধু ফতুল্লা আওয়ামী লীগে

দীর্র্ঘ প্রায় ১৫ বছর পর ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর এত বছর পর সম্মেলন হলেও এখনও সেই পুরাতন নেতারাই ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদ দখল করে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করেও তাদের স্বাদ মিটেনি। ফতুল্লা থানা কমিটির শীর্ষ পদের আসার জন্য তার সমর্থিত নেতাকর্মীদের দিয়ে পুরো নারায়ণগঞ্জ শহর জুড়েই ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার লাগিয়েছেন। যে কোনো ভাবেই হোক তারা ফের ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসতে চান। আর তাদের এই তৎপরতায় তৃণমূলের কেউ কেউ বলছেন, না জানি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগে কত মধু রয়েছে।

৭ ডিসেম্বর নম পার্কে সম্মেলনে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি।

এ সম্মেলনেও চলতি কমিটির সভাপতি এম সাঈফ উল্লাহ বাদল ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলীকেই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা সেভাবেই প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নিজেদের জায়গা করিয়ে নেয়ার জন্য তাদের অনুসারীদের দিয়ে নারায়ণঞ্জ শহর জুড়ে নানা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে তাদের এই তৎপরতায় ক্ষুদ্ধ সম্ভবনাময় নবীন নেতৃবৃন্দরা। দীর্ঘদিন ধরে তারা সম্মেলনের জন্য অপেক্ষায় থাকলেও অবশেষে পুরাতনরাই নতুন করে নেতৃত্বে আসছেন। যা কোনভাবেই মেনে নেয়ার মতো নয়। নতুন করে কমিটি আসা মানেই নতুনদের জায়গা পাওয়া। কিন্তু সে জায়গায় নতুনরা কমিটিতে না এসে বার বার পুরাতনরাই পদ দখল করে বসে থাকবেন সেটা তো কোন নিয়মের পর্যায়ে পড়ে না। ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগে কি এমন মধু রয়েছে বার বার শীর্ষ পদ দখল করে রাখতে হবে। যার কারণ দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করেও তাদের তৃপ্তি মেটেনি।

জানা যায়, ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে ফতুল্লার ডিআইট মাঠে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়। ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ অতিথি জাতীয় শ্রমিকলীগের তৎকালীন সভাপতি আব্দুল মতিন মাস্টার, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তৎকালীণ ত্রাণ ও সমাজ কল্যান সম্পাদিকা অধ্যাপিকা নাজমা রহমানসহ নেতৃবৃন্দ।

ওই সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থনে এম. সাইফ উল্লাহ বাদল সভাপতি ও শওকত আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর সেই কমিটি দিয়েই বছরের পর বছর অতিবাহিত হয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর অতিবাহিত হয়ে গেল। কিন্তু ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের কমিটির আর নবায়ন হচ্ছে না। আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র মতে দুই বছর অন্তর সম্মেলন হওয়ার নিয়ম থাকলেও গত ১৫ বছর ধরে সম্মেলন হয়নি। ফলে ফতুল্লা আওয়ামীলীগে নতুন নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে না। সাইফ উল্লাহ বাদল ও শওকত ছাড়া ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আর কোন নেতা সক্রিয় নেই বললেই চলে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও