ফের সরব কামাল মৃধা, টার্গেট আওয়ামী লীগের সভাপতি

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৪ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার

ফের সরব কামাল মৃধা, টার্গেট আওয়ামী লীগের সভাপতি

আবারো আলোচনায় কামাল মৃধা। এবার তিনি আলোচনায় এসেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা হবে। সে কারণেই এবার এ ইস্যুতে তৎপর তিনি।

স্থানীয় রাজনীতিতে কামাল মৃধা বহুভাবে সমালোচিত। তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সু সম্পর্ক ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথেও। কিন্তু ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর চলে যেতে হয়েছিল আমেরিকাতে। সেখানেই ছিলেন দীর্ঘ বছর। আমেরিকা থেকে দেশে এসে বিভিন্ন সময়ে সরব হয়ে উঠেন তিনি। বেশ কয়েকবার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে আধুনিক বাস নামানোর কথা বলে নানা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে বিআরটিসি বা চালু করেন তিনি।

সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরব হলেও শেষতক শামীম ওসমানকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেওয়ার কারণে আর কুলিয়ে উঠতে পারেনি তিনি।

কয়েক বছর আগে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময়ে দেখা করেছিলেন কামাল মৃধা। ওই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নির্বাচনে প্রচারণা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের লোকজনদের ধাওয়াতে পায়ে মারাত্মক ব্যাথা পান তিনি। পরবর্তীতে হুইল চেয়ারে বসেই খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি।

এক পর্যায়ে নিজেকে মেলে ধরতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি নিয়ে সেমিনার করেন। কথা বলেন নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি নিয়ে। কঠোর সমালোচনা করেছিলেন এমপি শামীম ওসমানকে নিয়েও। তখন কামাল মৃধা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এমপি প্রার্থী হিসেবে নিজেকে দাবী করে পোস্টারিং করেন।

মাঝে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের দরজায় ধর্না দিতেন কামাল মৃধা। সেখানে বসে কূটকৌশল চালানোর চেষ্টা করলে আনোয়ার হোসেন বিষয়টি টের পেয়ে সরিয়ে দেন কামালকে। এর আগে দেশে ফিরে চেষ্টা করেছিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে ভিড়তে। কিন্তু সেখানেও কুলিয়ে উঠতে পারেনি।

এসব নিয়ে যখন মিশন ব্যর্থ কামাল মৃধার তখন সরব হয়ে উঠেন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে মেট্রো রেল চালু করতে। কিন্তু কয়েক বছর আগেই সেই প্রস্তাবনার চিঠি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেন সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। আর সে কারণেই কামাল মৃধার উদ্যমেও ভাটা পড়ে। এরই মধ্যে রাজনীতিতে মারাত্মক কূটকৌশলে সিদ্ধহস্ত কামাল মৃধা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য বনে যান। এ নিয়ে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরেও কিভাবে এ কমিটিতে তিনি ঢুকেছেন সেটা নিয়েও দেখা দেয় নানা প্রশ্ন।

সংসদ নির্বাচনে প্রচারণা করেও আলোচনায় আসতে না পেরে শেষের দিকে নিজেকে গুটিয়ে নেন কামাল মৃধা। বেশ কয়েকমাস নীরব থাকার পরে এবার উৎসব পরিবহন নিয়ে সরব হয়ে উঠেন। ব্যর্থ হন উৎসবের দখল নিতে।

জানা গেছে, কামাল উদ্দিন মৃধা ৭ জানুয়ারী ১৯৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। মৃধা পরিবারের পরিবারের ছয় সন্তানের মধ্যে কামাল তৃতীয়। তিনি জয়গোবিন্দ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি নারায়ণগঞ্জ সরকারী তোলারাম কলেজ থেকে ১৯৮১ সালে বিএসসি সম্পন্ন করেন।

পারিবারিক জীবনে তিনি এক পুত্র ও তিন কন্যা সন্তানের জনক। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি আওযামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। সরকারী তোলারাম কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সাহিত্য সম্পাদক (১৯৭৯-৮১), নারায়ণগঞ্জ শহর ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক (১৯৭৯-৮০), সরকারী তোলারাম কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি চলতি দায়িত্বে (১৯৭৯-৮০), সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নারায়নগঞ্জ জেলা শাখা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ নারায়ণগঞ্জ শহর শাখা, সাবেক প্রচার সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখা। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সেন্টাল ইয়ুথ ক্লাব।

কামাল মৃধা এক সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। ১৯৯৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কামাল মৃধা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। সেদিন তার সঙ্গে আরো বিএনপিতে যোগ দেন জাকির খান যিনি পরে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। সেই জাকির খান ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকারের ছোট ভাই সাব্বির আলম খন্দকার হত্যার পর পালিয়ে যায়। জাকির খান এখন সাব্বির হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। ২০০২ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়া যৌথবাহিনীর অপারেশন ক্লিনহার্টের সময়ে কামাল মৃধা দেশ ত্যাগ করে আমেরিকাতে পাড়ি জমান।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও