চাষাঢ়ায় মদের বার, নেপথ্যে কাউসার পলাশ!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৯ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ শনিবার

চাষাঢ়ায় মদের বার, নেপথ্যে কাউসার পলাশ!

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া বালুরমাঠে ‘ব্লু পিয়ার’ রেস্টুরেন্ট কাম মদের বার নিয়ে নানা নাটকীয়তার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বারটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। এতে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও স্থায়ী সমাধান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে বারটিকে টিকিয়ে রাখা এবং বন্ধ করতে পাল্টা দুটি পক্ষের অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। তবে মদের বার নিয়ে সচিবালয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের অবহিতের পরেই বার বন্ধ হয়েছে। একই দিনে শ্রমিকলীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে মদের বার ইস্যুতে কথা বলেছেন। যেকারণে মদের বার বন্ধের নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছে তা একে একে আলোচনায় উঠে আসছে।

নির্দিষ্ট সূত্র বলছে, ৭গত ১২ ফেব্রুয়ারী ‘ব্লু পিয়ার’ নামক মদের বার বন্ধের জন্য মন্ত্রণালয়ে সচিবের সাথে এই ইস্যুতে কথা বলেন। একই দিনে শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশ নারায়নগঞ্জের হেফাজত ও জমিয়তের ৪ জন নেতাকে সাথে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে যান। এই নেতা মদের বার বন্ধের জন্য কথা বলেন সংশ্লিষ্টদের সাথে। এরপরেই শুরু হয় অ্যাকশন। বন্ধ করে দেয়া হয় বারটি।

এর আগে ২ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ শহরের ইসদাইরে কাদিয়ানী বিরোধী সমাবেশে মিছিল সহকারে যোগ দেন পলাশ। সেদিন তিনি বক্তব্যও রাখেন। পুরো অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চেই বসা ছিলেন পলাশ।

জানা গেছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি মদের বার স্থায়ীভাবে বন্ধে এমপি সেলিম ওসমানের সঙ্গে ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দদের মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, ‘কয়েক মাস আগে বিষয়টি আমার নজরে আসে। আমি তখন থেকেই খারাপ অনুভব করছিলাম যে এরকম একটি জায়গায় এটি হবে আর আমরা প্রতিবাদ করব না এটি হতে পারে না। আমি প্রথমে ডিসি এসপির কাছে গিয়েছিলাম। তাঁরা বললেন যে এটি মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের। আমি বললাম যে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের হলেও আলাদা একটি প্লেস লাগবে। যত্রতত্র তো হতে পারে না। শহরের প্রাণ কেন্দ্র, পাশে এত বড় মসজিদ, পাশে প্রেসক্লাব, পাশে হসপিটাল পাশে দুইতিনটি স্কুলও আছে। এইরকম একটি প্রাণ কেন্দ্রে মদের বার হবে এটা আমার কাছে পীড়াদায়ক লাগলো তাই আমি ভাবতে লাগলাম কিভাবে এটি বন্ধ করা যেতে পারে। এসপি ডিসি দুইজনেই বলল যে তাঁরা কিছু জানে না। তাঁরপর আমি গতকালকে মন্ত্রণালয়ের প্রধান যিনি তাঁর কাছে গেলাম। সচিবালয়ের একটি কাজে আমি গিয়েছিলাম। তখন আমি তাঁর কাছে বিষয়টি তুলে ধরলাম। তিনি বললেন যে, ‘লোকাল এমপি কে?’ আমি বললাম সেলিম ওসমান। তিনি বললেন যে, ‘উনি জানে?’ পরে আমি উত্তর দিলাম যে আমার তাঁর সাথে কথা হয় নাই। তবে মনে হয় না তিনি এর অনুমতি দিবেন। কিন্তু এসপি ডিসির সাথে কথা বলেছি তাঁরা কিছু জানেন না। ওনি বললেন যে, ‘এসপি ডিসি জানে না এটা হতে পারে না।’ উনি সাথে সাথে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের প্রধান যিনি তাঁকে জানালেন এবং আরো দুইজনকে জানালেন এবং বললেন যে, ‘পাশে মসজিদ আছে, স্কুল আছে, প্রেস ক্লাব আছে। লোকেশন ঠিক না। এটি বন্ধ করার ব্যবস্থা করুন।’

ওই অনুষ্ঠানে মদের বার ভবনের মালিককে উদ্দেশ্য করে এমপি সেলিম ওসমান বলেছেন, ‘আপনি আমার বন্ধু। আপনি নিজের টাকায় বিল্ডিং বানিয়েছেন। সেখানে মদের বার ভাড়া দিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের মানুষ এখন আপনাকে ধিক্কার জানায়। আপনাকে বলছি কোন সন্ত্রাসীর কাছে বাড়ি ভাড়া দিবেন না। আপনি তাদের সাথে কথা বলেন। প্রয়োজনে আপনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন আমার কাছ থেকে রেস্টুরেন্ট ভাড়া নিয়ে এখন অবৈধভাবে মদের বার চালানো হচ্ছে। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ব্যবস্থা নিবে আমরা সবাই আপনাকে সহযোগীতা করবো। আপনাকে নির্দেশ করলাম কোন সন্ত্রাসীর কাছে বাড়ি ভাড়া দিতে পারবেন না। এখানে কোন রেস্টুরেন্ট বার চলবে না। নোটিশ করেন ভাড়াটিয়াকে চলে যেতে। কোন চাইনিজ রেস্টুরেন্টও চলবে না বন্দোবস্ত করবেন। নতুবা নারায়ণগঞ্জ শহর ছেড়ে চলে যাবেন।’ বার বন্ধ করার পরদিন এটা বন্ধের দাবীতে আন্দোলন করা স্থানীয় আলেম ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সেলিম ওসমান এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জানুয়ারি ব্লু পিয়ার রেস্টুরেন্টের নামে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে মালিক পক্ষ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মদের বার নিয়ে মিথ্যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে দাবি করে রেস্টুরেন্টটির প্রধান নির্বাহী গাজী মোক্তার হোসেন বলেছিলেন, বারের বিষয়টি মিথ্যা প্রচারণা। এটি একটি রেস্টুরেন্ট। বার করার চিন্তাভাবনা তাদের নেই। সাংবাদিকদের ফাঁকি দেওয়ার কিছু নাই। একটি ভালো মানের রেস্টুরেন্ট করেছি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য। এখানে অনেক বিদেশী ক্রেতা থাকেন। তাদের জন্য বিশ্বমানের খাবার থাকবে এই রেস্টুরেন্টে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও