বিতর্কিত দুই নেতা বেষ্টিত সাখাওয়াত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪০ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার

বিতর্কিত দুই নেতা বেষ্টিত সাখাওয়াত

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একজন আলোচিত সমালোচিত নেতা হলেন মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তার কোন রাজনৈতিক ঐতিহ্য না থাকলেও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি পদটিও বাগিয়ে নিয়েছেন সাখাওয়াত। আর এই পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে রয়েছে তার অনেক বিতর্কিত ভূমিকা। পাশাপাশি বিতর্কিত লোকদের নিয়েই তার চলাফেরা ও রাজনীতি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির যতসব বিতর্কিত নেতা কর্মীরা রয়েছেন তারা অন্য কোথাও আশ্রয় না পেলেও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে ঠিকই আশ্রয় পেয়ে থাকেন। তাদের দ্বারা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত নিজের প্রভাব জাহিরের চেষ্টা চালিয়ে থাকেন। বিনিময়ে বিতর্কিত নেতারাও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে বিভিন্ন পদ পদবী পেয়ে থাকেন।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খান একসময় বিএনপির রাজনীতিতে দাবড়িয়ে বেড়ালেও বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কিত হিসেবেই পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ। আর এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তবে তার রয়েছে নিজস্ব কর্মীবাহিনী। যারা জাকির খানের অনুপস্থিতে জাকির খানের নাম ফেরি করে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন অঙ্গনে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। জাকির খান পলাতক থাকলেও তার কর্মীবাহিনীর নির্যাতন নীপিড়ন এখনও বন্ধ হয়ে যায়নি।

আর এই বিতর্কিত নেতার কর্মীবাহিনীকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। এর বিনিময়ে তাকে দেয়া হচ্ছে রাজনৈতিক সমর্থন। বিভিন্ন সভা সমাবেশে ও দলীয় কর্মসূচিতে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে জাকির খানের সমর্থিতরা উপস্থিত হচ্ছেন। সেই সাথে তাদেরকে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির বিভিন্ন পদ পদবীতেও জায়গা করে দেয়া হয়েছে।

একইভাবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একজন বিতর্কিত নেতা ছিলেন মমিন উল্লাহ ডেভিড। যিনি ২০০৪ সালের ক্রয়ফায়ারে মারা গিয়েছিলেন। তবে তিনি মারা গলেও তার কর্মী বাহিনীরা এখনও রয়ে গেছেন। ডেবিডের কর্মী বাহিনীর একটি অংশের নেতৃত্ব দেন মনিন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত ইসলাম রানা। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ। মাদক সহ গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন পুলিশের হাতে। আর এই সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। বিনিময়ে দুুজনেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে নানাবিধ সুযোগ সুবিধা আদায় করে নিচ্ছেন।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে একটি ৫ টনের ট্রাক ভর্তি বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। ওই সময়ে গ্রেপ্তার করা হয় সাখাওয়াত রানা, সহযোগি দুলাল মিয়া, আরজ আলীকে। জব্দ করা হয়েছিল ট্রাক, মাইক্রোবাস। ওই সময়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করার পর তারা ফেনসিডিল পাচারের বিষয়টি স্বীকার করেছিল। তখন মাইক্রোবাসে থাকা রানা স্বীকার করেছিল তিনি বিভিন্ন এলাকা হতে এসব ফেনসিডিল ট্রাকে করে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে বিক্রি করবে।

সাবেক ছাত্রনেতা জাকির খানের অনুসারীরা ও সাখাওয়াত ইসলাম রানাদের মতো বিতর্কিত নেতাদের নিয়েই অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করে আসছেন। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে সাখাওয়াত হোসেন খানের নিজস্ব কোন বলয় কিংবা নেতাকর্মী সমর্থক না থাকলেও বিভিন্ন সভা সমাবেশে নেতাকর্মী সমর্থকদের যোগান দিয়ে থাকেন জাকির খানে অনুসারীরা ও সাখওয়াত ইসলাম রানা।

নেতাকর্মীদের সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির মাধ্যমেই অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনে বিএনপির রাজনীতি শুরু। তিনি বিএনপির সমর্থনে ও সমর্থন ছাড়াও কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সুবাধে তিনি বিএনপির রাজনীতিবিদ হিসেবেই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত হতে থাকেন। ২০১৭ সালের এপ্রিলে সারাদেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী সাত খুনের ঘটনায় আসামীদের বিপক্ষে আইনজীবী হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। প্রায় প্রতিনিয়তই বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দেয়ায় আলোচিত মুখ হয়ে যান তিনি।

এর পরপরই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন ঘনিয়ে আসে। ওই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোন নেতা অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক না থাকায় সহজেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হয়ে যান অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। নিজের পক্ষে কোন জনসমর্থন না থাকা সত্ত্বেও বিনা বিরোধীতায় প্রার্থী হয়ে যান। ফলে নির্বাচন শেষে আওয়ামীলীগের সমর্থিত প্রার্থীর সাথে তার বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজয় ঘটে। যদিও তার দাবি নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। কিন্তু তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোথাও কোন অভিযোগ করিনি।

এরপর ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। আর এতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাকে ডিঙ্গিয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সহজেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি হয়ে যান। এর আগে ২০০৯ সালে শহর বিএনপির মুলধারার কমিটিতে ঠাই না পেয়ে বিদ্রোহী কমিটি গঠন করেছিলেন সাখাওয়াত। যেখানে নুরুল ইসলাম সর্দারকে সভাপতি ও সাখাওয়াত হোসেন খান নিজে সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও