শামীম আইভী লড়াইয়ে জামায়াত বিএনপি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:৩৭ পিএম, ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

শামীম আইভী লড়াইয়ে জামায়াত বিএনপি

আওয়ামীলীগে নৌকার মাঝিরা সবাই কেন্দ্রীয় সম্মেলনের দিকে তাঁকিয়ে আছে। এদিকে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী দুই মেরুর দুই নেতার মধ্যে কেন্দ্রীয় পদ নিয়ে ভেতরগত অস্তিত্বের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও এমপি শামীম ওসমানের মধ্যে এখন কেন্দ্রীয় পদ পদবী নিয়ে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যেকারণে দুজনেই তাদের অবস্থান থেকে বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শেষ হাঁসি কে হাঁসবে তা এখন দেখার বিষয়। যদিও এ দিক থেকে এখন পর্যন্ত আলোচনায় রয়েছে মেয়র আইভী। তবে প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানও কোন অংশে কম নয়।

এখানে উল্লেখ্য উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত মেয়র আইভী উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিয়ে সব সময় বেশ আলোচনায় থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুডবুকে রয়েছে।

অন্যদিকে প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের দাবি, ইতোপূর্বে তাকে মন্ত্রীত্ব পদ দেয়া হলেও তিনি এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। কারণ তিনি নেতা নয় কর্মী হিসেবে আওয়ামীলীগের সেবা করে যেতে চান। 

২১ ডিসেম্বর দ্বিতীয় কার্যদিবসে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের পদ পদবীর ঘোষণা আসতে পারে। সেই লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী নেতারা বিভিন্ন দপ্তরে জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছে যা এখন পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ জেলায় আওয়ামীলীগের দুই মেরুর রাজনীতিক দ্বন্দ্বের ফলে উভয়ের মধ্যে রীতিমত দা কুড়াল সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। উভয় মেরু ল্যাং মারার মধ্য দিয়ে নিজ বলয়কে শক্তিশালী করতে পদ পদবি হাসিলের মিশনে সর্বদা প্রস্তুত থাকে। এবারও তার ব্যতয় ঘটেনি। দুই মেরু একে অপরের কেন্দ্রীয় পদ ঠেকাতে বিএনপি-জামাত ইস্যুতে অভিযোগ তুলে কড়া সমালোচনা করছেন।

জানা গেছে, টানা দুবার সহ মোট ৩ বারের এমপি শামীম ওসমান প্রভাবশালী এমপি ও নেতা হিসেবে সারা দেশব্যাপী বেশ আলোচিত হয়েছে। সব সময় দল ও দলের নেতাকর্মীদের দুঃখে সুখে তাদের পাশে থেকেছেন। যে কারণে তার বিশাল কর্মী বাহিনী গড়ে উঠেছে। এমনকি দেশ ত্যাগ করে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকলেও তার কর্মী বাহিনীর অটুট মজবুত বাধাতে এটুও দূরত্ব তৈরি হয়নি। উল্টো তার জনপ্রিয়তা বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন সময় মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ আসলেও তিনি তা গ্রহণ করেনি। যেকারণে তারও পদ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে গত ৭ ডিসেম্বর নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে (নম পার্ক) ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে হকার ইস্যুতে করা মামলা প্রসঙ্গে এমপি শামীম ওসমান জামাতে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আমির মইনুদ্দিনের ফাঁস হওয়া রেকর্ডের কথা উল্লেখ করে মেয়র আইভীর সাথে বিএনপি-জামাতের যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরে তীব্র সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে এর প্রেক্ষিতে আইভী অনুগামীরা এর তীব্র প্রতিবাদ করে উল্টো এমপি শামীম ওসমানের সাথে জামাতের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সমালোচনা করেন। জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আব্দুল কাদির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম এমপি শামীম ওসমানকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। এর মাত্র কয়েকদিন পর বিজয় দিবসের এক অনুষ্ঠানে রাজাকার ইস্যুতে মেয়র আইভী চেম্বার অব কমার্সের মত সরকারী প্রতিষ্ঠানে রাজাকারদের বংশধরদের পদে বসানো নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। এছাড়া তাদেরকে যারা পদে বসিয়েছেন তাদেরও বিচারের দাবি করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতারা কেন্দ্রীয় পদ পদবীর প্রকাশ্যে কিছু না করলেও ভেতরে ভেতরে অনেকে তদবির ও লবিং করছেন। সবার যার যার অবস্থান করে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় পদ পদবী প্রেসটিজ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও