জীবদ্দশায় কদর, মৃত্যুর পর ভুলে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৪ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার

জীবদ্দশায় কদর, মৃত্যুর পর ভুলে

জাতীয় শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ গত ২৮ জানুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন। তবে এই নেতার মৃত্যুতে এখন পর্যন্ত কোন শোক সভা করা হয়নি। এ নিয়ে মহনগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা এক বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অনেক নেতাকর্মীরা বলছেন, শুক্কুর মাহমুদ বেঁচে থাকতে তাকে দিয়ে অনেকে স্বার্থ হাসিল করেছেন। সকাল-সন্ধ্যা তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য অপেক্ষা করেছে। কিন্তু এখন নিজ দলের নেতাকর্মীরাই তাকে মনে রাখেনি। এটা খুবই দুঃখজনক বিষয়।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন জাতীয় শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে ছিলেন শুক্কুর মাহমুদ। এছাড়া জেলার সভাপতি পদও আকড়ে ছিলেন এই নেতা। এর মধ্যে কিছুদিন আগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিকলীগের সভাপতি পদ থেকে কাজিমউদ্দিন পদত্যাগ করলেও পুরো নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকলীগের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এই নেতা। তাছাড়া দীর্ঘদিন শ্রমিকলীগ ও দলের নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছিলেন এই নেতা। এতে করে তার জনপ্রিয়তাও রয়েছে তুঙ্গে।

পদধারী নেতা হওয়ার ফলে দলের নেতাকর্মীদের কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। যেকারণে তার প্রতি নেতাকর্মীদের এক ধরনের আস্থা তৈরি হয়েছিল। এমনকি এই নেতার মৃত্যুর পর বটবৃক্ষের মত ছায়ার বিষয়টি অনেক নেতাই অকপটে স্বীকার করেছে। আবার অনেকে প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও তার কাছ থেকে রাজনীতি সহ নানা বিষয়ে সহযোগিতা পেয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

এদিকে গত ৯ ফেব্রুয়ারীতে জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের শোক সভা না হওয়া নিয়ে জেলা ও মহানগর শ্রমিক লীগের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা।

প্রয়াত শ্রমিকলীগ নেতা শুক্কুর মাহমুদের স্মরণে মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, শুক্কুর মাহমুদ ভাই খুব ভাল মানুষ ছিলেন। গত ২৮ জানুয়ারী তিনি মারা গেছেন। তার মারা যাওয়ার পর শ্রমিক লীগের নেতাদের বলেছিলাম একটি শোক সভা করার জন্য। জেলা সাধারণ সম্পাদককে বলেছিলাম শোক সভা করার জন্য। আজকে বলেছিলেন আলোচনা করে জানাবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত শোক সভা হয়নি। একটি শোক সভা করতে হলে এতো আলোচনার প্রয়োজন হয় না। ইচ্ছা করলেই করা যায়।

অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, শুক্কুর মাহমুদের পদচারণ শুধু নারায়ণগঞ্জেই ছিল না, সারা বাংলাদেশেই তার পদচারণা ছিল। তিনি বাংলাদেশের শ্রমিক সমাজের কথা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন। তিনি শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ছিলেন। শুক্কুল মাহমুদ ভাইয়ের সাথে আমার ভাল সম্পর্ক ছিল। প্রায় সময়ই তিনি আমাকে ফোন করতেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতেন। তার মারা যাওয়ার পর আমি অনেক কষ্ট পেয়েছি।

যদিও ১০ ফেব্রুয়ারীতে প্রয়াত নেতা শুক্কুর মাহমুদের স্মরণে প্রস্তুতিমূলক সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। জেলা ও মহানগর শ্রমিকলীগের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। সেই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ ফেব্রুয়ারীতে কাঙালিভোজের আয়োজন করা হবে বলে জানাগেছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, শুক্কুর মাহমুদের মত শ্রমিকলীগের একজন ত্যাগী নেতাকে ভুলে গেছে দলটির নেতাকর্মীরা। যেকারণে তার মৃত্যুর এতোদিনেও কোন শোকসভা পালন করতে পারেনি। এর আগেও তারা শোকসভা পালনের জন্য কয়েকবার মিটিংয়ে বসেছিল। কিন্তু কোন শোকসভা পালন করতে পারেনি। জাতীয় পর্যায়ের ও জেলা পর্যায়ের এতো বড় একজন নেতার বিয়োগে তাকে স্মরণ করতে পারেনি জেলার নেতারা। জীবদ্দশায় অনেক নেতাকর্মীর উপকারে এসেছেন এই নেতা। কিন্তু তার মৃত্যুর পরে তাকে কেউ স্মরণ পর্যন্ত করছেনা।

এদিকে দলটির অনেক নেতাকর্মী বলছেন, শুক্কুর মাহমুদ তাদের জন্য বটবৃক্ষের মত ছিলেন। যে বিষয়টা এখন অনেকে উপলব্ধি করতে পারছেন। কারণ এই নেতার মৃত্যুর পরে শ্রমিকলীগের শত্রুরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আর একে একে শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীদের সাথে জিইয়ে থাকা পূর্ব শত্রুতাগুলোর জের ধরে নানাভাবে হেনস্তার চেষ্টা করছেন। এতে করে তার অনুপস্থিতির বিষয়টি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও