অবজ্ঞার পরে হিরো তৈমূর

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৩ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ রবিবার

অবজ্ঞার পরে হিরো তৈমূর

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে একজন অপরিহার্য নেতা ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্র্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। কিন্তু জেলা বিএনপির একটি পক্ষের বিরোধীতায় অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি থেকে মাইনাস করা হয়। কিন্তু এই মাইনাসের মধ্যে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিএনপিকেই মাইনাস করা হয়েছে যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির নেতাকর্মীরা হারে হারে টের পাচ্ছেন। কারণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগের বছর ও পরের বছর নারায়ণগঞ্জ বিএনপি যেভাবে রাজপথে নাড়িয়েছিল সেই আন্দোলনের ধারে কাছেও যেতে পারেনি বর্তমান জেলা ও মহানগর বিএনপি।

আর সেটা উপলব্ধি করতে পেরেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি। আর তাই এতদিন তৈমূর আলম খন্দকারকে অবজ্ঞা করে এবার তাকে মূল্যায়ণের উদ্যোগ নিয়েছেন। যার ধারাবাহিকতায় অবজ্ঞার পরে এবার জেলা বিএনপির হিরো হিসেবে পরিণত হতে যাচ্ছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। যদিও তৈমূর আলম খন্দকার এ জেলার দায়িত্বে না থাকলেও তার অনুগত নেতাকর্মীরাই প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতেই রাজপথ সরব করার চেষ্টা চালিয়ে থাকেন। ফলশ্রুতিতে তৈমূরের অনুসারীরা মামলারও শিকার হয়েছেন বহুবার।

মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় বিএনপি এখন হারে হারে টের পাচ্ছে এ জেলার বিএনপির রাজনীতি থেকে তৈমূর আলমের দায়িত্ব কেড়ে নিয়ে বিএনপির কতটা ক্ষতি করা হয়েছে। ২০০৯ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি পদের দায়িত্ব পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের রাজপথের আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা ছিল তৈমূর আলম খন্দকারের। যদিও ওই সময় তৈমূর আলমের বিরুদ্ধে বিরোধী নেতাকর্মীদের একটাই অভিযোগ ছিল তৈমূর আলম তার আত্মীয়য় স্বজন ও কাছের লোকজনদের বড় বড় পদ দিয়েছিলেন।

কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেছে বর্তমান বিএনপির চেয়ে ওই সময়কার বিএনপি তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে শতগুন শক্তিশালী ছিল। নেতাকর্মীরা বলছেন, তৈমূর আলম খন্দকার তাদেরকেই পদ দিয়েছিলেন যারা রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু তৈমূর সহ তার অনুসারীদেরকে বাদ দিয়ে যাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা শুধু পদ নিয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করে দেয় বিএনপি। এ দুটি কমিটিতে রাজপথের সক্রিয় নেতাদের ঠাঁই দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতাকর্মীদের। যে সব নেতাকর্মীরা তৈমূর আলম খন্দকারের নেতৃত্বে রাজপথে করে রাজপথে ঘাম জড়িয়েছিলেন ওইসব নেতাদেরও দল থেকে মাইনাস করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতি থেকে তৈমূর আলম খন্দকারকে মাইনাস করতে গিয়ে তার নেতাকর্মীদেরও পদ বঞ্চিত করে মাইনাস করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

নারায়ণঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির দুটি সমমর্যাদার কমিটি হলেও দুটি কমিটির রাজপথের ভূমিকা উল্লেখ করার মত নয়। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে টানা দু’বছর তৈমূর আলম খন্দকার রাজপথের আন্দোলনে তার নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে ছিলেন। ওই সময় নারায়ণগঞ্জে তৈমূর আলম খন্দকারের লোকজন সাতটি থানায় ডজন ডজন মামলার আসামি হয়েছিলেন। তৈমূর আলমও আসামি হয়েছিলেন। এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতেও নারায়ণগঞ্জে যে সব মামলা হয়েছে এসব মামলায় তৈমূর আলম খন্দকারের অনুসারিরাই বেশি যারা আসামি হয়েছেন। আসামি হয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকারের আত্মীয় স্বজনও।

এদিকে বিএনপির কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নারায়ণগঞ্জে তৈমূর  আলম খন্দকারের নেতাকর্মীরা ঘরে বসে ছিলেন না। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সদর বন্দর ও রূপগঞ্জ এলাকায় তৈমূর আলম খন্দকারের নেতাকর্মীরা প্রতিদিন কর্মসূচি পালন করে আসছে। বাড়ি ঘর ছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন নেতাকর্মীরা। কিন্তু তারপরেও এসব নেতাকর্মীরা পদ বঞ্চিত হয়ে হতাশার মধ্যেও দলের টানের কারণে রাজপথে নেমে এসেছেন। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কারাগারে যাওয়ার পর তাঁর মুক্তির দাবী নিয়ে একের পর এক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন তিনি।

কিন্তু যদি তৈমূর আলম খন্দকার ও তার নেতাকর্মীদের এ জেলা ও মহানগর কমিটি থেকে মাইনাস করা না হতো তাহলে এবারের আন্দোলনে আরো বেশি সক্রিয় দেখা যেতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে। যে কারনে নেতাকর্মীরা বলছেন এ জেলার দায়িত্ব থেকে তৈমূর আলমকে মাইনাস করতে গিয়ে বিএনপিকে মাইনাস করা হয়েছে। আর সেই ক্ষতির টের পাচ্ছে এখন বিএনপি। এ জেলায় বিএনপিকে শক্তিশালী রাখতে তৈমূর আলম খন্দকারের বিকল্প কেউ নাই যা আবারো প্রমানিত হলো কেন্দ্র থেকে অযোগ্য লোকজনদের নিয়ে কমিটি গঠন করার মাধ্যমে।

আর তাই অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে মূল্যায়ণ করার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে বিএনপি। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে। আর সেই আহবায়ক কমিটিতে আহবায়ক হিসেবে আসবেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই হয়ত ঘোষণা আসবে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও