আওয়ামী লীগ বিএনপি একাকার

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৭:৫০ পিএম, ৯ জুলাই ২০২০ বৃহস্পতিবার

আওয়ামী লীগ বিএনপি একাকার

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে আটকে থাকা বিচার ব্যবস্থাকে সচল রাখতে সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও চলমান রয়েছে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম। কিন্তু এই ভার্চুয়াল কোর্ট নিয়ে শুরু থেকেই সন্তুষ্ট হতে পারছেন না নারায়ণগঞ্জে আইনজীবীরা। প্রথমদিকে নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ আইনজীবী ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম থেকে বিরত থেকে এবার গত কয়েকদিন ধরে ভার্চুয়াল কোর্ট বাদ দিয়ে অ্যাকচুয়াল কোর্ট চালুর দাবীতে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। আর সেই আন্দোলন কর্মসূচিতে দল মত নির্বিশেষে সকল আইনজীবীই অংশগ্রহণ করছেন। আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি অথবা বামদল কোনো দলের আইনজীবীরাই বাদ যায়নি। সকল রাজনৈতিক দলের আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মে অধস্তন আদালতে ভার্চুয়ালি কার্যক্রম পরিচালনার পদ্ধতি সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। ২১ দফা ‘বিশেষ প্র্যাকটিস নির্দেশনায়’ অধস্তন আদালতের জামিন শুনানির পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়। আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০ এর ৫ ধারার ক্ষমতাবলে করোনায় নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতকল্পে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আকবর আলী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

এই নির্দেশনা জারির পর গত ১৩ মে বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা করা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এরপর নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি বিরত থাকার সিদ্ধান্ত থেকে সড়ে এসে ভার্চুয়াল কোর্টে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। সেই লক্ষ্যে গত ৩১ মে রোববার আইনজীবী সমিতির নতুন বার ভবনের নিচ তলায় ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু চলমান এই ভার্চুয়াল কোর্টে অধিকাংশ আইনজীবীই সুবিধা পাচ্ছেন না।

ফলে নারায়ণগঞ্জের আইনজীবীরা দলমত নির্বিশেষে সাধারণ আইনজীবীদের ব্যানারে গত কয়েকদিন ধরে ভার্চুয়াল কোর্ট বাদ দিয়ে অ্যাকচুয়াল কোর্টের দাবীতে টানা সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। সবশেষ ৭ জুলাই টানা ৭ম দিনের মতো সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

জানা যায়, ভার্চুয়াল কোর্ট বন্ধ করে অ্যাকচুয়াল কোর্ট চালুর জন্য আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ২৮ জুন রোববার নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর গত ২৯ জুন নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আওয়ামীলীগপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আলী আহমেদ ভূইয়া, অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ মোল্লা। তাদের সাথে বামদলের আইনজীবী হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সেই সাথে বিএনপিপন্থী আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ, অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা ও অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান শাহীন উপস্থিত ছিলেন।

গত ৩০ জুন সাধারণ আইনজীবীদের ব্যানারে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আওয়ামী লীগপন্থী অন্যান্য আইনজীবীদের সাথে বন্দর যুবলীগের সভপতি অ্যাডভোকেট হাবিব আল মুজাহিদ পলু উপস্থিত ছিলেন।

গত ২ জুলাই নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আওয়ামী লীগ, বিএনপিপন্থী ও বামপন্থী আইনজীবীদের সাথে সাথে বিএনপির আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষাণী উপস্থিত ছিলেন। গত ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসূফ খান টিপু, অ্যাডভোকেট আজিজ আল মামুন ও অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপুল সহ বিএনপিপন্থী অন্যান্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

সবশেষ ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত মানবন্ধনে বিএনপিপন্থী আইনজীবী নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাবিব আল মুজাহিদ পলু সহ আওয়ামী লীগপন্থী ও বিএনপিপন্থী অন্যান্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভার্চুয়াল কোর্টে দাবী প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বক্তব্য হচ্ছে, আমাদের এই আন্দোলন সরকার বিরোধী কিংবা কারও বিরুদ্ধে আন্দোলন না। এই আন্দোলন জনগণের অধিকার ও আইনজীবীদের অধিকার আদায়ের জন্য। প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে অবিলম্বে নিয়মিত কোর্ট চালু করুন। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আদালত পরিচালনা করবো।

বাম দলের আইনজীবী হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেনের বক্তব্য হচ্ছে, আমাদের আন্দোলন সরকারী বিরোধী কিংবা সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন নয়। এখানে মানবাধিকার আইনের শাসন আইনজীবীদের অধিকার। মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন। বিগত দিনে আমরা দলীয় স্লোগান ব্যবহার করি নাই ভবিষ্যতেও করবো না। বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠান খোলা শুধু আইনাঙ্গন বন্ধ। অতএব নিয়মিত কোর্ট চালু করতে হবে। ভাচুয়াল কোর্টের আইনজীবীদের সুনাম নষ্ট হচ্ছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও