বিপ্লবী বিদ্রোহী দুই তরুণ জিতলেন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৬ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ রবিবার

বিপ্লবী বিদ্রোহী দুই তরুণ জিতলেন

সদ্য বিলুপ্ত হওয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের শুরু থেকেই শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের ক্ষোভ পরিলক্ষিত হয়েছিল। সেই কমিটি গঠনের প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও তৃণমূলের কাছে আস্থা অর্জন করতে পারছিলেন না কমিটির পদে থাকা শীর্ষ নেতারা। বরং দিন দিন সেই ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। আর এই কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পক্ষে জেলা বিএনপির অনেক নেতাই সরব ছিলেন। তবে তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার।

সূত্র বলছে, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী জেলা বিএনপির ২৬ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। জেলা বিএনপির সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারণ করে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। তবে ওই কমিটি নিয়ে জেলা বিএনপির অনেক নেতাই সন্তুষ্ট ছিলেন না।

এরপর ২০১৯ সালের ২৩ মার্চ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান এবং সেক্রেটারী অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সহ ২০৫ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়েও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অনেক সন্তুষ্ট হতে পারেনি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের লুকোচুরি জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতারা ভালভাবে নিতে পারেননি। ফলে অনেকেই এই কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পক্ষে ছিলেন।

যার ধারাবাহিকতায় গত ২১ ফেব্রুয়ারী দলের সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার কথা জানানো হয়। আর এই ভেঙ্গে দেয়ার পক্ষে জেলা বিএনপির অন্যান্য নেতাদের মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদারের বেশি সরবতা ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন সভা সমাবেশে প্রকাশ্যেই জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়তেন।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৩ জুলাই প্রয়াত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমের স্মরণসভায় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেছিলেন, দলের ভিতরে প্রতিযোগিতা কিংবা একে অপরের সাথে বিরোধীতা থাকতেই পারে এটা দোষের কিছু না। কিন্তু বিএনপির নেতাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হবে না কিংবা মৃত্যুর পরে জানাযায় উপস্থিত হবে না, এটা শুধু দোষ না বরং অন্যায়। তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া জেলে দিন কাটাচ্ছে অথচ তার প্রতি তাদের নূন্যতম অনুভূতি নেই। এই অনিয়ম চলতে দেয়া হবে না। প্রতিবাদ করতে হবে। আমরা জিয়া পরিবারের রাজনীতি করি। এসব নেতারা জিয়া পরিবারের চাইতে নিজেদেকেই বেশি মূল্যায়ণ করে।

এর আগে ২০১৭ সালের জেলা বিএনপির এক কর্মসূচি প্রসঙ্গে মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেছিলেন, ‘জেলা বিএনপির প্রথম কর্মসূচি কার্যালয় ভিত্তিক হওয়া উচিত ছিল। জেলা বিএনপির কার্যালয়ে না হলেও অবশ্যই যেকোন বিএনপির কার্যালয়ে হতে পারতো। সেক্রেটারী নিজ উদ্যোগে স্থান ঠিক করেছে। এভাবে কর্মসূচি পালন করা বাকি নেতাদের অবমূল্যায়িত করার সামিল। আমাদের সিনিয়র নেতাদের এসব অগণতান্ত্রিক ও অরাজনৈতিক পন্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ব্যক্তির ইচ্ছায় দল চলতে পারে না।’

একই সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শাহআলমের কারখানা ভিত্তিক রাজনীতিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব।

একই সাথে দলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদারও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তৃতায় জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করতেন। ২০১৯ সালের এক ফেসবুক স্যাটাসে রুহুল আমিন শিকদার নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিকে ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ব্যর্থ কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রুহুল আমিন জানিয়েছিলেন, জেলায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও বর্তমান নেতৃত্ব একটি প্রতিবাদও দিতে পারেনি কর্মসুচীতো দূরে থাক। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কোন কর্মসূচী করতেও ব্যর্থ বর্তমান নেতৃত্ব। দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীগুলো তারা এখন পালন করে না করার মতই অল্প কয়েকজন নিয়ে যা জেলা বিএনপির কর্মসূচীকে মানুষের কাছে হাস্যরসের সৃষ্টি করছে। কর্মসূচীতে দলের সভাপতি নিজেই থাকেন না। দলের নেতাকর্মীদের সাথে তাদের দূরত্ব ও দল থেকে দূরে থাকা এ চেষ্টার ফলেই আমরা দলের বর্তমান ব্যর্থ কমিটির পরিবর্তন চাই।

জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পরও জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শিকদার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকশ করেছেন। যদিও এর আগে রুহুলকে শোকজ করা হয়েছিল। চেষ্টা করা হয়েছিল বহিস্কারের।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও