খালেদার মুক্তিতেই সন্তোষ নারায়ণগঞ্জ বিএনপির!

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৮ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২০ মঙ্গলবার

খালেদার মুক্তিতেই সন্তোষ নারায়ণগঞ্জ বিএনপির!

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির চেয়াসপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আটকে ছিলেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা আন্দোলন সংগ্রাম করেও তার জামিনের ব্যবস্থার করতে পারছিলেন না। বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবী অনুযায়ী তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তারপরেও বিএনপির নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে জোরালো কোনো আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলতে পারেননি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরাও কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি। তবে সরকার ইচ্ছা করেই এবার বেগম খালেদা জিয়ার জামিন দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জামিনের সাথে অনেক শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। আর এতেই খুশিতে গদগদ করছেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা।

সূত্র বলছে, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেন আদালত। পরবর্তীতে একই বছরের ৩০ অক্টোবর সেই সাঁজা বেড়ে ১০ বছর হয়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকেই বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আটকা রয়েছেন। আর এই দীর্ঘ সময়ে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপিও দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে জোড়ালো কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। প্রায় সকল কর্মসূচিতেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির চরম ব্যর্থতা ছিল।

তবে এবার কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাঁকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২৪ মার্চ মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ-সংক্রান্ত সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এ সময়ের মধ্যে খালেদা জিয়া নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে পারবেন। তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। অন্য হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে পারবেন না। আর এই খবরেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতারা খুশি হয়ে গেছেন। একই সাথে সরকারকে সাধুবাদ জানানো শুরু করে দিয়েছেন তারা।

স্থানীয় গণমাধ্যমে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, মানবিক দিক থেকেই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন ছিল। আমরা তো আইনগতভাবে অনেক চেষ্টা করেছি। এখন সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের এই এই সিদ্ধান্তে আমরা খুশি এবং সরকারকে সাধুবাদ জানাই।

একইভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘নেত্রীর বিষয়টা নিয়ে আমরা খুবই খুশি। বাংলাদেশের প্রতিটি জনগণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। ওনার বাড়িতে থাকার সুযোগ হবে চিকিৎসা নিতে পারবেন, এতেই আমরা খুশি। শর্ত যাই থাকুক না কেন তার মুক্তিটাই বড় কথা।’

তবে দ্বিমত পোষণ করেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

তিনি বলেন, যেহেতু সরকার জামিন দিয়েছে বেগম খালেদা জিয়াকে জেলখানা থেকে কারামুক্ত হতে পারছেন এটাতে আমরা স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলছি। স্বস্তির নিঃশ্বাস আর খুশি হওয়া এক কথা না। বেড়াজাল দিয়ে মুক্তি বলা হয় না। এতে সরকার হীনমন্যতার পরিচয় দিয়েছে উদারতার পরিচয় দেয়নি। আমরা খুশি না হলেও স্বস্তির নিঃশাস ফেলছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলছি এই জন্য যে, এখন বেগম খালেদা জিয়া হয়তো তার চাহিদা মতো চিকিৎসা নিতে পারবে এবং তাকে জনগণ দেখতে পারবে, হয়তো তিনি দেশের খোঁজ খবর নিতে পারবেন, অন্ধকার প্রকোষ্ট থেকে আলোর মুখ দেখবেন এতে আমরা স্বস্তির নিঃশ^াস নিচ্ছি কিন্তু আমরা খুশি না। খুশি না এইজন্য তাকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমাদের শর্তযুক্ত মুক্তি কামনা ছিল না।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও