হুংকারেই শেষ এমপি খোকা

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪১ পিএম, ২৬ জুন ২০২০ শুক্রবার

হুংকারেই শেষ এমপি খোকা

নারায়ণগঞ্জ-৩ তথা সোনারগাঁও আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। জাতীয় পার্টির টিকেটে টানা দুইবারের এমপি। এর মধ্যে রয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা। তবে বেশ কিছু ইস্যুতে তাঁর বিবৃতি আর কণ্ঠের প্রতিবাদেই শেষ হতে দেখা যায় তেজদীপ্ত উচ্চারণ। মিডিয়া কাভারেজের পরেই চুপ হয়ে যান তিনি। সোনারগাঁয়ে বঙ্গবন্ধুর খুনী মাজেদের লাশ দাফনের পরে দেখা যায় সে চিত্র। সেই লাশ তুলে মেঘনায় ভাসিয়ে দিবে হুংকার দিলেও সেটা ছিল নিছক স্ট্যান্টবাজি। গণমাধ্যমে সেই বিবৃতি প্রকাশের পরেই কার্যত চুপসে যান এ নেতা। ফলে কোন হুংকারই আর বাস্তবায়ন করতে পারেন নাই এ নেতা।

এর এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে সাঁটানো সকল ব্যানার ফেস্টুন গায়েবের ঘটনায়ও তিনি কড়া বিবৃতি দিয়েছেন।

জানা যায়, গত ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন সাঁটানো হয়।

সম্প্রতি কে বা কারা বঙ্গবন্ধুর সেই সব ব্যানার ফেস্টুন উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে ফেলেছে। এনিয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাদের দাবি, স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি এই জঘন্যতম কাজ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান তারা।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় পার্টির ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীর ব্যানার ফেস্টুন সরিয়ে ফেলাই প্রমাণ করে যে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি এখনও থেমে নেই। পাকিস্তানের এই প্রেতাত্মাদের শিরায় উপশিরায় ষড়যন্ত্রের রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। আমি তাদেরকে ছাড় দিবো না।

এর আগে বঙ্গবন্ধুর খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকরের পর লাশ দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। স্বাভাবিকভাবে গ্রামের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিনে তার লাশ দাফন হওয়ার কথা। কিন্তু সেখানকার মানুষের প্রতিবাদের মুখে ফাঁসি কার্যকরের পর ১১ এপ্রিল দিবাগত রাত তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। পরদিন লাশ দাফনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন। দিনভর কয়েক দফায় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের এখন একটাই দাবি, লাশ অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে; সোনারগাঁকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে।

ওই সময়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি মাজেদের লাশ রাতের আঁধারে সোনারগাঁয়ে দাফন করায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ।

এক বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির সাংসদ খোকা বলেন, খুনি মাজেদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার মাধ্যমে সমগ্র বাঙালি জাতিকে কলঙ্কিত করেছে । জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণের দায়ে ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদের মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পর তার লাশ সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের সাতগ্রাম কবরস্থানে চুপিসারে দাফন করায় সোনারগাঁবাসী কলঙ্কিত হয়েছে। তার লাশ সোনারগাঁয়ের পবিত্র মাটিতে রাখতে দেয়া হবে না।

বিবৃতিতে সাংসদ বলেন, ঈশা খাঁর রাজধানী প্রাচীন বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানা বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ সোনারগাঁয়ে সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ্, ঐতিহাসিক পাঁচ পীরের দরগাহ্, সুলতান দানেশ মান্দ, উপমহাদেশের প্রথম ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শেখ শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা রহ.সহ অসংখ্য পীর আউলিয়ারা শায়িত আছেন। শুধু দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাড়ির সূত্রে জাতির জনকের আত্মস্বীকৃত খুনি মাজেদের কলঙ্কিত লাশ সোনারগাঁয়ে দাফন করায় সোনারগাঁ উপজেলা মহাজোট ও জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দসহ সমগ্র সোনারগাঁবাসী কলঙ্কিত হয়েছে। প্রয়োজনে খুনি মাজেদের লাশ কবর থেকে অপসারণ করে মেঘনা নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে সোনারগাঁকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত মাজেদ ২৩ বছর ধরে পলাতক ছিলেন। গত ৬ এপ্রিল মধ্যরাতে রিকশায় ঘোরাঘুরির সময় তাকে মিরপুর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

খোকা টানা দুই মেয়াদ ধরে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের আওয়ামীলীগের সমর্থনে সোনারগাঁ আসনে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। আওয়ামীলীগের সমর্থন পেয়ে সোনারগাঁ আসনের এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসলেও তার সমর্থন থাকে সবসময় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর দিকে। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচনের আগে সোনারগাঁ পৌরসভার নির্বাচনেও তিনি আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীকে তিনি সমর্থন দিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তার সমর্থিত প্রার্থীই নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।

জানা যায়, এর আগে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সোনারগাঁ পৌরসভার নির্বাচনেও লিয়াকত হোসেন খোকা আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাদেকুর রহমানকে সমর্থন দিয়েছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সমর্থিত প্রার্থীর বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী পক্ষে কাজ করেছিলেন। এটা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বেশ ক্ষোভও পরিলক্ষিত হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তার সমর্থিত প্রার্থীই জয় হয়েছিল।

একই সাথে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশীদেরকে প্রাধান্য না দিয়ে লিয়াকত হোসেন খোকাকেই জাতীয় পার্টি থেকেই মনোনয়ন দেয়া হয়। আর দুই মেয়াদেই স্থানীয় সহ বিভিন্ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতারা বিরোধীতা করেছিলেন। তারপরেও লিয়াকত হোসেন খোকাকেই এই আসনটিতে ছাড় দিয়ে আসছে আওয়ামীলীগ। এর বিনিময়ে লিয়াকত হোসেন খোকা সবসময় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী পক্ষকে শক্তিশালী করার দায়িত্ব পালন করছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও