জীবিত নিয়াজুল আলোচনায় মৃত লাল ভুলে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১০ পিএম, ২৭ জুন ২০২০ শনিবার

জীবিত নিয়াজুল আলোচনায় মৃত লাল ভুলে

নারায়ণগঞ্জের এক সময়ের আলোচিত জুটির একজন মাহতাবউদ্দিন লাল ও অপরজন নিয়াজুল ইসলাম। লাল মারা গেছেন ৮ বছর আগে। কিন্তু মৃত্যুবার্ষিকীতে কেউ মনে রাখেনি তাঁকে। অপরদিকে নিয়াজুল আলোচনায় ছিলেন ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী চাষাঢ়ায় হকার ইস্যুতে সংঘর্ষের ঘটনায়। সেদিন তার প্রকাশ্য পিস্তল উচিয়ে তোলার ঘটনা বেশ আলোচিত হয়।

২৬ জুন অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকীতে ছোট ভাই মাসুম মোশাররফ লিখেছেন , তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘আজ ২৬ শে জুন, এই দিনটি আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বেদনাদায়ক। আট বছর আগে ২০১২ সালের এই দিনে আমার বড় ভাই মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ (লাল) আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে। জানি কারো মনে নেই, অপ্রয়োজনীয় কিছু কেও মনে রাখেনা একেবারে কাছের লোক ছাড়া, এটাই চিরন্তন সত্য। স্বজন হারানোর বেদনা শুধু স্বজন রাই অনুভব করতে পারে। আট বছর হলো অনেক নেতার অনেক ছবি দেখি, অমুক নেতার এতো তম মৃত্যুবার্ষিকী কিন্তু আমার ভাইয়ের গত ৮টি বছর কাউকে দেখলাম না একটা ব্যানার ও লাগাতে, মনে হয় তার বন্ধু মহল জানেও না তাঁর মৃত্যু দিবস কবে অথচ জীবিত অবস্থায় তার কতো বন্ধু বান্ধব, ছোট ভাই, রাজনৈতিক সহচর, বড় ভাই ছিল, যাদের জন্য সারা জীবন শুধু দিয়ে গেছেন।’

তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘আজ ২৬ শে জুন, এই দিনটি আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বেদনাদায়ক। আট বছর আগে ২০১২ সালের এই দিনে আমার বড় ভাই মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ (লাল) আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে।

‘জানি কারো মনে নেই, অপ্রয়োজনীয় কিছু কেও মনে রাখেনা একেবারে কাছের লোক ছাড়া, এটাই চিরন্তন সত্য। স্বজন হারানোর বেদনা শুধু স্বজন রাই অনুভব করতে পারে।’

‘আট বছর হলো অনেক নেতার অনেক ছবি দেখি, অমুক নেতার এতো তম মৃত্যুবার্ষিকী কিন্তু আমার ভাইয়ের গত ৮টি বছর কাউকে দেখলাম না একটা ব্যানার ও লাগাতে, মনে হয় তার বন্ধু মহল জানেও না তাঁর মৃত্যু দিবস কবে অথচ জীবিত অবস্থায় তার কতো বন্ধু বান্ধব, ছোট ভাই, রাজনৈতিক সহচর, বড় ভাই ছিল, যাদের জন্য সারা জীবন শুধু দিয়ে গেছেন।’

‘আমার ভাই অনেক আবেগী এবং চাপা প্রকৃতির লোক ছিল, সে সব সময় বকঝকা করতো কিন্তু যাকে বকতো তার ভালোর জন্যই বকতো হয়তোবা সে বুঝতোনা।’

‘সারা জীবন শুধু বন্ধু- বান্ধব আর রাজনীতির কথাই চিন্তা করতো। বন্ধুদের নিয়ে সে অনেক আবেগপ্রবণ ছিল, যখন ফেরারী হয়ে ভারতে ছিলো থ্রি ইডিয়ট ছবিটা তার অনেক প্রিয় ছিলো যতোবার সে এই ছবিটা দেখতো আর লুকায়ে লুকায়ে কাঁদতো।’

‘আমার ভাইটা ছোট থেকেই একটু সহজ সরল প্রকৃতির লোক ছিল, সে কখনো-ই কোন অভিযোগ বা বায়না করতো না, যা পাইতো তাতেই খুশি ছিলো, কোন অনুযোগ ছিলোনা।’

‘আমরা পাঁচ ভাই বোন ছিলাম। যখন এক সাথে খাওয়া দাওয়া করতাম তখন কেও যদি সব খাবার খেতে না পারতাম আর লাল কে বলতাম, লাল খাবি তো ভাই আমার কোন জড়তা ছাড়াই বলতো দে।’

‘আমার ভাই কখনো কারো নামে কোন অভিযোগ করতো না এবং এটা তার মৃত্যুর আগ পযন্ত ও সে কখনো করেনি। সবাই আমার ভাইকে মাফ করে দিবেন আর তার জন্য দোয়া করবেন যেনো রাব্বুল আলামিন তাকে বেহেস্ত নসীব করে।’

২০১২ সালে মাহতাবউদ্দিন লাল মারা যান। ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। লাল নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিগত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৯৮ সালে বন্যার সময়ে শহরের চাষাঢ়ায় রেলস্টেশন এলাকায় সেনাবাহিনীর এক সদস্যের সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় সেদিন তাকে বেধড়ক পিটুনির শিকার হতে হয়েছিল। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে গিয়েছিলেন তিনি। ২০০৭ সালের ভারতে পালিয়ে থাকার সময়ে ওই বছরের ১ মে তার বিরুদ্ধে লাল নোটিশ (রেড ওয়ারেন্ট) জারি করেছিল ইন্টারপোল। পরে ২০১০ সালের মার্চ মাসে সে ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে লাল দেশে চলে আসেন। কিন্তু জনসম্মুখে আসেনি। ওই সময়ে পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছিলেন অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবন থেকে লাল স্বাভাবিক পথে আসার চেষ্টা করেছিল। চেষ্টা করেছিল অতীত ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করে ভালো পথে আসার। সে পথে অনেকটা এগিয়েও গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার সে আশা পূরণের আগেই তাকে চলে যেতে হয়েছে না ফেরার দেশে।

লাল

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জে আলোচিত জুটিদের মধ্যে একটি মাহতাবউদ্দিন লাল ও নিয়াজুল। তাদের মধ্যে লাল মারা গেছেন। জীবিত আছেন নিয়াজুল। তিনি এখন যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০১২ সালের ৮ জুন মাহতাবউদ্দিন লাল মারা যান। ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। লাল নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিগত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৯৮ সালে বন্যার সময়ে শহরের চাষাঢ়ায় রেলস্টেশন এলাকায় সেনাবাহিনীর এক সদস্যের সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় সেদিন তাকে বেধড়ক পিটুনির শিকার হতে হয়েছিল। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে গিয়েছিলেন তিনি। ২০০৭ সালের ভারতে পালিয়ে থাকার সময়ে ওই বছরের ১ মে তার বিরুদ্ধে লাল নোটিশ (রেড ওয়ারেন্ট) জারি করেছিল ইন্টারপোল। পরে ২০১০ সালের মার্চ মাসে সে ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে লাল দেশে চলে আসেন। কিন্তু জনসম্মুখে আসেনি। ওই সময়ে পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছিলেন অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবন থেকে লাল স্বাভাবিক পথে আসার চেষ্টা করেছিল। চেষ্টা করেছিল অতীত ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করে ভালো পথে আসার। সে পথে অনেকটা এগিয়েও গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার সে আশা পূরণের আগেই তাকে চলে যেতে হয়েছে না ফেরার দেশে।

নিয়াজুল

২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ নগরের চাষাঢ়ায় ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে মেয়র আইভী ও তাঁর সমর্থকদের ওপর হকার ও আওয়ামীগের লোকজন হামলা চালান। এতে মেয়র আইভীসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। হামলার সময় নিয়াজুল ইসলামকে পিস্তল উচিয়ে ধরতে দেখা যায়। ওই ঘটনায় জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসীম উদ্দিন হায়দারকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটিকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঘটনার পরদিন ১৭ জানুয়ারি মেয়র আইভীর সমর্থক ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অস্ত্র ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নিয়াজুল। ঘটনার ৬দিন পর ২২ জানুয়ারি মেয়র আইভীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নিয়াজুলসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১ হাজার জনকে আসামি করে সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা জিএমএ সাত্তার সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

১৬ জানুয়ারী ঘটনার সময়ে খোঁয়া যাওয়া নিয়াজুল ইসলামের অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয় ২৫ জানুয়ারী রাতে। সেদিন শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে সাধু পৌলের গির্জার সামনের একটি ফুলের টব থেকে পলিথিন মোড়ানো অবস্থায় অস্ত্রটির সন্ধান পায় পুলিশ। ইতালির তৈরি ৭ পয়েন্ট ৬ বোরের পিস্তলটির সঙ্গে ম্যাগজিন ভর্তি ১০ রাউন্ড গুলি ছিল। এটি তার লাইসেন্স করা অস্ত্র।

হকার ইস্যুতে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনার ৮দিন পর ২৪ জানুয়ারী রাতে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জয়নাল আবেদীন বাদী মামলাটি দায়ের করেন। এতে ১৬ জানুয়ারী বিকেলে শহরের চাষাঢ়ায় সরকারী কাজে বাধা, জনস্বার্থ বিঘিœত, পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। হামলার ঘটনায় পুলিশের ৫ সদস্য আহত হয়েছে মামলায় অভিযোগে অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫ শ জনকে আসামী করা হয়।

চাঁদমারী এলাকার বাসিন্দা নিয়াজুল ইসলাম খান যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি এলজিইডির ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ১৯৮৬ সালে এরশাদের সময় নাসিম ওসমান সাংসদ হলে নিয়াজুলের উত্থান হয়। ১৯৮৮ সালে সংঘটিত জোড়া খুনের (কামাল ও কালাম) মামলার আসামি ছিলেন তিনি। নিজেকে যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে চলতেন।

নগরের চাঁদমারীতে সেনাবাহিনীর জায়গার বস্তি নিয়ন্ত্রণ করতেন নিয়াজুল ইসলাম। এক-এগারোর সময় সেনাবাহিনী ওই বস্তি উচ্ছেদ করে।

নিয়াজুল ইসলামের ভাই যুবলীগের ক্যাডার নজরুল ইসলাম ওরফে সুইট বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকারের আমলে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও