দুর্ধর্ষ হাজী সাহেবকে পুনর্বাসন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৪৮ পিএম, ২৭ জুলাই ২০২০ সোমবার

দুর্ধর্ষ হাজী সাহেবকে পুনর্বাসন

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সমালোচিতদের একজন বজলুর রহমান ওরফে হাজী রিপন। জাতীয় পার্টির এক সময়ে এর নেতা নিজ দল থেকেও বহিস্কৃত। ফেনসিডিল সহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ডিবির অভিযানে। এছাড়া নারী কেলেংকারীও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ছেলে সীমান্ত হলেন আলোচিত মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলখাটা আসামী। সেই হাজী রিপন এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাক ট্যাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং ঢাকা-২৫৫৮) এর সেক্রেটারী হয়েছেন। এ নিয়ে এখন দেখা দিয়েছে নানা সমালোচনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিতর্কিত ব্যক্তিকেই আবারো পুনর্বাসন করা হলো।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পরে নিতাইগঞ্জের ট্রাক কভার্ডভ্যান ট্যাঙ্কলরীর চালক ইউনিয়নের সভাপতি বনে গিয়ে আলোচনায় আসেন হাজী বজলুর রহমান রিপন ওরফে হাজী রিপন। নিতাইগঞ্জের ট্রাক স্ট্যান্ড পঞ্চবটিতে স্থানান্তর নিয়ে বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র (বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র) ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে হাজী রিপনের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত হন হাজী রিপন। এছাড়া ট্রাকস্ট্যান্ড স্থানান্তর নিয়ে ট্রাক শ্রমিকদের ও এলাকাবাসীর মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনায় উস্কানীদাতা হিসেবেও আলোচিত ছিলেন। এছাড়া ট্রাক শ্রমিকদের থেকে বেপরোয়া চাঁদা দাবির অভিযোগ তো ছিলই। তাছাড়া সুতা ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডেরও অভিযোগ উঠেছিল হাজী রিপনের বিরুদ্ধে।

২০১০ সালে বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ার পরে ক্ষমতার দাপটে এসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি বিচার শালিস কমিটির চেয়ারম্যান বনে গিয়ে হোসিয়ারী ব্যবসায়ীদেরকে নাজেহাল করারও অভিযোগ ছিল হাজী রিপনের বিরুদ্ধে।

তবে ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নেয় হাজী রিপনের দিক থেকে। যার ফলে শনির দশা ভর করে হাজী রিপনের উপর। নভেম্বরে নির্বাচনে পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ওই বছরের ডিসেম্বরে অভিজাত নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের টয়লেটে বড় ছেলে সালেহ রহমান সীমান্তের যৌন কেলেঙ্কারীর ঘটনায় ক্লাবের সদস্যপদ হারায় হাজী রিপন।

এর কিছুদিন পরেই ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারী শহরের পাইকপাড়ায় বিউটি পার্লারে অভিসারে গিয়ে নারীসহ জনতার হাতে আটকের পর লাঞ্ছিত হওয়ার পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বহুল আলোচিত জাপা ক্যাডার হাজী রিপনের সাথে শহরের পাইকপাড়া ভূইয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি বিউটি পার্লারে সুন্দরী ললনা লিন্ডার সাথে চলছিল অসামাজিক কার্যকলাপ। স্থানীয় কাউন্সিলারের ঘনিষ্ট সহযোগী হওয়ায় অপকর্ম করেও পার পেয়ে যাচ্ছিল হাজী রিপন ও তার দোসররা। নিয়মিত ওই পার্লারে অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি চলতো মাদক সেবনও। তবে সোমবার বিকেলে স্থানীয় বিক্ষুব্দ জনতা তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ মিটিয়েছেন হাজী রিপনকে গণধোলাই দেয়ার মাধ্যমে। পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে বেধড়ক মারধর করে উত্তেজিত জনতা।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ আলোচিত ত্বকী হত্যাকান্ডের ঘটনায় হাজী রিপনের জামতলাস্থ বাসভবনে র‌্যাব-১১ এর অভিযান ও বড় ছেলে সালেহ রহমান সীমান্তের গ্রেফতারের পরে আবারো আলোচনায় আসেন হাজী রিপন। তবে নানা ঘটনার পরিক্রমায় ট্রাক চালক ইউনিয়নের সভাপতির পদে হাজী রিপনের আধিপত্য নেমে এসেছিল তলানীতে।

এরপর ট্রাক চালক ইউনিয়নের সভাপতির পদও হারিয়েছিল হাজী রিপন। পদ হারানোর আগে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল থেকে সমিতির সভাপতি হাজী রিপন ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মানিককে রক্তচোষা হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। ওই বছরের ১৩ অক্টোবর অস্তিত্ব রক্ষায় হোসিয়ারী এসোসিয়েশনের নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন হাজী রিপন। তবে তৎকালীন সভাপতি শাহজালালের নেতৃত্বাধীন প্যানেল থেকে ছিটকে পড়েছিলেন হাজী রিপন।

২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ ট্রাক ট্যাঙ্কলরী কভার্ডভ্যান শ্রমিক কমিটির সভাপতি হাজী বজলুর রহমান রিপন বিরুদ্ধে মারধারের অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছেন তারই বন্ধু ও ব্যবাসয় র্পটনার এজাজ আহমেদ। ওইদিন রাতে নিজে বাদী হয়ে হাজী রিপন, মিঠু, শাহিন, টিটুসহ আরো কয়েকজনকে অজ্ঞাত করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেন।

এরপর রাজনীতি ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে ছিটকে পড়া হাজী রিপনের বিরুদ্ধে জামতলা এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগও উঠেছিল। কয়েক বছর আগে জামতলা হাজী ব্রাদার্স সড়ক এলাকা থেকে ২শ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মৃত আ. কুদ্দুস মাদবরের ছেলে বহিস্কৃত জাপা নেতা হাজী বজলুর রহমান রিপন (৫৪) ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে জামতলা এলাকায় মাদক বেচাকেনার অভিযোগ ছিল।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও