‘আওয়ামী লীগের প্রকৃত নেতারা আঙুল চুষবো না’

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১৫ পিএম, ১৬ জুলাই ২০২০ বৃহস্পতিবার

‘আওয়ামী লীগের প্রকৃত নেতারা আঙুল চুষবো না’

সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ফুঁসে উঠতে শুরু করেছেন। সেই সাথে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগকে জাতীয় পার্টির বি টিম বানানোর চক্রান্তকে রূখে দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম।

জানা যায়, গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা’র রাজনৈতিক কার্যালয়ে সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চর কিশোরগঞ্জ ও চরহোগলা এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আনোয়ার চৌধুরী জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। একই সাথে এর পরদিন গত ১৩ জুলাই সন্ধায় সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার নিজস্ব কার্যালয়ে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটিকে ৫ হাজার মাস্ক প্রদান করেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। আর এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁ নানা আলোচনা সমালোচনা চলছে।

তারই সূত্র ধরে ১৪ জুলাই রাতে ফেসবুক লাইভে এসে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজর রহমান কালাম গত দুইদিনের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘‘বিষয়টা অনেকটা জুতো মেরে গরু দানের মতো মনে হচ্ছে। আমার কাছে অনেক নেতাকর্মীই ফোন দিয়েছেন। কেউ বলছেন আওয়ামী লীগের কি এতই দৈন্যদশা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টিতে যোগদান করছে। আবার সেই তথাকথিত আহবায়ক কমিটি যে কমিটির কোনো ভিত্তি নাই স্ব-ঘোষিত আহবায়ক কমিটি মাস্ক আনতে গিয়েছে জাতীয় পার্টির এমপির কাছে।’’

কালাম বলেন, ‘‘আমরা জানি ১৯৭৫ এর পর এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের স্বর্ণযুগ। যখন জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় ছিল তখনও সোনারগাঁয়ে কোন আওয়ামী লীগ নেতা জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে নাই। আজকে স্বর্ণযুগে এসে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের এমনকি দৈন্যদশা দেখা দিল আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিতে হচ্ছে। আমি তো এরকম কোনো নেতাতো দেখি নাই। যাকে বলা হয়েছে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেছে আওয়ামী লীগে তার প্রাথমিক সদস্য আছে কিনা আমার জানা নেই।’’

তিনি বলেন, ‘‘দ্বিতীয় দিনের নিউজ দেখে মনে করলাম আহবায়ক কমিটিই জাতীয় পার্টিতে যোগ দিল কিনা। না পরে দেখলাম মাস্ক দিচ্ছে। আমি মনে করি সোনারগাঁ আওয়ামী লীগকে জাতীয় পার্টির বি টিম হিসেবে তৈরির করার জন্যই এ চক্রান্ত। অন্যথায় ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে যারা ২০১৪ সালের পরে আওয়ামী লীগ তাদের নিয়ে তথাকথিত কমিটি করেছে। মূলত সোনারগাঁকে জাতীয় পার্টির বিএনপির রাজনীতি করার অবাধ সুযোগ করে দেয়ার জন্যই এরকম আহবায়ক কমিটি দেয়া হয়েছে। প্রতারণা করা হচ্ছে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের সাথে। আগের দিন জাতীয় পার্টিতে যোগদান পরের দিন আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির লোকজন যায় জাতীয় পার্টির এমপির কাছে। সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের কি এতই দৈন্যদশা।’’

নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়েছে কালাম বলেন, ‘‘বর্তমানে সমস্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ। এই বিষয়টা হাস্যকর। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকেন। রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরে আসুক। আজকে মানুষের জীবন বাঁচানোই রাজনীতি। মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্যই রাজনীতি করি। এই সময়ে সোনারগাঁয়ে হীন রাজনীতি চালু করেছে। আমি এটাকে ধিক্কার জানাই এবং নিন্দা জ্ঞাপন করছি। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন। কোনো চক্রান্ত সোনারগাঁেয় মাথাউঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। কোনো চক্রান্ত করে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখা যাবে না। কেন্দ্রেও এই কমিটির অস্তিত্ব নাই। জাতীয় পার্টির কাছে সোনারাগাঁ আওয়ামী লীগকে বিক্রি করে দিবেন আর নেতাকর্মীরা বসে আঙুল চুষবো এটা হবে না। আমরা মাঠে আসবো। যারা ছিনিমিনি খেলছে তারা ভেসে যাবে।’’

জানা যায়, গত ১৫ জুলাই সোনারাগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের চলমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহবায়ক কমিটির ঘোষণা দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল। একই সাথে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামকে সোনারগাঁ আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

আহবায়ক কমিটিতে সামসুল ইসলাম ভূইয়া আহবায়ক এবং সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক প্রফেসর ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বাবু ওমর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার ফেন্সী ও সামসুদ্দিন খান আবু।

এই আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পর পরই জেলা আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং কেন্দ্রীয় আওয়ীমী লীগে অভিযোগও করেন। কমিটির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির মধ্যে ৩৮ জন স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে সাক্ষাৎ ও জমা দিয়েছিলেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও