বন্দরের করোনায় কাউন্সিলর ও রাজনীতিবিদরা

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫১ পিএম, ১৬ জুলাই ২০২০ বৃহস্পতিবার

বন্দরের করোনায় কাউন্সিলর ও রাজনীতিবিদরা

নারায়ণগঞ্জ জেলার পার্শ্ববর্তী ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দর সদর এবং উপজেলা এলাকা। নারায়ণগঞ্জের সরকার দলীয় (আওয়ামীলীগের) রাজনীতিতে বন্দরের নেতাকর্মীরা বিশেষ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। দেশ তথা সংগঠনের এমনকি নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীরা কঠোর ভূমিকা পালন করলেও পরে তারাই অবহেলিত হচ্ছে। সরকার সহ স্থানীয় সাংসদের কাঁধে ভর করে সুচারু কৌশলে বিএনপির সাংগঠনিক ভীত ও মাঠ পর্যায়ে বিএনপির নাম হচ্ছে।

সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন বন্দর এলাকায় ৯ টি ওর্য়াডের মধ্যে ৬ টিতেই বিএনপির কাউন্সিলর, আর ২ টিতে আওয়ামীলীগ, ১ জন জাতীয় পার্টির। চলতি বছরের শুরু হতেই দেশসহ সারা বিশ্বে করোনা নামক মহামারি ভাইরাস সকল কিছু উলট-পালট করে ফেলছে। করোনা ভাইরাসের সময়ে বন্দরের মানুষের পাশে কাউন্সিলরসহ গুটিকয়েক সরকারী দলের নেতাকে দেখা যাচ্ছে অজনা এক যুদ্ধের মাঠে। সাংসদ সেলিম ওসমানের ব্যাক্তিগত তহবিল, ব্যক্তি উদ্যোগসহ সরকারের সকল কাজে বন্দরের ৬ জন বিএনপির কাউন্সিলর, ৩ জন দলীয় কাউন্সিলর। এতে জনগনের কাছে বিএনপির নেতাদের দেখা মিলে বেশি আর সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের দেখা যায় কম।

নাসিক ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল মোঃ সাগর, ২০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপির নেতা গোলাম নবী মুরাদ, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মহানগর বিএনপির নেতা হান্নান সরকার, ২২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপির নেতা সুলতান আহম্মেদ, ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর (সরকার দলীয়) সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাতীয় পার্টির আফজাল হোসেন, ২৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপির এনায়েত হোসেন, ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সামছুদ্দোহা, ২৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপির কামরুজ্জামান বাবুল।

সরকার ও এমপির তহবিলের ত্রান সামগ্রী আসে জনপ্রতিনিধিদের হাতে। সেক্ষেত্রে সরকার দলীয় নেতাদের চেয়ে বিএনপির নেতারা বেশি সুবিধা ভোগ করছে। এর সুযোগে জনপ্রিয়তা বাড়ছে তাদের জনবিচ্ছন্ন হচ্ছে সরকার দলীয় নেতারা। ১৯, ২৩ ও ২৪ নং ওয়ার্ড ছাড়া প্রায় সকল ওয়ার্ডই বিএনপির নেতাদের নের্ত্বতে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে বন্দরের রাজনীতিতে উল্টো চিত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের একজন সবচেয়ে আস্তাভাজন নেতা ছিলেন। নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর নিজ দলীয় একটি চক্র বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে দল থেকে দূরে রাখে। নিজে অতিষ্ট হয়ে সংবাদ সম্মেলন করে রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধির পদ ছেরে দেয়ার ঘোষনা দেন। করোনা মহামারীতে জন দরবারে তিনিসহ তার টিম।

২৪ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর ও জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক আফজাল হোসেন একই ধারায় খাদ্য সামগ্রী বিতরন করছেন। রাতের আধারে মধ্যম আয়ের লোকদের ঘরে ঘরে গিয়ে নিজ হাতে তা পৌছে দেন। নির্বাচনী এলাকায়া দলমত নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে উপ কমিটি করে তা বিতরন করছেন।

সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক। করোনা ভাইরাসের সংক্রমন বাড়তে শুরু হলে জন সচেতনতামূলক প্রচারসহ সরকারী, ব্যাক্তিগত তহবিল, নিজস্ব উদ্যেগ এমনকি সরকারীভাবে প্রাপ্ত সম্মানী দিয়ে যাচ্ছেন।

খান মাসুদ বন্দর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুবলীগ নেতা। জনপ্রতিনিধি না হলেও কারো থেকে কম যাননি তিনি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমন শুরু হওয়ার পর থেকে নিজস্ব তহবিল, নিজ উদ্যেগে জনগনের জন্য করে যাচ্ছেন।

২২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও নাসিকের ২০, ২১, ২২ ও ২৩ নং ওয়ার্ডসহ বন্দর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ত্রান সামগ্রী বিতরন করেন। বর্তমান রান্না করা খাবার বিতরন করছেন।

এমপির কথার ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই ১৭ ঘণ্টার মধ্যে সে কথা পালন করলেন খান মাসুদ। মাস্ক ছাড়া বন্দর ১নং সেন্ট্রাল খেয়াঘাট দিয়ে কাউকে শীতলক্ষ্যা নদী পাড় হতে দিলে না নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগ নেতা খান মাসুদ। ১৫ জুলাই সকালে প্রায় ৫ হাজার মাস্কবিহীন কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষকে ফ্রিতে মাস্ক পরিধান করিয়ে নদী পাড় হতে বাধ্য করেন যুবলীগের এই নেতা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও