তিন তরুণ নেতার পথ সুগম

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪১ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বৃহস্পতিবার

তিন তরুণ নেতার পথ সুগম

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কয়েকজন তরুণ নেতা রয়েছেন। যাদের উপর নির্ভর করছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ। সেই সাথে এসকল নেতারা ভবিষ্যতে কোনো বিতর্র্কে না জড়ালে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাদের উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রত্যেকেরই রয়েছে বিশাল কর্মীবাহিনী। রয়েছে বিশাল জনপ্রিয়তা। আর এই নেতারা হলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল ও জিএম আরাফাত। এরাই একসময় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে পরিণত হবেন। প্রক্যেরই রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। সেই ছাত্র জীবন থেকেই বহু ঘাত প্রতিঘাতের মোকাবেলা করতে হয়েছে তাদেরকে।

দলীয় সূত্র বলছে, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহ নিজাম। তিনি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের একজন ঘনিষ্টজন নেতা হিসেবে পরিচিত। শাহ নিজাম সেই ছাত্র জীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে আসছেন। বাবার মুখে বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সাথে জড়িয়ে যান শাহ নিজাম। তাকে নিয়ে বাবা অনেক বড় স্বপ্ন দেখতেন। বাবার সেই স্বপ্নের সূত্র ধরে ভাল ছাত্র হিসেবে তার সুনামও ছিল।

এরই মধ্যে তিনি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যান। সেই আকৃষ্টতা থেকেই শাহ নিজাম বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতির এই পর্যায়ে এসে পৌছেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ধাপ পেরিয়ে বতর্মানে মহানগর আওয়য়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে শামীম ওসমানের দেশের বাইরে অবস্থান করার সময় শাহ নিজাম দেশে থেকে শামীম ওসমানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

সেই ধারাবাহিকতায় এখনও ধরে রেখেছেন শাহ নিজাম। শামীম ওসমানের নেয়া বিভিন্ন কর্মসূচিগুলোতে তার ভূমিকা থাকে অগ্রণীয়। সেই সাথে শামীম ওসমানও তার প্রতি আস্থা রেখে বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে থাকেন। আগামী দিনে শাহ নিজাম নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের গুররুত্বপূর্র্ণ পদ পেতে যাচ্ছেন।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে কর্মী লালনের কারণে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন প্রয়াত গোলাম সারোয়ার। ছিল বিশাল কর্মী বাহিনীর নেতা। তাঁর জীবদ্দশাতেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছোট ভাই জাকিরুল আলম হেলালের। সারোয়ার মারা গেলেও তাঁর মতই কর্মীবাহিনী আগলে রেখেছেন জাকিরুল আলম হেলাল। ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন সারোয়ার। নারায়ণগঞ্জ বার একাডেমী স্কুল থেকে ইংরেজীতে রেকর্ড নাম্বার পেয়ে তিনি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে তিনি এইচএসসি পাশ করেন। পরে তিনি তোলারাম কলেজ থেকে পাশ করেন। তোলারাম কলেজে পড়ার সময় থেকে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগের শাসনামলে শামীম ওসমানের ভরসার পাত্র ছিলেন সারোয়ার, মাকসুদ, লাল, নিয়াজুল, মিঠুরা। এর মধ্যে তৎকালেই ওসমান পরিবারের পাশাপাশি সারোয়ার পরিবারও ছিল রাজনীতিতে সক্রিয়। কারণ সারোয়ার ছাড়াও তার ছোট ভাই জাকিরুল আলম হেলাল ওইসময়ে সরকারী তোলারাম কলেজের জিএস ছিলেন। বিএনপি সরকারের আমলে রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে হেলাল প্রথম শামীম ওসমানের পক্ষে স্লোগান তুলেন মিছিল করেন। পরবর্তীতে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন জাকিরুল আলম হেলাল। বর্তমানে জাকিরুল আলম হেলাল মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। আগামী দিনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আসীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার।

একইভাবে জিএম আরাফাত ১৯৯১ সালে নবম শ্রেণিতে থাকাবস্থায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে শ্লোগানে ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়েই তার রাজনীতি শুরু। আওয়ামী পরিবারের সন্তান প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা আলম চান মুন্সীর ছেলে। ১৯৯২ সালে দেওভোগ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হন। এসএসসিতে প্রথম বিভাগে পাশ করার পর কবি নজরুল ইসলাম কলেজে লেখাপড়া শুরু করেন। ওই সময় শহর ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন প্রয়াত সাইদুল হাসান বাপ্পী ও সাধারণ সম্পাদক শাহনিজাম (বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক)। তাদের সাথে পুরোদমে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়ান তিনি। যদিও ওই সময় শহর ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে দেয়ার প্রক্রিয়া চললেও পরবর্তীতে বিএনপির আমলে নানা হামলা মামলা নির্যাতনের কারনে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। কারণ ১৯৯৪ সালে ৪টি রাজনৈতিক মামলায় আসামী হন জিএম আরাফাত। অনেকটা আত্মগোপনে থেকেই আন্দোলন সংগ্রাম করেন।

১৯৯৫ সালে গ্রেফতার হলে সাড়ে তিন মাস কারাভোগ করতে হয়েছিল তাকে। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের সুনজরে চলে আসেন জিএম আরাফাত। ২০০২ সালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্মেলন হলে সেখানে কারাগারে থেকেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি হন লিয়াকত আলী শিকদার ও বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু হন সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখায় নজরুল ইসলাম বাবুর সুদৃষ্টি আসলে জিএম আরাফাত কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে পরিচিত লাভ করেন।

চারদলীয় জোট সরকার আমলে ২০০৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায় বঙ্গবন্ধ এভিনিউতে। সেই সম্মেলনে এহসানুল হাসান নিপুকে সভাপতি ও জিএম আরাফাত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ও আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা সহ জেলার প্রত্যেকটি থানা এলাকার কমিটিগুলো গঠনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে জোট সরকার বিরোধী আন্দোলনে। যে কারনে তার ফলস্বরুপ সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিএম আরাফাতকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। ওই সময় ৬৪ জেলার মধ্যে একমাত্র নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অধিষ্ট হন তিনি।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিউনিউতে গ্রেনেড হামলার পরে নারায়ণগঞ্জ শহরে যে বিক্ষোভ মিছিল বের হয় তার নেতৃত্বে ছিলেন আরাফাত। ওই সময়ে বিএনপির যুবদল নেতা ইতোমধ্যে র‌্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে নিহত মমিনউল্লাহ ডেভিড বাদী হয়ে মামলা করেন যেখানে আরাফাতকে প্রধান আসামী করা হয়। ওয়ান এলিভেনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হলে নারায়ণগঞ্জ থেকে মিছিল বের করেছিলেন জিএম আরাফাত। সেই মিছিলের ঘটনায় জিএম আরাফাতকে জরুরী আইনের বিধিতে মামলায় প্রধান আসামী করা হয়। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। আগামি দিনের রাজনীতিতে তার উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও