পশুর হাটে অনাগ্রহ রাজনীতিকদের

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১০ পিএম, ১৪ জুলাই ২০২০ মঙ্গলবার

পশুর হাটে অনাগ্রহ রাজনীতিকদের

ইসলাম ধর্মালম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব হলো ঈদ উল আযহা। আর এই ঈদুল আযহার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো পশু কোরবানী। কোরবানীর পশুকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই জমজমাট হয়ে উঠে গরুর হাট। সেই গরুর হাটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতাদের আগ্রহ থাকে। প্রায় বেশিরভাগ রাজনৈতিক নেতাই চেষ্টা করে থাকেন গরুর হাটের ইজারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য। নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে অনেক লঙ্কাকান্ড ঘটনাও ঘটে যায়।

তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জেও রাজনৈতিক নেতারা গরুর হাটের ইজারা নেয়ার জন্য নানাভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকেন। অনেক সময় তাদের মাঝে নানা বিরোধও পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু এবার প্রাণঘাতি করোনাকালিন সময়ে গরুর হাট নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে তেমন একটা আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। হাটের ইজারা নেয়ার সময় নিকটবর্তী হয়ে আসলেও রাজনৈতিক নেতারা এখন পর্যন্ত নিরবই থেকে যাচ্ছেন।

জানা যায়, চাঁদ ওঠার ওপর ভিত্তি করে আগামী ৩১ জুলাই অথবা ১ আগস্ট ঈদুল আযহা উদযাপিত হতে পারে। সে লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন হাটের ইজারা দেয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তবে এবার করোনাকালিন সময়ে হাটের সংখ্যা কোনোভাবেই বাড়বে না বরং কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। পাশাপাশি হাটের জায়গাগুলো প্রশস্ত করে স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে নানা রকম ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়েছেন।

এর আগে গত বছর ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিটি করপোরেশন সহ ৫টি উপজেলায় ৯৪টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছিল। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসেছিল ২২টি।

সিটি করপোরেশনের এলাকা শহর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দরের ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। অপরদিকে সদর উপজেলার আওতাধীন ৭টি ইউনিয়নে অস্থায়ী পশুর হাট বসছিল ১৭টি। বন্দর উপজেলার আওতাধীন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসছিল ৪টি। সোনারগাঁও উপজেলার আওতাধীন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসছিল ২০টি। সোনারগাঁ পৌরসভা এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসছিল ১টি। রূপগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসেছিল ৯টি।

তারাবো পৌরসভা এলাকায় ২টি অস্থায়ী পশুর হাট বসলেও কাঞ্চন পৌরসভা এলাকায় কোন অস্থায়ী পশুর হাট বসেনি। আড়াইহাজার উপজেলার আওতাধীন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসেছিল ১৫টি। গোপালদী পৌরসভা এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসেছিল ২টি এবং আড়াইহাজার পৌরসভা এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসেছিল ২টি। অর্থাৎ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, ২টি পৌরসভা ও জেলার ৫টি উপজেলা এলাকায় সর্বমোট অস্থায়ী পশুর হাট বসেছিল ৯৩টি।

আর এসকল হাটকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সরব হয়ে থাকেন জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যান বিষয়ক সম্পদক কাউসার আহমেদ পলাশ, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, যুবলীগ নেতা জানে আলম বিপ্লব, ফায়জুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা টেনু গাজী, কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল ও আরিফ হাসান সহ আরও অনেকেই।

এরই মধ্যে গত বছর একটি হাটের ইজারা নিয়ে কাউসার আহমেদ পলাশের সাথে ও সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনিরের অনেক লঙ্কাকান্ড ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। পাশাপাশি অন্যান্য এলাকাতেও রাজনৈতিক নেতাদের মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু এবার এসকল নেতাদের মধ্যে গরুর হাট নিয়ে কোনো সরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

এদিকে গত ২৫ জুন স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট বসবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো তাজুল ইসলাম। সেই সাথে গত ২৩ জুন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের একটি সভায় কাউন্সিলরদের নিয়ে গরুর হাট প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোশেনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী করোনাকালীন সংকট নিয়ে বিশেষ ওয়েবিনার ‘বিয়ন্ড দ্য প্যানডেমিক’-এর সপ্তম পর্বের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছিলেন, কুরবানী হাট নিয়ে আমার মাঝে প্রচন্ডভাবে শঙ্কা কাজ করছে। গতবার আমাদের ২২টি গরুর হাট ছিল এবার ১৩ টি গরুর হাট করেছি। ১৩ টির মধ্যে আরও কমাতে চেয়েছিলাম কিন্তু সম্ভব হয়ে উঠেনি। এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয়ভাবে দিক নির্দেশনা আসলে খুব ভাল হতো। তাহলে সংক্রমণটা খুব কম হতো। আমরা চাই সকলেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুক এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য যা যা করার দরকার করবো।

অন্যদিকে গত ৭ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন সভাপতির বক্তব্যে বলেছেন, যেহেতু এখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ চলছে। সেই সংক্রমণ প্রতিরোধে ঈদুল ফিতরের মতোই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদুল আযহা উদযাপন করা হবে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে কুরবানী পশুর হাটগুলোতে জীবানুনাশক ট্যানেল বসাতে হবে। হাত ধোঁয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনোভাবেই আগের চেয়ে হাটের সংখ্যা বাড়বে না বরং কমিয়ে এনে হাটের জায়গা বাড়ানো হবে। গরু কিনার উদ্দেশ্য নিয়েই হাটে যেতে হবে হাটে অযথা ঘুরাঘুরি করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, রাস্তায় কোন হাট বসানো যাবে না। হাটগুলো পরিস্কার রাখতে হবে। ইজারাদারকে বলে দিতে হবে যেন সাথে সাথেই হাটগুলো পরিস্কার করে ফেলে। নিয়মিত জীবানু নাশক স্প্রে করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। নৌ-রুটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোড়দার থাকবে। কোনোভাবেই ঈদ যেন সংক্রমণের কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

এসকল সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে কুরবানীর হাট নিয়ে আগ্রহ কমে এসেছে। অন্যবছর গরুর হাটের ইজারা তোড়জোড় চালালেও এবারে এখন পর্যন্ত তেমন একটা তোড়জোড় দেখাচ্ছেনা না।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও