শামীম ওসমানকে ছাপিয়ে গেলেন স্ত্রী ছেলে!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:০৪ পিএম, ২ এপ্রিল ২০২০ বৃহস্পতিবার

শামীম ওসমানকে ছাপিয়ে গেলেন স্ত্রী ছেলে!

বর্তমান সময়ের অন্যতম একটি আলোচিত বিষয় হলো প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস। এই করোনা ভাইরাসের কারণে সারাবিশ^ব্যাপী দুর্যোগ নেমে এসেছে। সেই দুর্যোগ এসে ভর করেছে বাংলাদেশেও। দিনের পর দিন এই করোনা ভাইরাসের আক্রমনের তীব্রতা বাড়তে শুরু করছে। সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও করোনা করোনা ভাইরাসের আক্রমনের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। নারায়ণগঞ্জেও কয়েকজন এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রয়েছেন।

তবে এই প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমান দোয়া করেছেন। ৫ হাজারেরও বেশী কোরআন খতম দিয়ে করোনা থেকে মুক্তি লাভে আল্লাহর কাছে কৃপা লাভের জন্য দোয়া করিয়েছেন। এছাড়া বাহ্যিকভাবে শামীম ওসমানকে তেমনভাবে দেখা যায়নি।

কিন্তু থেমে থাকেননি তাঁর স্ত্রী সন্তান। তারা ঠিকই করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতায় জনগণের পাশে এসে দাঁড়িছেন। নিজেদেরকে আবদ্ধ না রেখে জনগণের পাশে এসে ভীড়তে শুরু করেছেন।

অসহায়দের পাশ থেকে সরে যাচ্ছেন না নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান সালমা ওসমান লিপি যিনি এমপি শামীম ওসমানের সহধর্মিনী। এবার তাঁর উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে দেওয়া হয়েছে খাদ্য সামগ্রী। ৮০০ পরিবারের মাঝে ৩১ মার্চ মঙ্গলবার রাতে ওই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

সেদিন নারায়ণগঞ্জ শহরে জামতলা এলাকার অসহায় ৩শ পরিবারের কয়েক হাজার মানুষের জন্য খাদ্য সামগ্রী পাঠানো হয়। জনসমাগম ঠেকাতে বাড়ি বাড়ি পৌছে দেওয়া হচ্ছে এসব খাদ্য সামগ্রী।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ কার্যত লকডাউনের পরে প্রথমেই শহরের দুটি বস্তি এলাকাতে ১ হাজার খাদ্য সামগ্রী বিতরণ শুরু করেন লিপি ওসমান।

লিপি ওসমান নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, জামতলায় ৩শ পরিবার ছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জে আরো ৮শ পরিবারের মাধ্যে খাদ্য সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। দুইদিনের মধ্যে এগুলো বিতরণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘শুধু এসব কার্যক্রমেই শেষ না। আমাদের এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। কোন লোক পরিবারকে অভুক্ত থাকতে দিব না। যতদিন সামর্থ থাকবে এসব অসহায় মানুষের পাশে আমি সব সময়েই থাকবো। তার পরেও আমি সকলকে বলবো আপনারা সরকারের নির্দেশনা পালন করুন, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন। কোনভাবেই অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হবেন না। আপনারা যেন বাড়িতে বসে খাবার খেতে পারেন সে প্রচেষ্টা থাকবে।’

লিপি ওসমান বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে ইনশাল্লাহ আমরা এ করোনা ভাইরাসকে জয় করবো। জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে দলমত নির্বিশেষ সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই আমরা সংকট উত্তোরণ করতে পারবো। তাই আমি আবারো সকলের কাছে অনুরোধ আহবান আবদার করবো আসুন সকলে মিলে এসব অসহায় মানুষদের জন্য কাজ করি। তাদের পাশে দাঁড়াই। শেখ হাসিনার বাংলাদেশে কেউ না খেয়ে থাকবে না এটাই আমার বিশ্বাস। যেহেতু দেশের স্বার্থে, ভাইরাস যাতে না ছড়ায় সেজন্য সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেহেতু অসহায়, গরীব, হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের একান্ত কাম্য’

জানা যায়, প্রাণঘাতি এক ভাইরাসের নাম হচ্ছে করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রয়েছে মৃত্যুঝুঁকি। আর এই ভাইরাসটি খুব কম সময়ের মধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়াগায় স্থানান্তর করতে পারে। ইতোমধ্যে বিশে^র বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এতদিন এই ভাইরাস বাংলাদেশের বাইরে থাকলেও এবার বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে এই করোনা ভাইরাস। এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত অনেকে মারাও গিয়েছেন।

ফলে এই করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সারাদেশেই একটি দুর্যোগকালিন অবস্থা বিরজমান করছে। নি¤œশ্রেণির মানুষজন পড়েছেন অনেক বিপদে। তাদের সহযোগিতায় অনেক বিত্তশালীরাই এগিয়ে আসতে শুরু করেছেন। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এখন পর্যন্ত এগিয়ে আসছেন না। তিনি নিজেকে শুধুমাত্র দোয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন।

স্থানীয় সূত্র বলছে, গত ২০ মার্চ নারায়ণগঞ্জ মাসদাইর কবরস্থান জামে মসজিদে জুম্মা’র নামাজ আদায় শেষে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন পৃথিবীব্যাপী যে মহামারীর আক্রমনে মানব স¤প্রদায় আজকে কঠিন মুহূর্তে উপনিত হয়েছে সেখানে একমাত্র সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ ও তার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার নেই। এর আগে তিনি দেশের মানুষকে মহামারী থেকে রক্ষা করার জন্য কুরআন খতম ও আল্লাহর কাছে দোয়া প্রার্থনা। আর এ পর্যন্তই তিনি সীমাবদ্ধ থেকে গেছেন।

এর আগেও দেশের দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত এলাকা, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছিলেন লিপি ওসমান। তাঁর নামে পরিচালিত ‘লিপি ওসমান সাপোর্টার্স ফোরাম’ এসব জনসম্পৃক্ত কাজগুলো করে আসছে।

একইভাবে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানের উদ্যোগে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশকে ১০ হাজার মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদান করা হয়েছে।

গত ২৫ মার্চ বিকেলে অয়ন ওসমানের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিন ও জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বরাবর দশ হাজার মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রদান করেন। এছাড়াও তার অনুগামীরা নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছেন।

গত বছর ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যখন বেড়ে গিয়েছিল তখনও অয়ন ওসমানের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকাতে ফগার মেশিন দিয়ে মশার ওষুধ ছিটানো হয়েছিল। সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডের পাশাপাশি সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানেও চলে মাসব্যাপী এ কার্যক্রম।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও