কমিটি বিহীন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রস্তুতি নেই জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৬ পিএম, ২৯ মে ২০২০ শুক্রবার

কমিটি বিহীন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রস্তুতি নেই জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি বাতিল হওয়ার ইতোমধ্যে তিন মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটিও মামলা সংক্রান্ত জটিলটায় কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। সেই সূত্র ধরে বর্তমানে কমিটি ছাড়াই চলছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি।

এরই মধ্যে চলে এসেছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। আর এই মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বিএনপি ১১ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেই কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নেই কমিটি বিহীন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপিতে। কর্মসূচি তাদের ঘনিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কোনো প্রস্তুতির খবর শুনা যায়নি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রতিবছর শহরজুড়ে ব্যানার ফেস্টুন দেখা গেলেও এবার সেটাও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যদিও প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমের কারণে সবকিছুই সীমিত আকার চলে আসছে। তবে ইচ্ছা থাকলে অনেক কিছুরই উপায় হয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৮ মে ভিডিও কনফারেন্সে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১১ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ৩০ মে সকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সকল মহানগর ও জেলা কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন, বেলা ১১টায় ঢাকায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শুধু মাত্র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিকেল সাড়ে তিনটায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা।

এ ছাড়া ১ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের কর্মকান্ডের ওপরে বিষয়ভিত্তিক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হবে যেখানে দেশের কয়েকজন বরণ্যে বুদ্ধিজীবী ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বক্তব্য রাখবেন বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। একই সাথে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ বছর রাজধানীর মহানগরের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দুঃস্থদের মধ্যে প্রস্তুত করা খাদ্যের পরিবর্তনে খাদ্য সামগ্রী, বস্ত্র বিতরণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তবে এসব সামগ্রী বিতরণকালে কোনোভাবেই কোনো সমাবেশ করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় বিএনপির ঘোষিত এসকল কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে কমিটি বিহীন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির এখন পর্যন্ত কোন প্রস্তুতির খবর পাওয়া যায়নি। সেই সাথে সকল মহানগর ও জেলা কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করার কথা বলা হলেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয় নেই প্রায় তিন বছর ধরে।

দলীয় সূত্র বলছে, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী জেলা বিএনপির ২৬ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। জেলা বিএনপির সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। তবে ওই কমিটি নারায়ণগঞ্জ তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি।

এরপর ২০১৯ সালের ২৩ মার্চ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান এবং সেক্রেটারী অধ্যাপক মামুন মাহমুদ সহ ২০৫ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দিয়েছিলেন। আর এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিও দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে জোড়ালো কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। যার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে নতুন কমিটির উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি।

সেই সূত্র ধরে চলমান কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। গত ২১ ফেব্রুয়ারী দলের সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার কথা বলা হহয়। সেই সাথে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নতুন কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলার অধীন সব উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যক্রম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের পরামর্শে পরিচালিত হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটির বিলুপ্ত হওয়ার পরপরই নতুন কমিটি নিয়ে নানা আলাপ আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু এরই মধ্যে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ফলে নতুন কমিটি গঠনের সকল প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। এখনও সেই কিমিটি বিহীন অবস্থায় রয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি।

এদিকে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক তিনবারের এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে সভাপতি ও বিলুপ্ত নগর বিএনপির সেক্রেটারী এটিএম কামালকে সাধারন সম্পাদক করে মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মহানগরেরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলে নেতাকর্মীদের আপত্তির ভিত্তিতে সেই কমিটি স্তগিত হয়ে যায়। এরপর সেই কমিটিতে অনেক যোজন বিয়োজন করে ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর বুধবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর স্বাক্ষরিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার দুই সপ্তাহ পরেই ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালতে মহানগরের ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলজার খান ও একই ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (পৌরসভাকালীন) বিএনপি নেতা নূর আলম শিকদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আর এ দুইজনই মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত।

মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে।

এই মামলার প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটির র্কার্যক্রমে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত। ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বাদী পক্ষের আইনজীবীদের অন্তবর্তীকালী নিষেধাজ্ঞা আবেদনের প্রেক্ষিতে বেলা ১১ টায় একদফা এবং দুপরে আরেক দফা সহ মোট দুই দফায় শুনানী শেষে বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালত এই আদেশ দেন।

এরপর থেকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কার্যক্রমও স্থগিত হয়ে যায়। সেই সাথে দেখা দেয় প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমন। ফলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি অমিমাংসিত অবস্থায়ই থেকে যাচ্ছে গত কয়েকমাস ধরে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও