ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের বিপরীতে বাদল দম্পতি

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪০ পিএম, ৪ জুলাই ২০২০ শনিবার

ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়ের বিপরীতে বাদল দম্পতি

সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদল ও তার স্ত্রী কেন্দ্রীয় মহিলা লীগ নেতা নাহিদা হাসনাত। কিন্তু শেষতক তারা কেউ মনোনয়ন পায়নি। বরং নির্বাচনের সময়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী না দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী সরব ছিলেন বাদল।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পরদিন ৯ নভেম্বর মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে আওয়ামীলীগ। এদিকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের প্রথমদিন থেকেই গুঞ্জন চলছিল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক ভিপি ও কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদা হাসনাত। মনোনয়ন সংগ্রহ করার বিষয়টি কয়েকটি গণমাধ্যমেও প্রচার হতে থাকে। তবে এ বিষয়ে নাহিদা হাসনাতের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এমন অবস্থায় ভিপি বাদল ও তার স্ত্রী নাহিদা হাসনাতের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগসহ তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে এক প্রকার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তার পাশাপাশি একেক গণমাধ্যমে নাহিদা হাসনাতের মনোনয়ন বিষয়ে একেক সংবাদে বিভ্রান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

এতো কিছুর পর ১৪ নভেম্বর জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগের সভাপতি জসিমউদ্দিন জসিম তাঁর ফেসবুক একাউন্টে লেখেন, ‘নাহিদা হাসনাত নারায়ণগঞ্জ ৪ ও ৫ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।’ জসিম ভিপি বাদলের অনুসারী বলে পরিচিত।

পরবর্তীতে ভিপি বাদল বলেন, ‘জসিম আমার ছোট ভাইয়ের মতো। নির্বাচন সম্পর্কে এবং মনোনয়ন সম্পর্কে তেমন কিছু বোঝে না। রাজনীতি সম্পর্কে বোঝে না। আমি ও আমার স্ত্রী দু’জনই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। আর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নাহিদা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেনি।’

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সাংসদ একেএম শামীম ওসমান যিনি ভিপি বাদলের ঘনিষ্ট বন্ধু। বন্ধুর আসনে বন্ধু পতœী প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ব্যাপারটি প্রচার হবার পর থেকেই বেশ আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাব বিস্তারকারী ওসমান পরিবারের ঘনিষ্টজন হিসেবেই একসময় পরিচিত অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ বাদল। আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে তার উত্থান হয়েছে ওসমান পরিবারের মাধ্যমে। কিন্তু জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদ পাওয়ার পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রহস্যজনকভাবে ওসমান পরিবারের উল্টো দিকে হাটতে শুরু করেন আবু হাসনাত শহীদ বাদল।

তবে বার বারই বাদল থাকেন ক্ষমতার পেছনে। ক্ষমতার চেয়ার যেদিকে বাদল সেদিকেই নিজেকে মেলে ধরেন। ২০০৯ সালে যখন উপজেলা নির্বাচন তখন চেয়ারম্যান হওয়ার জন্য প্রার্থী হন বাদল। সঙ্গে আরো দুইজন ছিলেন আওয়ামী লীগের। তারা ছিলেন বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবদুল কাদির। কিন্তু তিনজনই পরাজিত হন। পরবর্তীতে ওই সময়ের এমপি নাসিম ওসমানকে ম্যানেজ করে বনে যান নারায়ণগঞ্জ কলেজের গভর্নিংবডির সভাপতি। ওই সময়েও তার বিরুদ্ধে উঠে নানা অভিযোগ। এছাড়া রেলওয়ের জমি দখল সহ নানা অভিযোগে বিদ্ধ হতে থাকেন বাদল। এক পর্যায়ে তাকে নারায়ণগঞ্জ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি থেকে বাদ দেওয়া হয়।

নির্বাচনের বছরেই নৌকা ও লাঙ্গল ইস্যুতে জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানকে নিয়েও কথা বলেছিলেন বাদল। পরে আবার এ ব্যাপারে সেলিম ওসমান শহীদ বাদলকে স্নেহের বাদল উল্লেখ করে বলেন, আমার দাদা খান সাহেব ওসমান আলী প্রায়শই একটি কথা বলতেন। আমার দাদার সেই কথাটিই বলছি ‘আগের দিন আর নাইরে নাতি, খাবলাইয়া খাবলাইয়া খাতি’। ২০১৪ সালের ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আমার উপনির্বাচনের সময় বাদল অনেক পরিশ্রম করেছিল। তিনিও দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সাথে থেকে তাঁর কাছ থেকে উন্নয়নের রাজনীতি শিখতে পারেনি। তিনি দলে বিভেদ সৃষ্টি করার রাজনীতি শিখেছেন। আমি মনে করি বাদলকে উন্নয়নের রাজনীতি শিখতে হলে আগে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নারায়ণগঞ্জ কলেজের তহবিলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া দরকার। যে প্রতিষ্ঠানটিতে উনি দীর্ঘ সময় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। উনি সরকারী তোলারাম কলেজের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেডে আমার ছোট ভাই শামীম ওসমানের থেকেও ভিপি বাদলের যাতায়াত বেশি ছিল। উইজডমে বসে রাজনৈতিক কার্যক্রম করা যাবে না সংবিধানে এমন কোন নিষেধাজ্ঞা নাই। নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির কোন দলীয় কার্যালয় নাই। তাই উইজডম অ্যাটায়ার্স সবার জন্য উন্মুক্ত। আমি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য হয়েও শহরে কোথাও জমি দখল করে জাতীয় পার্টির কার্যালয় বানাই নাই। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের জন্মস্থান।

এদিকে ওসমান পবিারের সদস্যদেরকে ডিঙ্গিয়ে স্বপ্ন দেখেন নারায়নগঞ্জের রাজনীতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওসমান পরিবারের সদস্যদের সাথে পাল্লা দিয়ে তিনিও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। সাথে সাথে তার স্ত্রী কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদা হাসনাতকেও ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল না হয়ে এবার সংরক্ষিত নারী আসনে তার স্ত্রীর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে বাদল দম্পতি ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে না পক্ষে সে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে নানা রহস্য দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ ওসমান পরিবারের অন্যতম কর্ণধার শামীম ওসমানের বদোলতেই অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ বাদল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। এর আগে বিগত বিএনপির আমলেও শামীম ওসমানের আশীর্বাদে তিনি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। তাছাড়া যে কারণে বাদলের নাম সেই সরকারী তোলারাম কলেজেও শামীম ওসমানের কারণেই ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বাদল। বিগত সময়ে বাদলকে ‘লাঙল মার্কা আওয়ামী লীগার’ হিসেবেও টিট করা হতো।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও