ঝুলে রইলো সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০১ পিএম, ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ রবিবার

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্র্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্মেলন। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের প্রায় সবকটি উপজেলাতেই আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। শুধুমাত্র একটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের বাকী রয়েছে। আর সেটি হচ্ছে সোনারগাঁ উপজেলা। যে উপজেলায় নতুন কমিটি দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছিল তাদেরকে।

জানা যায়, নেতাকর্মীদের বহু আলোচনা সমালোচনার মুখে থানা পর্যায়ে নতুন কমিটি করার উদ্যোগ নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। সেই লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই ২ নং রেলগেইট আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। আর ওই বর্ধিত সভায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। ঘোলিত তারিখ অনুযায়ী গত ১৬ জুলাই সম্মেলনের মাধ্যমে রুপগঞ্জ থানা কমিটিতে সভাপতি পদে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও সাধারণ সম্পাদক পদে শাহজাহান ভূঁইয়া রয়েছেন। যিনি এর আগেও থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। আর গোলাম দস্তগীর গাজী টানা তিনবারের এমপি এবং সর্বশেষ মন্ত্রীও হয়েছেন।

এরপর গত ২২ জুলাই আড়াইহাজার থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সভাপতি হিসেবে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু নির্বাচিত হয়েছেন। রূপগঞ্জে সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হলেও আড়াইহাজার সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়নি।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটির সম্মেলন আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

যার ধারাবাহিকতায় গত ২৬ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এই সম্মেলনে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতি হয়েছেন এম এ রশিদ। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজিম উদ্দিন প্রধান। গত ৫ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত অনুষিষ্ঠত হয়েছে। আর এই সম্মেলনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছেন নাজির মাদবর এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আল মামুন। সবশেষ গত ৭ ডিসেম্বর নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কে (নম পার্ক) অনুষ্ঠিত হয়েছে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। আর এই সম্মেলন ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছেন এম সাইফউল্লাহ বাদল ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন শওকত আলী।

এভাবে একের পর এক করে প্রায় সবকটি উপজেলাতেই আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকী রয়েছে শুধুমাত্র সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। যার সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নজর হচ্ছে সোনারগাঁ উপজেলায়। যদিও এখানে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ ছাড়া সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

এর আগে হঠাৎ করে স্থানীয় পর্যায়ে কোন আলাপ আলোচনা কিংবা কোন মিটিং না করেই গত ১৫ জুলাই সোনারাগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের চলমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহবায়ক কমিটির ঘোষণা দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল। একই সাথে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামকে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। আহবায়ক কমিটিতে সামসুল ইসলাম ভূইয়া আহবায়ক এবং সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়।

এই আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পর পরই জেলা আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং কেন্দ্রীয় আওয়ীমী লীগে অভিযোগও করেন। সেই সাথে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারাও বিদ্রোহ করে আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে মাঠে নামেন।

যার সূত্র ধরে, সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে একের পর এক সভা সমাবেশ করে আসছিলেন আহবায়ক কমিটির বিরুদ্ধে থাকা নেতারা। সবশেষ গত ১৩ সেপ্টেম্বর জামপুর ইউনিয়নের ওটমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা উপলক্ষে বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভার আয়োজন করেন সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ডাঃ আবু জাফর চৌধুরী বিরু। যেখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। সেই কথা অনুযায়ী তারা উপস্থিতও হয়েছিলেন সম্মেলনস্থলে। কিন্তু বিদ্রোহী পক্ষের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়ে তাদেরকে বিনা সফলতায় ফিরে আসতে হয়। ফলশ্রুতিতে বিদ্রোহী কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই।

ফলশ্রুতিতে এই সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের কোন্দল নিরসনের জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়। আর তার হস্তক্ষেপেই হয়তো সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সম্মেলন কিংবা নতুন নেতৃত্ব আসার সম্ভবনা রয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও