বন্ধন পরিবহনের আইউব আলীর গদির নেতৃত্বে এবার ভাগ্নে জুয়েল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৬ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ রবিবার

বন্ধন পরিবহনের আইউব আলীর গদির নেতৃত্বে এবার ভাগ্নে জুয়েল

নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম আলোচিত পরিবহন হলো বন্ধন পরিবহন। প্রায় সময়ই নানা ঘটনায় এই পরিবহন আলোচনা সমালোচনার শীর্ষে চলে আসে। এখানে রয়েছে বিপুল পরিমাণ আয়ের উৎস। ফলে প্রায় সমবসময়ই এই পরিবহনের বাসে প্রভাবশালীদের নজর থাকে। রাজনৈতিক দলগুলোরর ক্ষমতার হাত বদলের সাথে সাথে বন্ধন পরিবহনের নেতৃত্বেরও হাত বদল হয়। সেই সাথে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকাবস্থায়ও সেই দলের নেতারা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগির স্বার্থে নেতৃত্বের পরিবর্তন আসে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার বন্ধন পরিবহনে আসছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ জুয়েল হোসেন। আর তার আগে ছিলেন বন্ধন পরিবহনের নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলী যার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন অন্ত ছিল না।

জানা যায়, এই বন্ধন পরিবহনে রয়েছে ৫০টি বাস যার মালিক ৪২জন। ২০০৫ সালে শুরু হয় বন্ধন নাম দিয়ে ২০১৩ সালে অক্টোবর পর্যন্ত এর নিয়ন্ত্রণ কর্তা ছিলেন কয়েকজন। অবৈধ নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজী এবং লুটপাটের অভিযোগ তুলে বিলুপ্ত করা হয় বন্ধন। নতুন নামে আসে নিউ বন্ধন রূপে। তার আগে ৯৬ সালে বিএনপির ক্ষমতার সময় এই বন্ধন ছিল ডেভিডের ভাই তপনের নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ জন হিসেবে এর নিয়ন্ত্রক হিসেবে আসেন আইউব আলী।

চেয়ারম্যান থাকাকালিন সময়ে আইয়ুব আলী মালিকদের জিম্মি করে রাখতেন। যে সব মালিক তাদের লুটপাটে অতিষ্ঠ হয়ে বাস নিয়ে বের হয়ে যেতে চায় তাদের কোন ভাবেই বের হতে দেয় না। যদি তারা বিক্রি করতে চায় তাহলে তা তারা নিজেরাই কম দামে কিনে নেয়। পরে তা বেশি দামে বিক্রি করে অন্যদের কাছে। এমনি করে মালিকদের জিম্মি করে রাখে। যারা একটু তাদের বাইরে কথা বলতে চায় তখনি তাদের উপর নেমে আসে অপমান-অপদস্থ। তার পরও কথা বলতে চাইলে তাদের হুমকী-ধমকী, ভয়-ভীতি দেখানো হয়। কোন কোন সময় মালিকদের গায়ে হাত তুলে এই চক্রটি। তাদের হাত থেকে বাঁচতে থানা-পুলিশের দ্বারস্থ হয় অসহায় এই মালিকরা।

বন্ধন পরিবহনে প্রকৃত অর্থে কতটাকা আয় হয়েছে বাস মালিকেরা জানে না। এ সরকার আসার পর বাস মালিকেরা কোনদিন হিসেবের খাতা পত্র দেখতে পায়নি। প্রতিদিন এই বন্ধন পরিবহনের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে অদৃশ্য কারো হাতে। এই অদৃশ্যকে খাতায় কলমে দেখানো হচ্ছে ম্যানেজমেন্ট এবং অন্যান্য ব্যায় হিসেবে। প্রতিদিন এই খাতে পরিবহন সংস্থাটি দিয়ে থাকে ৭১ হাজার টাকা। যা অনেক সময় আয়ের তারতম্যে বেড়ে যায়।

সেই আলোচিত সমালোচিত আইয়ুব আলীর পর এবার বন্ধন পরিবহণের নেতৃত্বে আসছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ জুয়েল হোসেন।

আর এই বন্ধন পরিবহনের নেতৃত্বে আসার মধ্য দিয়ে মোঃ জুয়েল হোসেন কি তার পরিচ্ছন্ন ইমেজ ধরে রাখতে পারবেন নাকি আইয়ুব আলী সহ পূর্ববর্তীতের মতো আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিবেন সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ সংশয় রয়েছে। তবে মো জুয়েল হোসেন তার পরিচ্ছন্ন ইমেজ ধরে রাখুক এটাই চায় তার শুভাকাংখীরা।

সূত্র বলছে, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগের শাসনামলে শামীম ওসমানের ভরসার পাত্র ছিলেন সারোয়ার, মাকসুদ, লাল, নিয়াজুল, মিঠুরা। এর মধ্যে তৎকালেই ওসমান পরিবারের পাশাপাশি সারোয়ার পরিবারও ছিল রাজনীতিতে সক্রিয়। সারোয়ার ছাড়াও তার ছোট ভাই জাকিরুল আলম হেলাল ওইসময়ে সরকারী তোলারাম কলেজের জিএস ছিলেন। তিনি ছাড়াও তার ছোট ভাই শাহাদাৎ হোসেন সাজনু এবং ভাগ্নে মোঃ জুয়েল হোসেনও ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

বিএনপি সরকারের আমলে রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে হেলাল প্রথম শামীম ওসমানের পক্ষে স্øোগান তুলে মিছিল করেন। তবে পরবর্তীতে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখার কারণে গোলাম সারোয়ারের দুই সহোদর জাকিরুল আলম হেলাল ও শাহাদাৎ হোসেন সাজনুকে যথাক্রমে মহানগর আওয়ামী লীগ, শহর যুবলীগ ও এবং ভাগ্নে মোঃ জুয়েল হোসেনকে স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটিতে পুনর্বহাল হন। তারা তিনজন মিলে গোলাম সারোয়ারের কর্মীদের ধরে রাখছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও