তুখোড় নেতা এখন বিছানায়

স্টাফ করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:২৬ পিএম, ২৫ জুলাই ২০২০ শনিবার

তুখোড় নেতা এখন বিছানায়

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন মহানগর কমিটির সহ সভাপতি রোকন উদ্দিন আহমেদ। তুখোড় ছাত্রনেতা থেকে তিনি সবশেষ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হিসেব দায়িত্ব পালন করছেন। রোকনউদ্দিন আহমেদ ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মিলে প্রথম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার প্রতিবাদে মিছিল করেছিলেন। বর্তমানে রোকনউদ্দিন মোটর নিউরন ডিজিসে আক্রান্ত শয্যাশয়ী অবস্থায় দিনযাপন করছেন। তার জ্ঞান থাকলেও শরীরের সকল অঙ্গ প্রতঙ্গ বিকলাঙ্গ হয়ে গেছে। অন্যদের সহযোগিতা তিনি উঠতে পারছেন না বসতে পারছেন না। অন্যদের সহযোগিতায় তাকে খাওয়া দাওয়া করতে হয়।

তার স্ত্রী রীনা আহমেদ জানান, ১৯৭৫ সাল থেকে তার পরিচয় হয়। তখন থেকেই আমি তাকে চিনি। ছাত্র ইউনিয়নের জেলা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সেই সুবাধে আমি মহিলা কলেজে ভর্তি হই। ১৯৭৭ সালে আমরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। তিনি সততা আদর্শ এবং নীতিতে অটল ছিল। খুব সাহসী মানুষ ছিলেন। নীতিতে কখনও আপোষ করেনি। আমরা সুখে দুঃখে সংসার করেছি। রাজনীতি করতে গিয়ে অনেক দুঃসময় পার করতে হয়েছে। এরশাদের আমলে তার নামে হুলিয়া ছিল। অনেক মাস ঘরে আসতে পারতো। অনেক অত্যাচার নির্যাতন সহতে হয়েছে। সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে গেছে। তারপরেও সে কিন্তু কখনও আপোষ করেনি।

তিনি আরও বলেন, সারাজীবন মেহনতি মানুষের জন্য চিন্তা করেছেন। নিজের জন্য কখনও ভাবেনি। সবসময় দেশের মানুষের কথা চিন্তা করেছেন। নারী ক্ষমতায়তনে বিশ^াসী ছিলেন। যার উৎসাহ উদ্দীপনায় আমি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ করেছি। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তার হার্টটুকু ভাল আছে। নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে একটাই প্রত্যাশা তার জন্য দোয়া করবেন। তার শরীরে অনেক যন্ত্রণা ঘুমাতে পারে না। আজ ৪ মাস যাবত একবারেই নড়াচড়া করতে পারছে না। তাকে খাইয়ে দিতে হয় এপাশ থেকে ওপাশে নিতে হয়। একজন তুখোড় মানুষ এত দ্রুত বিছানায় পড়ে যাবে এটা ভাবতে কষ্ট হয়। যে মানুষটা ঘরে থাকতো না সে মানুষটা ঘর থেকে বের হতে পারছে না। আদর্শ মানুষের জন্য দোয়া চাই। তার ভুল ত্রুটির জন্য ক্ষমা চাই।

প্রসঙ্গত, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজনীতিতে সক্রিয় হন রোকন উদ্দিন আহমেদ। তখন তিনি ছাত্রলীগ করতেন। সেই সময়ে শীতলক্ষ্যা আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শেখ রফিক। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে সাত খুনের মামলায় যিনি রাজসাক্ষী হয়েছিলেন। দুজনের নেতৃত্বেই শীতলক্ষ্যা এলাকায় ছাত্র রাজনীতিতে সাড়া ফেলে। ৭২ সাল পর্যন্ত তিনি ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে ছাত্রলীগের কিছু কার্যকলাপ তাকে ব্যথিত করে, মনপুত হয়নি। ফলে তিনি ছাত্র ইউনিয়নে যোগদান করেন। প্রথম মহানগর কমিটির সদস্য পরবর্তীতে জেলা সাধারণ সম্পাদক সভাপতি এবং সবশেষ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ছাত্র ইউনিয়ন করার সময় রোকন উদ্দিন আহমেদ তোলারাম কলেজের ভিপি প্রার্থী হন। সেখানে বিপুল ভোটে জয়ী হন এবং জিএস হিসেবে জয়ী হন বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। উনি ছাত্রলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এজিএস নাসির উদ্দিন মুক্তিযুদ্ধ থেকে শিক্ষায় ফিরে এসে ছাত্রলীগের নমিনেশনে তোলারাম কলেজে নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে সময় ছাত্রলীগ এবং ছাত্র ইউনিয়ন জাতীয় সংকটে একসাথে কাজ করেছে।

এরপরই দুর্ভাগ্যজনক ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এরপরই বাংলাদেশের সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিব হত্যার প্রতিবাদ শুরু করে। ১৬ তারিখ সকাল ১০ টায় ছাত্রদের নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করেন। রাজপথ প্রদক্ষিণ করার চেষ্টা করলে তাদেরকে ছাত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। এটা তাদের আদর্শিক দায়িত্ব। নিজের জানকে উপেক্ষা প্রথম শোকসভা প্রথম কুরআনখানি করে মাইক দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। এই সময়ে তাকে অনেক বাধা বিপত্তি মোকাবেলা করে জীবন যাপন করতে হয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও