সোনারগাঁও আওয়ামী লীগের কোন্দলের নেপথ্যে চারজন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪২ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

সোনারগাঁও আওয়ামী লীগের কোন্দলের নেপথ্যে চারজন

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অধীনে থাকা সোনারগাঁ আওয়ামী লীগে বিভিন্ন সময় কোন্দলের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই কোন্দল সবসময় স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে গত কয়েক মাস ধরে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের কোন্দল ব্যাপক আকার ধারণ করে। যে কোন্দল মেটাতে জেলা আওয়ামী লীগকেও ব্যর্থ হতে হয়েছে।

যার সূত্র ধরে সোনারগাঁ আওয়ামী কোন্দল মেটাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। আর এই কোন্দলের নৈপথ্যে কারিগর হিসেবে রয়েছেন চার আওয়ামী লীগ নেতা। এই চার নেতা দুইগ্রুপে বিভক্ত হয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের কোন্দলের ব্যাপকতা বাড়িয়েছেন।

এদের মধ্যে এক গ্রুপে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু ও সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান।

অন্যগ্রুপে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত ও সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের চলতি কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল রহমান কালাম।

স্থানীয় সূত্র মতে, এই চারজনের কারণেই মূলত সোনারগাঁ আওয়ামী লীগে কোন্দলের ব্যাপকতা বেড়েছে।

সূত্র বলছে, ১৯৯৭ সালে সাবেক এমপি কায়সার হাসনাতের বাবা আবুল হাসনাতকে সভাপতি ও আব্দুল হাই ভূইয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যে বিশিষ্ট সোনারগাঁ থানা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরপর ২০০১ সালে বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য সভাপতি আবুল হাসনাত ও সিনিয়র সভাপতি মোশাররফ হোসেনকে নিজ নিজ পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। তাদেরকে সরিয়ে অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়াকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর দীর্ঘ ১৮ বছর অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত তিনি আর ভারমুক্ত হতে পারেননি। একই সাথে ২০১৪ সালে সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই ভূইয়া মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহফুজুর রহমান কালামকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনিও ভারপ্রাপ্ত হিসেবেই দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

এরই মধ্যে হঠাৎ করে স্থানীয় পর্যায়ে কোন আলাপ আলোচনা কিংবা কোন মিটিং না করেই গত ১৫ জুলাই সোনারাগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের চলমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহবায়ক কমিটির ঘোষণা দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল।

একই সাথে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামকে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। আহবায়ক কমিটিতে সামসুল ইসলাম ভূইয়া আহবায়ক এবং সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, আর এই কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে পর্দার আড়ালে থেকে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু ও সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান। সোনারগাঁ আওয়ামী লীগে তাদের প্রভাব বিস্তারের জন্যই সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের একপেশে কমিটি নিয়ে এসেছেন।

তারা একটি পক্ষকে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ থেকে দূরে রাখার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শদীদ বাদলকে ম্যানেজ করে কাউকে না জানিয়েই নতুন কমিটির ঘোষণা করান। যা সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ এই বিষয়টিকে মেনে নিতে পারেন নি। আর এই গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত ও সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের চলতি কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল রহমান কালাম। তারা বিভিন্ন সভা সমাবেশের মাধ্যমে আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঘোষণা দিতে থাকেন।

জানা যায়, সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত ও মাহফুজুর রহমান কালাম আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে একের পর এক সভা সমাবেশ করে আসছিলেন। সেই সাথে তাদের অনুসারী নেতাকর্মীদেরকে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের ঘোষিত আহবাকয়ক কমিটির নেতাদের যেখানে পাবেন সেখানে সেখানেই প্রতিহত করার কথা বলেন।

ধারাবাহিকতায় গত ১৩ সেপ্টেম্বর জামপুর ইউনিয়নের ওটমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা উপলক্ষে বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভার আয়োজন করেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ডাঃ আবু জাফর চৌধুরী বিরু। যেখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। সেই কথা অনুযায়ী তারা উপস্থিতও হয়েছিলেন সম্মেলনস্থলে। কিন্তু আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত ও মাহফুজুর রহমান কালামের পক্ষের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়ে তাদেরকে বিনা সফলতায় ফিরে আসতে হয়। ফলশ্রুতিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই।

পরবর্তীতে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের বিরোধের বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসে। যার সূত্র ধরে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের কোন্দল নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়। আর কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় বর্তমানে শান্ত রয়েছেন কোন্দলের নৈপথ্যে কারিগর হিসেবে থাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত ও সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের চলতি কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল রহমান কালাম।

প্রসঙ্গত, সোনাগরগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পর পরই জেলা আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং কেন্দ্রীয় আওয়ীমী লীগে অভিযোগও করেছিলেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও