যত বিতর্ক ছিল বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১২ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার

নূর হোসেনের ভাইয়ের সাথে শাহআলম ও মামুন মাহমুদ। ডানের ছবিতে খালেদা জিয়াকে গুলি করা ব্যক্তি ফুল দেন নূর হোসেনকে ও মামুন মাহমুদকে।
নূর হোসেনের ভাইয়ের সাথে শাহআলম ও মামুন মাহমুদ। ডানের ছবিতে খালেদা জিয়াকে গুলি করা ব্যক্তি ফুল দেন নূর হোসেনকে ও মামুন মাহমুদকে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের দিয়ে দলীয় কোনো আন্দোলন সংগ্রামেই জোড়ালো ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। প্রায় কর্মসূচিতেই জেলা বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান সহ অধিকাংশ নেতাকর্মীরা অনুপস্থিত থাকতেন। নতুন কমিটি দিয়েও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। আর তাই আবারও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে জেলা বিএনপির কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে দিয়েছেন। তবে সদ্য বিলুপ্ত হওয়া নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি নিয়ে ছিল অনেক বিতর্ক। সেই বিতর্কের রেস ধরেই হয়তো জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

সূত্র বলছে, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী জেলা বিএনপির ২৬ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। জেলা বিএনপির সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারণ করে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। তবে ওই কমিটি নারায়ণগঞ্জ তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি।

এরপর ২০১৯ সালের ২৩ মার্চ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান এবং সেক্রেটারী অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সহ ২০৫ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিও দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে জোড়ালো কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে এই সময়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিতে অনেক বিতর্কিত ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণার পরই বাণিজ্যকরণের অভিযোগ উঠে। ২৬ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠনের এক মাস পেরুতে না পেরুতেই জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মানুন মাহমুদের ১৮ লাখ টাকা মূল্যের নতুন একটি প্রাইভেটকার কেনার সংবাদ প্রচার হয়। মূলত মামুন মাহমুদকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যই এই গাড়ি উপহার দেয়া হয়েছিল। এছাড়াও আড়ালে আবডালে চলছিল নানা ধরনের উপঢৌকন বিতরণ।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন লংমার্চের গাড়ি বহরে গুলি করা একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে দেখা গিয়েছিল নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সেক্রেটারী অধ্যাপক মামুন মাহমুদের পাশে। সাত খুনের মত আলোচিত মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী নূর হোসেনের অনুগামী ওই সন্ত্রাসীকে মামুন মাহমুদের পাশে দেখা যেত যাঁকে নিয়মিত দেখা যেত নূর হোসেনের পাশে। সেই সন্ত্রাসীর নাম মহিউদ্দিন মোল্লা। তবে ভোল পাল্টে নূর হোসেনের আস্কারায় তিনি পেয়ে যান বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদও। অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর তাঁকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন বিভিন্নজন। তাদের মধ্যে মহিউদ্দিন মোল্লাকেও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গিয়েছিল।

নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাতিলের প্রতিবাদে বিএনপি ১৯৯৮ সালের ৯জুন চট্রগ্রাম মুখী লং মার্চ ঘোষণা করেন। লং মার্চ ঠেকাতে আগের দিন ৮ জুন রাত ৮টার পর থেকেই ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকায় অবস্থান নেয় আওয়ামীলীগ সন্ত্রাসীরা। ওই সন্ত্রাসীদের মধ্যে ছিল মহিউদ্দিন মোল্লা। তিনি বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেল বিএনপির কমিটিতে ছিল ৭ খুন মামলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামী নূর হোসেনের অনুগামী অনেকেই। যাঁরা এ কমিটির নেতৃত্বে আছেন ও তল্পিবাহক তাঁদের সকলেই নূর হোসেনের ঘনিষ্টজনদের অনেকেই। এক সময়ে বিএনপির সিদ্ধিরগঞ্জ কার্যালয় চলতে নূর হোসেনের টাকায়। জেলা বিএনপির সহ সভাপতি শাহআলমের সঙ্গে ছিল নূর হোসেনের গভীর সম্পর্ক। এছাড়া কমিটিতে স্থান পাওয়া সহ সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জল হোসেনও ছিল নূর হোসেনের লোক। নূর হোসেনের এক ভাই মোহাম্মদ নূর উদ্দিন মিয়া সিদ্ধিরগঞ্জে থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক। মূলত তার সূত্র ধরেই নূর হোসেনের সঙ্গে কানেকশন ছিল বিএনপি নেতাদের। সম্পৃক্ত নেতাদের মধ্যে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শাহআলম ও মামুন মাহমুদের নাম রয়েছে বেশী। সাত খুনের পরেও নূরউদ্দিনকে দল থেকে বহিস্কার কিংবা কোন মন্তব্য করেনি বিএনপি নেতারা।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে কাজী মনিরুজ্জামানের ভূমিকা কখনই সন্তোষজনক ছিল না। জেলা পর্যায়ের প্রায় সকল কর্মসূচিতেই তার পিছুটান ছিল। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা মামলার শিকার হলেও তিনি থাকেন সকল ঝামেলা মুক্ত। জেলা বিএনপির অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেও জেলা বিএনপির প্রায় কর্মসূচিতেই তিনি অনুপস্থিত থাকেন। এভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি থেকে দিন দিন হারিয়ে যাওয়ার পথে ছিলেন সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অধিকাংশ কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি দেখা যেত না।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও