সেই নৌকা ধানের শীষ লড়াইয়ের তিন বছর

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৮ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ শনিবার

সেই নৌকা ধানের শীষ লড়াইয়ের তিন বছর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি ২২ ডিসেম্বর। তিন বছর পেরিয়ে গেছে বহুল আলোচিত ভোটের।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৬৩ হতে ৬৫ ভাগ ভোট পড়ে। ২৭ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬২জন ও মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৯জন। নির্বাচনের ৬৫ ভাগের বেশী ভোট গ্রহণ করা হয়।

সেই ভোটে সেলিনা হায়াৎ আইভী (বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) প্রতীক : নৌকা পান ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোট। সাখাওয়াত হোসেন খান (জাতীয়তবাদী দল বিএনপি) প্রতীক : ধানের শীষ পান ৯৬ হাজার ০৪৪ ভোট।

ওই নির্বাচনে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয়েছিল নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যে। তার মধ্যে নৌকার প্রার্থী ছিলেন আগের দুইবারের জনপ্রতিনিধি সেলিনা হায়াৎ আইভী। আর ধানের শীষ তুলে দেওয়া হয় নারায়ণগঞ্জে বসবাস করা ওই সময়ে অপরিপক্ক সাখাওয়াত হোসেন খানকে। ফলে ফলাফল যা হওয়ার সেটাই হয়। বিএনপিকে কোন ধরনের সুযোগ না দিয়ে নৌকা জয়ের সাগরে ভাসিয়ে দেন আইভী।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, গত তিন বছরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আইভীর কদর বেড়েছে। বার বার প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থাকা আইভীকে এ অবস্থায় আসতে বেশ ধকল পোহাতে হয়েছে। ২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারীর পৌর নির্বাচনের মাত্র ১৭দিন আগে নিউজিল্যান্ড থেকে দেশে এসেই বাবা আলী আহাম্মদ চুনকার মেয়ের বদৌলতে ওই সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় থাকা সময়ে বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন।

পরবর্তীতে ২০১১ সালে আবারো মেয়র হন তিনি। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইভীর হাতে প্রধানমন্ত্রী নৌকা তুলে দেন। আইভীও নৌকা ভাসিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা জানান, বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ও আদালতপাড়ার রাজনীতি করলেও মাঠ পর্যায়ে তেমনভাবে সক্রিয় ছিলেন না সাখাওয়াত যে কারণে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব অনেক বেশী ছিল। তাছাড়া তিনি ২০০৯ সালের অক্টোবরে নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির বিদ্রোহী কমিটির সেক্রেটারী ছিলেন। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর জেলা বিএনপির সম্মেলন স্থগিত করতে আদালতে রিট থেকে শুরু করে পাল্টা প্রতিরোধেরও ঘোষণার নেতৃত্বে ছিলেন সাখাওয়াত। এসব নিয়ে দলের কর্মীদের মধ্যে শুরু থেকেই ক্ষোভ ছিল। সাখাওয়াত হোসেন খান গত নির্বাচনে ছিলেন একেবারেই নবীন। স্থানীয় তৃণমূলকে অগ্রাহ্য করে তাঁকে ধানের শীষ তুলে দেন খালেদা জিয়া। তবে ভোটের প্রচারণার পর বিষয়টি হারে হারে টের পান কেন্দ্র। কারণ তখন সাখাওয়াত কোন নেতাকর্মীর সঙ্গে সমন্বয় না করে একা একা গণসংযোগ করে নির্বাচনে অপরিপক্ক কাজ করেন। কর্মীরা তাঁর উপর বিরক্ত হয়ে যান। মূল্যায়িত হয়নি কোন নেতাকর্মী। কিন্তু ততক্ষণে কিছু করার না থাকায় এ ঘোড়াকে নিয়েই দৌড়ায় বিএনপি। শেষ পর্যন্ত সাখাওয়াতের ভরাডুবি ঘটে বিপুল ভোটে। যদিও ওই নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল সাখাওয়াত। সন্ত্রাসী ও দুর্ধর্ষ খুনীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা, নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ না রেখে ‘কেরাবুন আর কাতিবুন’ খ্যাত দুই থেকে ৪জনকে সঙ্গে নিয়ে কথিত গণসংযোগের নামে মিডিয়ার সামনে বক্তব্য দেওয়া, আওয়ামী লীগের নেতাদের কথামত আইভীর বিরুদ্ধচারণ সহ নানা অভিযোগে বিঁধেন তিনি। তবে নির্বাচনে ভোটে হেরেও তিনি পেয়েছেন রাজপাট। পরিচিতি হয়েছেন সর্বত্র। হয়েছেন মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি। আর এখন নিজেই আলাদা বলয় তৈরি করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনই বদলে দিয়েছে সাখাওয়াতের রাজনৈতিক অবস্থা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও