শামীম ওসমানের সেই লালের মৃত্যুবার্ষিকীতে আক্ষেপ পরিবারের

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১২ পিএম, ২৭ জুন ২০২০ শনিবার

এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে মাহতাবউদ্দিন লালের (গোল চিহ্নিত) একটি ফাইল ফটো।
এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে মাহতাবউদ্দিন লালের (গোল চিহ্নিত) একটি ফাইল ফটো।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জে আলোচিতদের একজন মাহতাবউদ্দিন লাল। পরিবারের ভাষ্যমতে ২৬ জুন ছিল তার অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী। কিন্তু এ মৃত্যুবার্ষিকীর দিনেও কেউ মনে রাখেনেনি তাঁকে। আর সে কারণেই এ নিয়ে আক্ষেপ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। ছোট ভাই মাসুম মোশারফের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে উঠে এসেছে আক্ষেপ হতাশা ও ক্ষোভের কথা।

তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘আজ ২৬ শে জুন, এই দিনটি আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বেদনাদায়ক। আট বছর আগে ২০১২ সালের এই দিনে আমার বড় ভাই মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ (লাল) আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে।

‘জানি কারো মনে নেই, অপ্রয়োজনীয় কিছু কেও মনে রাখেনা একেবারে কাছের লোক ছাড়া, এটাই চিরন্তন সত্য। স্বজন হারানোর বেদনা শুধু স্বজন রাই অনুভব করতে পারে।’

‘আট বছর হলো অনেক নেতার অনেক ছবি দেখি, অমুক নেতার এতো তম মৃত্যুবার্ষিকী কিন্তু আমার ভাইয়ের গত ৮টি বছর কাউকে দেখলাম না একটা ব্যানার ও লাগাতে, মনে হয় তার বন্ধু মহল জানেও না তাঁর মৃত্যু দিবস কবে অথচ জীবিত অবস্থায় তার কতো বন্ধু বান্ধব, ছোট ভাই, রাজনৈতিক সহচর, বড় ভাই ছিল, যাদের জন্য সারা জীবন শুধু দিয়ে গেছেন।’

‘আমার ভাই অনেক আবেগী এবং চাপা প্রকৃতির লোক ছিল, সে সব সময় বকঝকা করতো কিন্তু যাকে বকতো তার ভালোর জন্যই বকতো হয়তোবা সে বুঝতোনা।’

‘সারা জীবন শুধু বন্ধু- বান্ধব আর রাজনীতির কথাই চিন্তা করতো। বন্ধুদের নিয়ে সে অনেক আবেগপ্রবণ ছিল, যখন ফেরারী হয়ে ভারতে ছিলো থ্রি ইডিয়ট ছবিটা তার অনেক প্রিয় ছিলো যতোবার সে এই ছবিটা দেখতো আর লুকায়ে লুকায়ে কাঁদতো।’

‘আমার ভাইটা ছোট থেকেই একটু সহজ সরল প্রকৃতির লোক ছিল, সে কখনো-ই কোন অভিযোগ বা বায়না করতো না, যা পাইতো তাতেই খুশি ছিলো, কোন অনুযোগ ছিলোনা।’

‘আমরা পাঁচ ভাই বোন ছিলাম। যখন এক সাথে খাওয়া দাওয়া করতাম তখন কেও যদি সব খাবার খেতে না পারতাম আর লাল কে বলতাম, লাল খাবি তো ভাই আমার কোন জড়তা ছাড়াই বলতো দে।’

‘আমার ভাই কখনো কারো নামে কোন অভিযোগ করতো না এবং এটা তার মৃত্যুর আগ পযন্ত ও সে কখনো করেনি। সবাই আমার ভাইকে মাফ করে দিবেন আর তার জন্য দোয়া করবেন যেনো রাব্বুল আলামিন তাকে বেহেস্ত নসীব করে।’

২০১২ সালে মাহতাবউদ্দিন লাল মারা যান। ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। লাল নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিগত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৯৮ সালে বন্যার সময়ে শহরের চাষাঢ়ায় রেলস্টেশন এলাকায় সেনাবাহিনীর এক সদস্যের সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় সেদিন তাকে বেধড়ক পিটুনির শিকার হতে হয়েছিল। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে গিয়েছিলেন তিনি। ২০০৭ সালের ভারতে পালিয়ে থাকার সময়ে ওই বছরের ১ মে তার বিরুদ্ধে লাল নোটিশ (রেড ওয়ারেন্ট) জারি করেছিল ইন্টারপোল। পরে ২০১০ সালের মার্চ মাসে সে ওয়ারেন্ট প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে লাল দেশে চলে আসেন। কিন্তু জনসম্মুখে আসেনি। ওই সময়ে পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছিলেন অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবন থেকে লাল স্বাভাবিক পথে আসার চেষ্টা করেছিল। চেষ্টা করেছিল অতীত ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করে ভালো পথে আসার। সে পথে অনেকটা এগিয়েও গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার সে আশা পূরণের আগেই তাকে চলে যেতে হয়েছে না ফেরার দেশে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও