ছাত্রদলের একজনকে ঠেকাতে একাট্টা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৮ পিএম, ১১ জুলাই ২০২০ শনিবার

ছাত্রদলের একজনকে ঠেকাতে একাট্টা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে শুরু হয়ে গেছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। জেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর এবার তার অনুগামীরা উঠেপড়ে লেগেছে সেখানের কর্তৃত্ব হাসিল করতে। আসন্ন ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে তাদের মধ্যে ব্যাপক গ্রুপিং লবিং।

মূলত ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় এমন নেতাদের নিয়ে যখন জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা ভাবতে শুরু করেছে তখনই নানা ধরনের প্রপাগান্ডা চালানোর অভিযোগ উঠেছে মনির অনুগামী ওইসব নেতাদের বিরুদ্ধে।

সূত্র জানায়, ১৯৯৫সালে প্রয়াত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরীর জীবদ্দশায় তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি মোশারফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করেন যেখানে রূপগঞ্জে সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব রহমান নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা শাখা কমিটির অনুমোদন দেন। পরে ২০০২ সালে ঘরোয়াভাবে পুনরায় একই কমিটি অনুমোদন নিয়ে তাদের কার্যক্রম চালান। এরপর এ পর্যন্ত কোন কমিটি গঠন করতে পারেনি তারা।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক করা হয় সরকারী তোলারাম কলেজের সাবেক ভিপি মাসুকুল ইসলাম রাজীব, যুগ্ম আহ্বায়ক রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম, মাহাবুবুর রহমান, শাহ ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, হারুন উর রশিদ মিঠু, মঞ্জুর হোসেন ও মশিউর রহমান রনি। তবে এ কমিটিও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। বরং ব্যর্থতার দ্বায়ভার নিয়েই তারা পার করেন কয়েক বছর।

এদিকে বয়স ও সাংসারিক কারণে ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা সভাপতি হন আনোয়ার সাদাত সায়েম ও সেক্রেটারি হন মাহাবুব রহমান। আর জেলার ছাত্রদলের নেতৃত্বে পরিবর্তন হয়ে সভাপতি হিসেবে মশিউর রহমান রনি ও সাধারণ সম্পাদক পদে খায়রুল ইসলাম সজীব সহ তাদের প্যানেল হাল ধরেন। পরে ২০১৪ সালে রূপগঞ্জ উপজেলা শাখার নতুন কমিটির আশ্বাস দিয়ে ভেঙ্গে দেয় পুরানো কমিটি।

দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় রূপগঞ্জের রাজনীতিতে নেমে আসে অচলাবস্থা। ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন সালাউদ্দিন আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, ইসমাইল মামুন, নাহিদ হাসান ভূইয়া। এছাড়াও সক্রিয় ছিলেন আবু মাসুম, মাসুদুর রহমান মাসুদ, মাসুম বিল্লাহ, সজীব, সুলতান মাহমুদ প্রমুখ।

এর মধ্যে সালাউদ্দিন আহমেদ সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিকবার কারাভোগ ও প্রচুর মামলার আসামী হয়ে যান। তার উপর কয়েক দফা হামলার ঘটনাও ঘটে। যদিও পরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলে ঠাঁই মিলে সালাউদ্দিনের। আর ইসমাইল মামুন হয় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক।

কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ২০০৫ এর পরে এসএসসি পরীক্ষা ও অবিবাহিত অত্যাবশ্যক। সে হিসেবে আবু মাসুম সহ আরো কয়েকজন ইতোমধ্যে বাদ পড়েছে। সে ক্ষেত্রে এখন আলোচনায় নাহিদ হাসান ভূইয়া, মাসুম বিল্লাহ, সুলতান মাহমুদ, মাসুম প্রমুখ।

এদিকে বিগত দিনে নাহিদ ভূইয়াকে প্রায়শই বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে দেখা গেছে। সরকার বিরোধী আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্বে রূপগঞ্জে প্রচুর কাজ হয়েছে। তাছাড়া সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজপথের হিসেবেই সবাই নাহিদকে টিট করে।

এবার ছাত্রদলের আসন্ন কমিটিকে কেন্দ্র শুরু হয়েছে নানা ধরনের মেরুকরণ। একটি গ্রুপ নাহিদকে ঠেকাতে উঠেপড়ে লেগেছে। আর তাতে যুক্ত হয়েছেন বিএনপির সাবেক জেলার সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের অনুগামীরা।

জেলা ছাত্রদলের নারায়ণগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সজীব বলেন, ২৩ বছরেও কমিটি হয়নি এটা দুঃখজনক। এর জন্য দায়ী মূল দলের কিছু নেতা। তবে খুব শীঘ্রই এ এলাকার নতুন কমিটি প্রকাশ পাবে।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজীব বলেন, ২৪ বছর পর হলেও আমরা নতুন কমিটি দিতে যাচ্ছি। যারা দলের জন্য কাজ করেছেন তারাই কমিটিতে স্থান পাবেন কোন প্রকাব প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই। ছাত্রদল চলবে ছাত্রদলের মত।

রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি, বর্তমান জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম বলেন, যাদের দলের জন্য ত্যাগ, শ্রম রয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের রোষানলে পড়ে মামলা হামলায় জর্জরিত হয়েছেন তাদেরই পদায়ন করতে হবে। এই বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও