সাখাওয়াতে শংকা, সাখাওয়াতে ভয়!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪৩ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার

সাখাওয়াতে শংকা, সাখাওয়াতে ভয়!

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন যিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে রাজনীতির মাঠে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন সেই সাখাওয়াতকে নিয়ে এখন বিএনপির নেতাকর্মীরা রয়েছেন শংকা ও ভয়ে। সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন একই সাথে তিনি ৭ খুনের মামলার আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

তিনি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর বিএনপির মূল ধারার রাজনীতির সাথে যুক্ত হন এবং মহানগর বিএনপির কমিটিতে সিনিয়র সহ সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন। এ পদ পেয়েই তিনি নাটোর গুরুতে রুপ নেন এবং দলে বিভাজনের তৈরী করেন। শুরু করেন গ্রুপিং এবং একা একা দলীয় কর্মসূচী পালন। মহানগর বিএনপির একতাবদ্ধ কর্মসূচীতে তিনি বাগড়া দেন। আলাদা বলয় নিয়ে তিনি যেকোন কর্মসূচী নিজের মত করে পালন করে আসছেন আর তাই দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে নিয়ে রয়েছেন শংকায়।

দলীয় নেতাকর্মীরা যেমন শংকায় রয়েছেন তাকে নিয়ে তেমনি তাকে নিয়ে নতুন করে শংকায় রয়েছেন কেন্দ্রের নেতারা। পাশাপাশি সাখাওয়াতে তারা কিছুটা ভয়ও পাচ্ছেন। কারণ এই সাখাওয়াত হোসেন খান তার অনুগত কয়েকজন নেতাকে মহানগর বিএনপির কমিটিতে পদ এনে দিতে পারেননি বলে তাদেরকে দিয়ে মামলা করিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদকে বিবাদী করে। এ মামলায় এখন কেন্দ্রেও সকলেই জানে এটি সাখাওয়াত হোসেনের কাজ কারণ কেন্দ্র থেকে ইতোমধ্যেই নেতাদের অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে যে মামলার দাবীরা সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুগামী।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কার্যক্রমে অন্তবর্তীকালীন স্থগিতাদেশের আবেদন করে মামলা দায়ের করে কেন্দ্রের কাছে অভিযুক্তও হয়েছেন দলের সিনিয়র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। কারণ যারা মামলা করেছেন তারা সকলেই অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত এবং তাদেরকে সাখাওয়াত হোসেন খানের আশেপাশেই দেখা যায়। যদিও মামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান তবুও তিনি এ অভিযোগ এড়াতে পারেন না বলে দলের নেতাকর্মীদের মতামত রয়েছে।

জানা যায়, ২৮ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিবসহ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় মহানগর বিএনপির কমিটির র্কার্যক্রমে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বাদী পক্ষের আইনজীবীদের অন্তবর্তীকালী নিষেধাজ্ঞা আবেদনের প্রেক্ষিতে দুই দফায় শুনানী শেষে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালত এই আদেশ দেন।

গত ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালতে মহানগরের ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলজার খান ও একই ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (পৌরসভাকালীন) বিএনপি নেতা নূর আলম শিকদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এ দুইজনই মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত।

এমন নেতা যিনি কিনা নিজের দলের রাজনৈতিক কার্যক্রমের উপর নিজ অনুগামী দিয়ে মামলা করিয়ে স্থগিতাদেশ আরোপ কোরআন আদালতের মাধ্যমে এবং যিনি কিনা নিজের দলের মহাসচিব যিনি কিনা বর্তমানের দলের দেশে অবস্থান করা সর্বোচ্চ ব্যক্তি তাকেও মামলায় বিবাদী করান এমন নেতাকে নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে আতংক শংকা ও ভয় যেন পিছু ছাড়ছেনা। আর আবারো এই নেতাই দলের পরবর্তী কোন কমিটিতে শীর্ষস্থান পেয়ে যাবেন কিনা সেটি নিয়েও দুশ্চিন্তায় থেকে নিজেদের আগামীর রাজনীতির কথা চিন্তা করে অনেকেই সাখাওয়াতের বিষয়ে মুখ খুলে কিছু প্রকাশ করেন না।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও