আবারো সেই কাশেমীকে ফেরাতে বৈঠক

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৯ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার

আবারো সেই কাশেমীকে ফেরাতে বৈঠক

বিগত সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ হতে শামীম ওসমান ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনির হোসাইন কাশেমী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে শামীম ওসমান জিতেন বিপুল ভোটে। শেষদিকে নির্বাচনের মাঠ থেকে সটকে পড়েন কাশেমী। বিএনপির শীর্ষ নেতারাও মুখ ফিরিয়ে নেন তাঁর কাছ থেকে। তবে নির্বাচনের আগে কাশেমীর বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলেন শামীম ওসমান। ললাটে এটে দেন জঙ্গিবাদের তকমা। এনিয়েও ছিল নানা বিতর্ক।

এক বছর পর এখন আবার নতুন এক বিতর্ক শুরু হতে চলেছে। কারণ ওই নির্বাচনে কাশেমীর পক্ষে কাজ করা হেফাজত ও জমিয়ত নেতারা সম্প্রতি দেখা করেছেন এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে। একই সঙ্গে আবার কাশেমীকে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেছে নতুন মিশন। ১০ ফেব্রুয়ারী করেছেন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।

শামীম ওসমান যখন বার বার ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন তখন হেফাজত জমিয়ত নেতাদের এ ধরনের দ্বৈত আচরণ নিয়ে দেখা নানা প্রশ্ন।

এ অবস্থায় আবারো সক্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছেন হেফাজত ও জমিয়ত নেতারা যারা মূলত মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। নারায়ণগঞ্জ জেলা জমিয়তের সভাপতি হলেন সেই এমপি প্রার্থী মনির হোসাইন কাশেমী। আর সেক্রেটারী ফেরদাউসুর রহমান। আগামীতে আবারো নারায়ণগঞ্জে সংঘঠিত হওয়ার লক্ষ্যে কাশেমীমে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন ফেরদাউস যিনি ২০১৩ সালে শাপলা চত্ত্বর ইস্যুতে একাধিক মামলার আসামী হয়ে কারাভোগও করেছেন।

গত ২৫ জানুয়ারী শহরের চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে ফেরদাউসের নেতৃত্বে হেফাজত ও জমিয়তের নেতাদের সঙ্গে শামীম ওসমানের সঙ্গে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাখানেক আলোচনা হয়।

গত সংসদ নির্বাচনে আগে গণমাধ্যমে বিবৃতিতে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম বলেছিলেন, ‘সব জায়গায় কাসেমী যাচ্ছে। তাকে কেউ চেনে না। বিএনপির নেতারাও চেনে না। তাকে আগে চিনতাম না। ওলামাদের সভা সমাবেশে আমি তার সঙ্গে কথা বললেও না চেনেই কথা বলেছি। ওলামা হিসেবে তখন কথা বলেছি। আমার সন্দেহ ছিল তাঁকে নিয়ে। এতো নেতা থাকতে বিএনপি কেন তাকে আনলো। তার আবির্ভাব সন্দেহের। ইন্টারনেটে দেখেছি স্কুল ছাত্রকে ধরে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে কাসেমী। সেই ছেলেটা নারায়ণগঞ্জের।’

৩০ ডিসেম্বর ভোটের মাত্র ৪দিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে শামীম ওসমান বলেছিলেন, আগামী ২ থেকে ৩ দিন নারায়ণগঞ্জে কিছু একটা ঘটতে পারে। কারণ ইতোমধ্যে পাকিস্তানের নাগরিক নারায়ণগঞ্জ এসে গোপন বৈঠক করে। নাম্বারবিহীন গাড়িতে করে ওই বৈঠক হচ্ছে। এটা খুব আতংকের।

শামীম ওসমান বলেন, ‘২০০১ সালের ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে সবচেয়ে ঘৃণতম বোম ব্লাস্ট হয়েছে। সেদিন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বোম ব্লাস্ট করা হয়েছে। এবার বাংলাদেশ নির্বাচন বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের একজন অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী তারেক জিয়ার নেতৃত্বে সেই পাকিস্থানি আইএসআই নেটওয়ার্ক একটি প্রক্রিয়া চালিয়ে একটি ঘটনা ঘটনানোর চেষ্টা করবে। সেটা হয়তো খুব দ্রুততার সাথে ঘটানোর চেষ্টা করা হবে। আমাদের গত কয়েকদিনের তথ্যানুসারে পাকিস্তান এম্বাসি ও পাকিস্তানি নাগরিক নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আনাগোনা করছে। এবং বিভিন্ন স্থানে তারা গোপন বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকের মাধ্যমে কোমলমতী মুসলমান মাদ্রাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে বড় ধরনের ঘটনা আরো অনেক জায়গায় ঘটানোর চেষ্টা করবে। তার মধ্যে একটি জায়গা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও প্রতিদ্বন্দ্বি মনির হোসাইন কাশেমী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে আমার বিরুদ্ধে ধানের শীষের যে প্রার্থী আছেন কাসেমী সাহেব তিনি বিনা করণে অভিযোগ তুলেছেন। গতকালও আমার ক্যাম্প পোড়ানো হয়েছে। এটা একটা পার্ট অফ এ কন্সপাইরেসি (ষড়যন্ত্র)। দামি দামি গাড়ির ভেতরে অনেকে মিটিং করছে। বিদেশিরা মিটিং করছে। আমাকেই নয় আরো অনেককেই টার্গেট করা হয়েছে। ২১আগষ্ট শেখ হাসিনা সহ আরো অনেককে যারা বোম ব্লাষ্ট করে মারতে চেয়েছিল তারাই এই নায়করা লন্ডনে বসে নাটাই উড়াচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে একটা সুন্দর পরিবেশ রয়েছে। যেখানে ধাকাধাক্কি পর্যন্ত হয়নি। সেখানে কাসেমীর মত প্রার্থী দেয়া হয়েছে একটা প্লট তৈরি করার জন্য। এতে যদি আমাদের কোন দোষ থাকে তবে যা ব্যবস্থা নেয়ার নিবেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও