সাংবাদিকদের দোষ দিলেন ভিপি বাদল

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৭ পিএম, ৫ জুলাই ২০২০ রবিবার

সাংবাদিকদের দোষ দিলেন ভিপি বাদল

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মুহাম্মদ শহিদ বাদল বলেন, ‘ওনি (নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান) আমার বড় ভাই। বন্ধুর বড় ভাই। বিষয়টি হলো, আমি আমার দলের নেতাকর্মীরা এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্যতা রাখি। এটা রাজনৈতিক বিষয়, রাজনৈতিক ভাষা। আসলে আমি ওনাকে ব্যক্তিগত ভাবে হিট করে কোন কথা বলি নাই। ওনি নারায়ণগঞ্জের নির্বাচিত এমপি। ওনাকে মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আমার কোন দুঃসাহস নাই ওনাকে এমপি না মানার। এটা সাংবাদিক ভাইয়েরাও যারা লিখেছেন ওনারা একটি অপ্রয়োজনীয় ভুল বুঝাবুঝি তৈরি করে দিয়েছেন।

শনিবার ৪ জুলাই রাতে মোবাইলে নিউজ নারায়ণগঞ্জকে তিনি এসব কথাগুলো বলেন।

ভিপি বাদল আরো বলেন, ‘সাংবাদিকদের সম্মান রেখেই বলছি। বিষয়টি গতকাল শেষ হয়ে গেছে। সেলিম ভাই গতকাল প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন যে, ভিপি বাদল যদি কথাটা না বলে থাকে তাহলে ‘আমার ¯েœহের বাদল’। ওনি বলেছেন, ওনি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন এ বিষয়টির জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া করি।’

বাদল বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দর মিলিয়ে ৫টি আসন। ওনাকে বুঝানো হয়েছে আমরা ওনাকে মানি না। কেন মানবো না? ওনি তো আমাদের মহাজোটের এমপি। ওনি শুধু আমাদের নারায়ণগঞ্জের অভিভাবক নয় আমি তাকে দেশের অভিভাবক মনে করি।’

বাদল বলেন, আমাদের এখন করোনার মানবিক সময়। আমরা মানুষের সেবায় একজন আরেকজন মিলে সবাই সেবায় ব্যস্ত। তাই বিষয়টি নিয়ে আমি আর কিছু বলতে চাইছি না।

সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি সেদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ করতে গিয়েছি এবং সেখানে ত্রাণ বিতরণ ছিল। এটাই ছিল মূল বিষয়। যে কথাগুলো যারা তুলে ধরেছেন ওনারাই ভালো বলতে পারবেন। তারা কোন মানসিকতায় বলেছেন আমি আসলে কোন মানসিকতায় এ কথা বলিনি। এখন করোনা বিষয়ে মানুষের খেদমত নিয়েই থাকতে চাই।’

এদিকে সাংবাদিকদের লেখার ভুল বাদলের অভিযোগ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দর প্রেসক্লাবের কয়েকজন সাংবাদিক বলেন, ‘তিনি (ভিপি বাদল) একজন রাজনৈতিক নেতা। তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন আমরা সেই বক্তব্যই প্রকাশ করেছি। তিনি বেফাঁস বক্তব্য দিয়ে যখন সমস্যায় পড়েছেন তখন সাংবাদিকদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। এমনটা শুধু তিনি নয় অনেক রাজনৈতিক নেতারাই করে থাকেন।’

এর আগে গত ২ জুলাই সংবাদের সূত্র ধরে ৩০০ শয্যা হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি সেলিম ওসমান বলেছিলেন, ‘আজকে একটি পত্রিকায় দেখলাম আমার ছবি সহ একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। বন্দরের একটি ঘটনায়। তিনি চাষাঢ়া রেলওয়ে হেড কোয়াটারে থাকতেন। একজন এমপি সাহেবের আর্শিবাদে ওনি বলে এখন লেতা (নেতা)। ওনি নাকি এখন লেতা। এ লেতা বন্দরে গিয়ে বললো, ‘সেলিম ওসমান বন্দরের এমপি না। বন্দরের উপজেলা চেয়ারম্যান বন্দরের এমপি।’ প্রশ্ন থাকবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে, এমপি সিট বদলায় দিতে পারে এটি কি করে সম্ভব হতে পারে। দুই দিনের যুগি না ভাতেরে অন্য বইলেন না। আমরা দেশটা স্বাধীন করেছি। আমরা মুক্তিযোদ্ধা। হাজার বার বলি সেলিম ওসমানের থাবা বাঘের চেয়েও ভয়ংকর। বাঘের চেয়েও ভয়ংকর সেলিম ওসমানের থাবা।’

একই দিনে দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকায় ‘সেলিম ওসমানকে মানেন না ভিপি বাদল!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। যেখানে সেলিম ওসমান ও শহিদ বাদলের ছবি ব্যবহার করা হয়।

সংবাদটিতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান। তার বদৌলতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের অনেকেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ঠিক তেমনি একজন হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। এর আগে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছিলেন শামীম ওসমানের বদৌলতে। তবে ছাত্র জীবনে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের ভিপি ছিলেন। এখানেও শামীম ওসমানের কারণেই ভিপি হন। আর ছাত্রজীবন থেকেই শামীম ওসমানের সহযোগি হিসেবে রাজনীতি করে আসছেন এবং সবসময় শামীম ওসমানের কথামতোই রাজনীতি করে আসছেন।

কিন্তু জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই একটু এঁকেবেঁকে চলার চেষ্টা করছেন। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নিজেকে আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বরাবরই তিনি হোঁচট খেয়ে আবার শামীম ওসমানের সাথেই ভিড়ছেন। তবে আবু হাসনাত শহীদ বাদল কখনও সরাসরি শামীম ওসমানের বিরোধীতা করেননি। তিনি প্রায় সময়ই বিরোধে শামীম ওসমানের বড় ভাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমানের সাথে। কিন্তু সেই বিরোধ বেশিদন জিইয়ে রাখতে পারেননি। বরাবরই তাকে সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের কাছে ফিরে আসতে হয়েছে।

এবারও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল এমপি সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন। সেলিম ওসমানকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি হিসেবে মানতে চান না।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও আওয়ামীলীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বন্দর ফরাজিকান্দা গুডলাক ক্লাবের আয়োজনে গত ২৯ জুন বৃক্ষরোপণ ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আর এই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এক পর্যায়ে জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী শহিদ বাদল বলেন, ‘বন্দরে আওয়ামী লীগের কোনো এমপি নেই। বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএ রশিদ ভাই বন্দরের এমপি’।

এ বক্তব্য নিয়ে বন্দরে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়। তাহলে কি শামীম ওসমানের বড় ভাই এমপি সেলিম ওসমানকে এমপি মানতে চান না শহিদ বাদল। এমন প্রশ্ন উঠে সকলের মনে।

এ সংবাদকের সূত্র ধরেই শহিদ বাদলের বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার দুপুরে এমপি সেলিম ওসমান বক্তব্য রাখেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও