কারাবন্দী নেতাদের মুক্তিতে কর্মসূচী নিন্দা নেই বিএনপির

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১০ পিএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ শনিবার

কারাবন্দী নেতাদের মুক্তিতে কর্মসূচী নিন্দা নেই বিএনপির

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির দুই সাধারণ সম্পাদক একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকলেও এতে কোন নিন্দা কিংবা প্রতিবাদ জানায়নি জেলা কিংবা মহানগর বিএনপির নেতারা। একই সাথে জেলা বিএনপির একজন সহ সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ৮ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলেও তাদের মুক্তির দাবিতেও কোন কর্মসূচী কিংবা বিবৃতি দেয়নি বিএনপি।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ও মহানগর বিএনপির দুজন সাধারন সম্পাদক গ্রেফতার হলেও জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান একই মামলায় আসামি হয়ে জামিনে আছেন তবুও তিনি নেতাদের মুক্তির দাবিতে কোন নিন্দা বিবৃতি কিংবা কর্মসূচী দেননি। একই সাথে মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম মামলার আসামী না হয়েও দলের সাধারণ সম্পাদকের মুক্তির দাবিতে কোন বিবৃতি কিংবা নিন্দা দেয়নি।

জেলা কিংবা মহানগর বিএনপি ও দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের মুক্তির দাবিতে নিন্দা বিবৃতি না জানালেও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ও মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ তাদের মুক্তির দাবির পাশাপাশি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

১৬ ডিসেম্বর ছিল মহান বিজয় দিবস। এদিন অন্যান্য সকল সংগঠনের মত বিএনপির নেতাকর্মীরাও এসেছিলেন নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা জানাতে। তবে এই শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তারা প্রতিটি বিজয় র‌্যালি থেকেই তাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি তুলে স্লোগান দিয়েছেন ও সাথে নিয়েছেন মুক্তির ব্যানার। এতেই বাদ সাধে পুলিশ আর প্রতিটি বিজয় র‌্যালিতে বাধা দিয়ে সেখান থেকে ব্যানার কাড়েন পুলিশ সদস্যরা। বিএনপির প্রতিটি র‌্যালিই ছিল হাজারো নেতাকর্মীর। আর তাই এত বড় মিছিলগুলো কয়েকজন পুলিশ বাধা দিয়ে আটকে দিচ্ছিল এটি যেন অনেক নেতাকর্মীই মানতে পারছিলেন না। এর মধ্যেই মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক জিয়ার একটি মিছিল ২ নং রেলগেটে আসলে তাদের আটকে দেন সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদীন, আর তাতে তার সাথে কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন নেতাকর্মীরা। পরে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ এনে নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেন। এরপর শহরের বিভিন্ন স্থানেই বিএনপির প্রতিটি মিছিলেই পুলিশের সাথে বাদানুবাদ হয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের। আর এতে রাতে মামলা ঠুকে দেয় পুলিশ। মামলায় অভিযোগ আনা হয় অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা, সড়কে প্রতিবন্ধকতা, পুলিশের উপর হামলা ও তাদের অস্ত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টার।

এদিকে মামলার পর ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির ৪ কর্মী ও পরে রাতে অভিযান চালিয়ে আরো তিনজন সহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের উপর হামলা সহ নাশকতা মামলায় গ্রেফতারকৃত জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মামুন মাহমুদ ও মহানগর কমিটির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামাল সহ ৭ জনকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত।

১৭ ডিসেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই ৬ জনকে ৭ দিনের রিমান্ডে চেয়ে পাঠানো হয়। পরে আদালত ১৯ ডিসেম্বর তাদেরকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার একই মামলায় মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এর আগে  বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২ থেকে ৩ শ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। সোমবার ১৬ ডিসেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) ছাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও