এক দশকেই ডজন খুন, সন্ত্রাসের ভয়াল অভয়ারণ্য কালাপাহাড়িয়া

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৭ পিএম, ২৫ জুন ২০২০ বৃহস্পতিবার

এক দশকেই ডজন খুন, সন্ত্রাসের ভয়াল অভয়ারণ্য কালাপাহাড়িয়া

আইনের শাসন কিংবা মানুষের জীবন, সবই যেন তুচ্ছ মেঘনা নদী পরিবেষ্টিত নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল কালাপাহাড়িয়া। আধিপত্য বিস্তার, মেঘনার অবৈধ বালু উত্তোলন, বালু বাহি বাল্কহেডে চাদাবাজি, চরদখল, মাছের ঘের দখলে রাখতে এই এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী বাহিনী।

এক সময় ট্রাক্টর চালিয়ে কিংবা মোবাইলের সিম কার্ড বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা অনেক সন্ত্রাসীরই এই চরাঞ্চলে এখন রয়েছে আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ী। গত এক দশকেই কালাপাহাড়িয়ায় পুলিশ কন্সটেবলসহ খুনের শিকার হয়েছেন এক ডজন মানুষ।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুরো এলাকা দাপিয়ে বেড়ালেও এলাকার সাধারন মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না। এমনকি গণমাধ্যম কর্মীরাও এই এলাকায় সংবাদ সংগ্রহে গেলে নিজের পরিচয় গোপন করেই কাজ করছেন। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সর্বশেষ গত ২৭ মে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাবেক ইউপি মেম্বার আব্দুল হকের বিরোধে প্রান হারায় অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র আইয়ুব আলী।

সরজমিন ঘুরে ও স্থানীয় লোক জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, চারদিকে মেঘনা নদী পরিবেষ্টিত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তরে ব্রাক্ষনবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, দক্ষিনে কুমিল্লার মেঘনা থানা, পুর্বে কুমিল্লার হোমনা এবং পশ্চিমে আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ থানা।

চারদিকে নদী পরিবেষ্টিত হওয়ার কারণে সন্ত্রাসীরা অপকর্ম করে দ্রুত এসব এলাকায় পালিয়ে যায়। এলাকাটি দুর্গম হওয়ার কারণে আড়াইহাজার সদর থেকে পুলিশ এলাকায় ট্রলারে বা নৌকায় পৌছতে সময় লাগে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। ফলে পুলিশ পৌছার আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় পাশের জেলায়। যে কারণে তারা বেশীর ভাগ সময় থাকে ধরাছোয়ার বাইরে।

জানা গেছ, আড়াইহাজারে কদমীরচরে আছে জয়নাল বাহিনী, আব্দুস সাত্তার বাহিনী, ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম বাহিনী এবং সাবেক ইউপি মেম্বার আব্দুল হক বাহিনী। এসব বাহিনীর সদস্যদের হাতে আছে দেশী ও বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র।

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গত এক দশকে এসব সন্ত্রাসীরা নদীতে বালু উত্তোলন, চরদখল, মাছের ঘের দখল, বালুবাহী বাল্কহেডে চাঁদাবাজি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

স্থানীয়রা জানান, আব্দুস সাত্তার আট দশ বছর আগে এলাকায় ফেরী করে মোবাইল কার্ড বিক্রি করতো। জয়নাল আবেদীন অন্যের জমিতে ট্রাক্টর চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু নদীর বালু অবৈধভাবে উত্তোলন, বাল্কহেডে চাঁদাবাজি করে খুব অল্প সময়ে তারা বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক বনে গেছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত এক দশকে শুধু কালাপাহাড়িয়ার কদমীর চরেই খুন হয়েছেন আব্দুস সালাম, লাল মিয়া, আমান, আব্দুর রব, বেতের, মোতা, আব্দুল, হাসুন, আব্দুস সালাম, মধ্যারচরের রোজিনা, সুজন এবং অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র আইযুব আলী। গ্রামবাসীর দাবী, এসব বাহিনীর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করলেই এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।

এ ব্যাপারে জয়নাল আবেদীন, আব্দুস সাত্তার, ছাত্রলীগনেতা সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্য জানার তাদরে ব্যহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল কলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনরে বিরুদ্ধেও রয়েেছ আধপিত্য বিস্তার ও গ্রুপিং এর অভেিযাগ।

২০১৭সালে পুলিম কন্সটেবল রুবলে হত্যা মামলায় তিনি ছিলেন অন্যতম আসামী। তবে চেয়ারম্যান স্বপন দাবী করনে, আমি ছাত্রলীগ করে তুনমূল র্পযায় থেেক এখানে এসেছি কিন্তু নব্য আওয়ামীলীগাররা এই এলাকাটি অশান্ত করার চষ্টো করছে। পুলশি সদস্য রুবলে হত্যা মামলায় তদন্ত করে পুলিশ আমার সম্পৃক্ততা পায়নি বলইে অভিযোগপত্রে আমার নাম নেই। মূলত এলাকায় শান্তি চাই বলেই আমার বিরুদ্ধে একাধকি সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: জায়েদুল আলম বলেন, সম্প্রতি কালাপাহাড়িয়া কদমিরচর, রাধানগর, মধ্যারচরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশের নেতৃত্বে কম্বিং অপারেশন চালানো হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, আমাদের তদন্তে এই পর্যন্ত কালাপাহাড়িয়াকে অশান্ত করে রাখার পেছনে চার থেকে পাচঁটি বাহিনীকে চিহিৃত করা হয়েছে। এসব বাহিনীর সাঙ্গ-পাঙ্গদের নামও আমাদের কাছে এসেছে। কোন অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও