ক্ষমতায় নাই বলেই বিকেএমইএর অবহেলা : তৈমূর

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৭ পিএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার

ক্ষমতায় নাই বলেই বিকেএমইএর অবহেলা : তৈমূর

বিএনপির চেয়ারপার্সনে উপদেষ্টা ও হত্যাকান্ডের শিকার ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকারের বড় ভাই অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, সাব্বির আলম খন্দকারের হত্যার প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছিল বিকেএমইএর কারণে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ আজকের দিনটায় সাব্বিরকে স্মরণ করে না। তার বিচারের দাবীতে কোনো পদক্ষেপ নেই। আজকে যদি আমরা ক্ষমতায় থাকতাম সাব্বির আলম খন্দকারের ভাইয়েরা যদি ক্ষমতায় থাকতো বিকেএমইএ অবশ্যই আজকের দিনটাকে স্মরণ করতো আনুষ্ঠানিকভাবে।

১৮ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সকালে শহীদ সাব্বির আলম খন্দকারের ১৭ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী স্বরণে ও সাব্বিরের খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার এবং নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত করার দাবীতে শোক র‌্যালী ও মানবন্ধনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, আমরা প্রতিবছরই বিকেএমইএর সামনে এই কর্মসূচি পালন করি। বিকেএমইএ এখান সরে গেলেও যেখাবে আমরা সেই বিকেএমইএর সামনেই কর্মসূচি পালন করি। বিকেএমইএকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সাব্বির খুন হয়েছে। কোন ব্যবসায়ী সমস্যা হলে পুলিশ যাওয়ার আগে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হতে সাব্বির আলম খন্দকার। সে সন্ত্রাসীদের জন্য আতংক ছিল। কেউ বলতে পারবে না আমরা কারও কাছে চাঁদাবাজী করেছি কারও কোন ক্ষতি করেছি। খুন হয়েছে শুধু এদেশের ব্যবসায়ীদের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে।

নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, সাব্বির আলম খন্দকারের মৃত্যুবার্ষিকীতে আপনারা একত্রিত হন এই জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তার এজাহার নিজেই তৈরি করেছিলেন। ৩২ টি ব্যাবসায়ী সংগঠনের সভায় সকলের উপস্থিতিতে সাব্বির আলম খন্দকার তার জানাযায় অংশগ্রহণের আহবান জানিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। তার বক্তব্যে প্রকাশ হয়েছিল নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন নারায়ণগঞ্জের বড় বড় নেতারা এদেশের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে তারা কিভাবে সন্ত্রাসের পিছনে কিভাবে মদদ যোগায় মাদকের পিছনে কিভাবে মদদ যোগায় এবং কোথায় কিভাবে চাঁদাবাজী হয়। এর কিছুদিন পরেই তাকে নিহত হতে হয়েছিল চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হাতে। সেই হত্যার দায় সে নিজেই নিয়েছিল। সেই হত্যার প্রতিবাদ আপনারা জানিয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন খানের সভাপতিত্বে র‌্যালী ও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, বিএিনপি নেতা খন্দকার মনিরুল ইসলাম, জেলা ওলামা দলের সভাপতি শামছুর রহমান বেনু, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মনিরুল ইসলাম রবি, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, সাধারণ সম্পাদক মমতাজউদ্দিন মন্তু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, আইনজীবি নেতা অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষানী, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু, জেলা শ্রমিক দল সভাপতি নাসির উদ্দিন ও মহানগর শ্রমিক দলের সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন।

প্রসঙ্গত ২০০২ সালের ২২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাস, চাঁদা ও মাদক মুক্ত করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সে অনুষ্ঠিত জেলার ৩২টি ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে সেনাবাহিনীর মত বিনিময় সভায় শহীদ সাব্বির আলম খন্দকার ‘আমার জানাযায় অংশগ্রহণ করার আহবান জানিয়ে বক্তব্য শুরু করছি’ বলে নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নাম, ঠিকানা ও তাদের গডফাদারদের নাম প্রকাশ করেন এবং সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি একটি তালিকা তৈরি করেছেন। এসব গডফাদারদের নাম ও তালিকা তিনি প্রকাশ করবেন দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে, নারায়ণগঞ্জ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে। কিন্তু বক্তব্য দেওয়ার কয়েকদিন পরেই তাঁকে নির্মম হত্যার শিকার হতে হয়েছে।

ওই বক্তব্য প্রদানের কয়েকদিন পর ১৮ ফেব্রুয়ারী শহরের মাসদাইর এলাকায় নিজ বাড়ির অদূরে আততায়ীদের গুলিতে তিনি নিহত হন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও