আনোয়ারকে কটূক্তি দুলালের, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা ব্যাকফুটে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:২৭ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

আনোয়ারকে কটূক্তি দুলালের, মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা ব্যাকফুটে

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনে বিরুদ্ধে তীর্যক মন্তব্য করে পার পেয়ে গেছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সেক্রেটারী সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান। যদিও মন্তব্যের প্রতিবাদে মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভা ডেকে এই নেতার বাহিষ্কারের দাবি করেই ক্ষ্যান্ত রয়েছে।

অন্যদিকে দুলাল প্রধান বিপাকে পড়ে সেই তীর্যক মন্তব্যের কথা অস্বীকার করলে মন্তব্যের রেকর্ড ফাঁস হয়ে যায়। রেকর্ড ফাঁসের ঘটনায় প্রমাণ থাকলেও অদৃশ্য কারণে মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা এখন পর্যন্ত চুপ রয়েছেন। দলের সভাপতিকে নিয়ে কটূক্তির ফলে পুরো সংগঠনের সম্মান ক্ষুন্ন হলেও কারো কোন মাথা ব্যথা নেই।

এতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতিকে নিয়ে কটূক্তি করে অনায়াসে পার পেয়ে যাচ্ছে দুলাল প্রধান। যার ফলে মহানগর আওয়ামীলীগের অথর্ব নেতাকর্মীদের চরিত্র সবার কাছে পরিষ্কার হয়েছে। এরুপ অথর্ব নেতারা নিজ দলীয় শীর্ষ নেতার কটুক্তিতে নিশ্চুপ থাকতে পারলে দলের অন্যান্যদের ব্যাপারে কখনোই কর্ণপাত করবেনা তা প্রতিয়মান হচ্ছে।

জানাগেছে, গত ১৮ নভেম্বর আনোয়ার হোসেনকে কটুক্তি করে দুলাল প্রধান বলেন, ‘আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীদের কোন প্রকার মতামত না নিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন নিজের মনগড়া মত সদস্য ফরম বিতরণ করছেন। জাতির জনক শেখ মজিবুর রহমানের আদর্শের সংগঠন আওয়ামীলীগ। এটা কারো পৈত্রিক সম্পত্তি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ‘অসুস্থতার অভিনয়’ করে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েছে বিনাভোটে। ভোট যুদ্ধে বিজয়ী হলে তিনি বুঝতে পারতেন আওয়ামী লীগ একটি বৃহত্তম সংগঠন পৈত্রিক না। দেশে সদস্য সংগ্রহ চলছে। আনোয়ার হোসেন দলের গঠনতন্ত্র না মেনে ফরম দিচ্ছে নিজের মত করে। মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি হয়ে তিনি যেগুলো করছে তা আর মানা হবে না। নিয়মের মধ্য থেকে সকল কিছু করতে হবে।’

পরবর্তী দিন ১৯ নভেম্বর বিকেলে শহরের ২ নং রেলগেট সংলগ্ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জরুরী সভায় মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা দুলাল প্রধানকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যায়িত করে বহিস্কার দাবী করেন।

এর প্রেক্ষিতে ২০ নভেম্বর বন্দরে সংবাদ সম্মেলন করে দুলাল প্রধান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সম্পর্কে আমার যে বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে তা আমি দেইনি। তবে একজন জনৈক সাংবাদিক আমাকে ফোনে জিজ্ঞাসা করেছিল, আপনি কি সদস্য ফরম পাননি ? এর জবাবে আমি বলেছি, হে আমি পাইনি। উনি জিজ্ঞাসা করেছেন, আসলে পান নাই কেন ? এর জবাবে আমি বলেছি, এখানে মহানগরের নেতা আছে লোকমান ভাই, উনার সাথে আমার ওয়ার্ডের নেতাকর্মীকে নিয়ে জামান ভাই প্রশ্ন করা হয়েছিল, আমাদের কয়েকজনকে সদস্য ফরম কেন দিবেন না। উনি বলছিল যে, আনোয়ার সাহেব না করছে দিতে। জাস্ট এতটুকুই আমি বলছিলাম।’’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মহানগরের আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার ভাই অবশ্যই সম্মানিত ব্যক্তি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ। একেএম শামীম ওসমানের রাজনীতিক গুরু। আমি আনোয়ার ভাই সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করবো কোন প্রশ্নই আসেনা। বিগত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে আমরা যখন আনোয়ার ভাইয়ের জন্য কেন্দ্রে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম তখন ৯টি ওয়ার্ডে যে কমিটি হয়েছিল সে কমিটির সভাপতি ছিল জামান ভাই এবং আমি ছিলাম সাধারণ সম্পাদক। ওই প্রস্তাবে আমি নিজেও সিগনেচার (স্বাক্ষর) করছি। কারণ তিনি একজন আদর্শবান রাজনীতিবিদ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করে।’

এদিকে নিউজ নারায়ণগঞ্জের জনৈক প্রতিবেদকের কাছে দেওয়া বক্তব্যে আনোয়ার হোসেনের কটূক্তির রেকর্ড ফাঁস হয়ে যায়। সেই অডিও রেকর্ডে আনোয়ান হোসেনকে নিয়ে করা কটূক্তির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে দুলাল প্রধানের সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যাচারের বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হয়। এই অবস্থায় সভাপতি আনোয়ারকে নিয়ে করা কটুক্তির প্রমাণ সবার হাতের মুঠোয় থাকলেও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা নিশ্চুপ রয়েছে। এদিকে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ওমরা হজ সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসলেও নেতাকর্মীরা জ্বলে উঠতে পারেনি। উল্টো তাদের নিরব ভূমিকা নিয়ে চারদিকে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।

সূত্র বলছে, সংগঠনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল অপশক্তিকে মোকাবিলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা যে কতটুকু ঐক্যবদ্ধ তা সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে কটুক্তির ঘটনায় বোঝা গেছে। কারণ এই ঘটনায় সবার কাছে প্রমাণ থাকলেও কেউ প্রতিবাদ করছেনা। রহস্যজনক কারণে এ ব্যাপারে সবাই নিরব ভূমিকা পালন করছে।

একটি নির্দিষ্ট সূত্র বলছে, আওয়ামীলীগের আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে মহানগর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা এ ইস্যুতে চুপ রয়েছে। পদ পদবী পাওয়ার লোভে প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও দুলালের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলছেনা। কারণ দুলাল আওয়ামীলীগের পদধারী নেতা হওয়ায় তাকে নিয়ে সমালোচনা করলে পদ বঞ্চিত হতে পারে। এই আশঙ্কায় নেতাকর্মীরা একেবারে নিরব ভূমিকা পালন করছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও