হকার ইস্যুর সংঘর্ষের সূত্রপাত ও নিয়াজুলকে হত্যার চেষ্টা (ভিডিও)

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:৪৯ পিএম, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ শনিবার

হকার ইস্যুর সংঘর্ষের সূত্রপাত ও নিয়াজুলকে হত্যার চেষ্টা (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী বিকালে ফুটপাতে হকার বসানো কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার ২২মাস পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মামলা দায়েরের ঘটনা এখন টক অব দ্যা টাউন।

সিটি কর্পোরেশনের দায়েরকৃত এই মামলার প্রধান আসামী করা হয়েছে নিয়াজুল ইসলামকে যার ভাই যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম সুইট বিএনপি জামায়াত জোট আমলে নজিরবিহীন ভাবে ফতুল্লা থানায় রিমান্ডে থাকা অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্যমতে ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছিলেন।

নিয়াজুলের পরিবারের অভিযোগ ছিল, নিহত নজরুল ইসলাম সুইট বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নারায়ণগঞ্জে আসলে তাকে কালো পতাকা দেখিয়েছিলেন বলেই তাকে রিমান্ডে থাকাবস্থায় হত্যা করা হয়েছিল। নিয়াজুল ইসলাম নিজেও ১৯৯৫ সালে বিএনপির সন্ত্রাসীদের আক্রমনে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পরেছিলেন। মামলায় অপর ৮ এজাহার নামীয় আসামীরাও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা, যাদের বিরুদ্ধে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে ডজনের উপর মামলা দেয়া হয়েছিল।

তাই মামলাটি নিয়ে সরকারীদল আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতা কর্মীরা ফুসঁছেন চরম ক্ষোভ নিয়ে।  তবে সেই হকার সংঘর্ষের ঘটনার সূত্রপাতও হয়েছিল নিয়াজুল ইসলামকে নিয়েই। সেদিনের ঘটনার পরপরই বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও দেখে প্রকৃত ঘটনার সূত্রপাত নিয়েও তাই চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষন।

নিউজ নারায়ণগঞ্জের কাছে থাকা সেই ভিডিওতে দেখা গেছে, মামলায় মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগ তোলা হলেও ঘটনার আগেই নিয়াজুলকে কয়েক দফা হত্যার চেষ্টা করা হয়।

ভিডিও ফুটেজের সেই তথ্য মতে, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে আইভী লোকজন নিয়ে শহরের চাষাঢ়ায় বঙ্গবন্ধু সড়কে জীবন বীমা ভবনের সামনে আসে। এসময় আইভী বঙ্গবন্ধু সড়কের আইল্যান্ড পার হয়ে বিপরীতে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের দিকে যেতে চাইলেও সঙ্গে থাকা লোকজন আইভীকে প্রেস ক্লাবে না গিয়ে চাষাঢ়ার দিকে যেতে উৎসাহ প্রদান করে। ঠিক ঐ সময় নিয়াজুল বঙ্গবন্ধু সড়কে প্রেস ক্লাবের উল্টো দিকের রাস্তার ফুটপাত দিয়ে একাই হেটে চাষাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন।

ওইসময় মেয়র আইভীর সাথে থাকা চিহ্নিত বিএনপি ও শিবিরের লোকজন নিয়াজুলকে দেখেই তাকে আটকে ফেলেন। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির।

আইভীর সঙ্গে থাকা বিএনপি ও জামায়াতের পদধারী যাদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা রয়েছে তারা সহ আরো অতি উৎসাহী লোকজন নিয়াজুলকে টার্গেট করেই ধাক্কা দিতে দিতে সামনের দিকে ঠেলে দিতে থাকে।

সায়াম প্লাজার সামনে ধাক্কাতে ধাক্কাতে ফেলে দেয়া হয় নিয়াজুলকে। তখন ৩০ থেকে ৪০ জন নিয়াজুল বেধড়ক পেটাতে থাকে। তার বুকের উপর ও গলায় চাপ দিয়ে ধরে একের পর এক মারধরের শিকার হন নিয়াজুল। তখন নিয়াজুল সঙ্গে থাকা লাইসেন্সকৃত পিস্তল বের করে উপর দিকে উচুঁ করে রাখে। এময় সে কোন দিকে পিস্তল তাক বা গুলি করার চেষ্টা করেনি।

ভিডিও ফুটেজে আরো দেখা গেছে, এক পর্যায়ে সে কোনমতে সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে চাষাঢ়ার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে আবারও লোকজন গিয়ে নিয়াজুলকে দ্বিতীয় দফায় ফুটপাতে ফেলে মারধর করতে থাকে। তখন নিয়াজুল ফুটপাত থেকে রাস্তায় পড়ে গেলে মারধরের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। আশেপাশের লোকজন কোনমতে নিয়াজুলকে উদ্ধার করলে সে দ্রুত চাষাঢ়ার দিকে যেতে থাকলে তৃতীয় দফায় পেছন থেকে লাথি মারতে দেখা যায় কয়েকজনকে।

এ অবস্থায় ৪ থেকে ৫জন যুবক গিয়ে আবারও মারধর করে নিয়াজুলের পিস্তল ছিনিয়ে নেন। নিয়াজুলকে রাস্তায় বেধড়ক পিটুনীর খবর পেয়ে নিয়াজুলকে উদ্ধার করতে এসে মারধরের শিকার হন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন। এ খবরে অন্যরা এগিয়ে আসলে বেধে যায় সংঘর্ষ।

ঘটনার পরদিন ১৭জানুয়ারী নিয়াজুল ইসলামের তার ছোট ভাই রিপন খানের মাধ্যমে সদর মডেল থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অস্ত্র লুটের ঘটনায় অভিযোগ দেন। পুলিশ সেটাকে মামলা হিসেবে গ্রহন না করে জিডি হিসেবে গ্রহণ করেছিল। পরে হত ২৫ জানুয়ারী রাতে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে সাধু পৌলের গির্জার সামনে একটি ফুলের টব থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। তবে কে বা কারা অস্ত্রটি সেখানে ফেলে গেছে সেব্যাপারে পুলিশ এখনও মুখ খোলেনি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও