প্রিয়া সাহার ভূমিকায় নেমেছেন আইভী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২২ পিএম, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ শনিবার

প্রিয়া সাহার ভূমিকায় নেমেছেন আইভী

প্রিয়া সাহাকে যেমন আমেরিকায় পাঠিয়ে ষড়যন্ত্র করানো হয়েছিল,ঠিক তেমনি দেশে আইনের শাসন নেই, এমন মিথ্যাচারকে বিদেশীদের কাছে প্রতিষ্ঠা করার প্রেক্ষাপট তৈরী করতেই মেয়র আইভীকে দিয়ে হকার ইস্যু নিয়ে মামলা করানো হয়েছে বলে দাবী করেছেন আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান।

তিনি বলেছেন, আমরা শুনেছি এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ১/১১ সৃষ্টিকারী ২টি পত্রিকা এনজিও এর সাথে জড়িত ২জন মহিলা। ইতোমধ্যেই আইভীর দায়ের করা হাইকোর্টের রীটের কাগজ পত্র বিভিন্ন এম্বাসী ও বিদেশী প্রভুদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং হচ্ছে। কারণ তারা প্রমাণ করতে চাচ্ছে, শুধু বিএনপিই নয়, খোদ আওয়ামীলীগের নেত্রী ও সরকারী দলের মেয়র হয়েই আইভী ন্যায় বিচার পাচ্ছে না বিধায় তাকে হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়তে হয়েছে, হাইকোর্টের মাধ্যমে মামলা গ্রহণের নির্দেশনা আনতে হয়েছে।

৭ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে (নম পার্ক) এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

২০১৮সালের ১৬জানুয়ারী হকারদের সাথে মেয়র আইভীর সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন,  একজন মেয়র হয়ে থানা ও আদালতে মেয়র আইভীর মামলা নেয়া হয়নি কারণ হকার ইস্যুতে সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিও দেখে প্রশাসনসহ সকলের কাছে প্রমান হয়েছিল প্রকৃত ঘটনাটি কি ছিল। পুলিশ তাকে সেফ করতে চেয়েছিল বলেই মামলা হয়নি।

কিন্তু ২২মাস পরে মামলার নেপথ্যে একটি গভীর কারণ রয়েছে। একজন প্রিয়া সাহাকে যেমন আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠিয়ে ষড়যন্ত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত একজনকে বিদেশে পাঠিয়ে প্রিয়া সাহার মত ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন যখন খালেদা জিয়ার কারাবন্দীর কারণে বিএনপি দেশে আইনের শাসন নাই বলে গলা ফাটিয়ে ফেলছে তখন আইভীকে দিয়ে ২২মাস পর এই মামলা করাতে হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে সেই মিথ্যাচারটিকে প্রতিষ্ঠিত করতেই। আইভী এখন প্রিয়া সাহার ভুমিকা পালন করছে। আর আইভীর রীটে বিবাদী করা হয়েছে রাষ্ট্রকে।

আমরা বিস্মিত যে, আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে যিনি মেয়র হয়েছেন, যিনি জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি, যার নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা দিনরাত এক করে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। সেই আওয়ামীলীগের নেতাদের আসামী করা হয়েছে।

শামীম ওসমান তার বক্তব্যে সম্প্রতি জেলা জামায়াতের আমীরের ফাঁস হওয়া একটা অডিও রেকর্ডের কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, জামায়াতের সাথে এবং বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মেয়র আইভীর আতাঁত রয়েছে এমন বক্তব্য এখন সত্য বলে প্রমানিত হচ্ছে। একটি দলিল দেখিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ১৯৭৫ এর ১৫আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর নারায়ণগঞ্জে যখন আওয়ামীলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী জেলাখানায়, বাড়ীঘরে থাকতে পারেনি, তখন মেয়র আইভীর পিতা মরহুম আলী আহাম্মদ চুনকা সাহেব রাজাকারদের নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ও আলবদর প্রধান মাওলানা আলী আহসান মুজাহিদকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে মিটিং করতেন। বঙ্গবন্ধুর রক্তের দাগ না শুকাতেই আইভীর প্রয়াত পিতা আলী আহাম্মদ চুনকা ১৯৭৬ সালের আদমজী জুট মিলের অফিসারদের একটি জমি অবৈধভাবে দখল করে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মুজাহিদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, আওয়ামীলীগের মেয়র হয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আর দলীয় ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে ২২মাস পর মামলা করার নেপথ্যে কোন গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আব্দুল হাই বলেন, হকারদের সাথে সংঘর্ষেও ঘটনায় মামলা হলো অথচ মামলায় কোন হকারদেররই আসামী করা হয়নি। এটাই প্রমান করে এই মামলা উদ্দেশ্য প্রনোদিত।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল বলেন, নারায়ণগঞ্জ জামাতের আমীর পুলিশের কাছে স্বিকার করেছিলেন, যুদ্ধাপরাধী মুজাহিদ যখন জেলে থাকা অবস্থায় তখন মুজাহিদের স্ত্রীর অনুরোধেই আইভী রাজাকার মুজাহিদের স্ত্রী ও সন্তানদের জন্মনিবন্ধন করে দিয়েছিল। আইভী বিএনপিতে যোগ দিতে গিয়েছিল কিন্তু জামাত চায়নি আইভী বিএনপিতে যোগ দিক।

মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা বলেন, আইভী যে মামলাটি করেছে সেটির তদন্ত করা উচিত। কেউ দোষী হলে শাস্তি হোক। কিন্তু আমরা পরিস্কার ভাবে বলতে চাই ভিডিও ফুটেজ দেখা হোক, নিয়াজুলের মামলাটিও গ্রহন করা হোক। মামলা গ্রহন করে কারা নিয়াজুলকে হত্যার জন্য হামলা করলো, কারা নিয়াজুলকে অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে তার লাইসন্স করা অস্ত্রটি ছিনতাই করলো, সেই অস্ত্র ৩দিন পর কিভাবে ফুলের টবে পাওয়া গেলে, এসবই প্রশাসন নিশ্চয়ই জানে। ঐ হামলা আইভীর নেতৃত্বেই হয়েছিল সেটা ভিডিও ফুটেজে প্রমানিত। আমরা মনে করি আইন সবার জন্য সমান।

সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু , যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল পারভেজ, স্বাচিপের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. বীরু, মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম , সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম,  বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশীদ, সাধারন সম্পাদক কাজিম উদ্দীন, সিদ্ধিরগঞ্জ খানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, সাধারন সম্পাদক হাজী ইয়াসিন প্রমুখ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও