সিদ্ধান্তহীনতায় তৈমূর, কাজী মনিরের আড়ালে নীরবে দিপু ভূইয়া

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১১ পিএম, ৪ আগস্ট ২০২০ মঙ্গলবার

সিদ্ধান্তহীনতায় তৈমূর, কাজী মনিরের আড়ালে নীরবে দিপু ভূইয়া

নারায়ণগঞ্জ-১ তথা রূপগঞ্জ আসনে সবশেষ নির্বাচনে বিএনপির টিকেট পেয়েছিলেন কাজী মনিরুজ্জামান। টিকতে পারেনি নির্বাচনে। ভোটের কয়েকদিন আগেই মাঠ ছেড়ে দেন। সঙ্গে রাজনীতিও। নির্বাচনের পর থেকে আর কাজী মনিরুজ্জামানকে রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি। খেসারত দিতে হয়েছে জেলা বিএনপির কমিটিতেও। বিলুপ্ত করা হয়েছে কমিটি। সে কারণে রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে। অথচ পদে না থেকেও রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার ও মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ধরে রেখেছিলেন।

এবার রাজনীতির হাওয়া বদলাতে শুরু করেছে। কাজী মনির রাজনীতিতে না থাকার কারণে অনুগামীরা এখন দিশেহারা। বিপরীতে তৈমূরও রয়েছেন সিদ্ধান্তহীনতায়। রাজনীতি কোন এলাকাতে করবেন। কারণ ২০১১ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি নারায়ণগঞ্জে মেয়র প্রার্থী হলেও ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে বসিয়ে দেওয়া হয়। সবশেষ সংসদ নির্বাচনে রূপগঞ্জে মনোনয়ন চেয়েও ব্যর্থ হন। বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের অফিস ভাঙচুর করে অনুগামীরা। মনোনয়ন না পেলেও রাজনীতি ছাড়েনি। ফলে আসছে জেলা বিএনপির কমিটি নিয়ে এখন আলোচনায় তৈমূর।

তৈমূর কিংবা দিপু কেউ মনোনয়ন না পেলেও পেয়েছিলেন কাজী মনির। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে ১০ জানুয়ারী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা নমিনেশন নিয়ে ট্রেড (বাণিজ্য) করেছে, অকশন (নিলাম) করেছে, তারা কী করে আশা করে যে নির্বাচনী জয়ী হবে। সিলেটে ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকেই নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে নমিনেশন দিলে তিনি হয়তো জিততে পারতেন। ধামরাইয়ে আতাউর রহমান খানের ছেলে জিয়াউর রহমান খান নমিনেশন পাবে বলেই ধারণা ছিল। তিনি হয়তো জিততেনও কিন্তু তাকে নমিনেশন দেওয়া হয়নি, নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকারকে নমিনেশন দেওয়া হয়নি- এরকম আরও অনেক জায়গায় তারা যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকে নমিনেশন দিয়েছে।’

এর আগে ৩১ ডিসেম্বর গণভবনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে আসা দেশি বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং বিদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন বলেন, ‘যে বেশি টাকা দিতে পেরেছে সেই মনোনয়ন পেয়েছে এবং এ কারণে তারা তাদের অনেক জয়ী হওয়ার যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। এমন অনেকেই মনোনয়ন পাননি। ‘আমি উদাহরণ দিয়ে দেখাতে পারি, ঢাকার ধামরাইয়ে জিয়াউর রহমান তাদের যোগ্য প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু তিনি মনোনয়ন পাননি। নারায়ণগঞ্জের তৈমূর আলম তিনিও তাদের বিজয়ী প্রার্থী হতে পারতেন। তাঁকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সিলেটে তাদের বিজয়ী হওয়ার মতো নেতা ইনাম আহমদ চৌধুরীকেও তারা মনোনয়ন দেয়নি।’

রূপগঞ্জের স্থানীয়রা বলছেন, তৈমূর প্রায়শই সিদ্ধান্ত বদলান। এখন তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারক। স্থানীয় রাজনীতিতে দাপট ফিরে আসলেও সেটা কায়েম করতে গেলে ফের বিগত দিনের মত ঘটনা ঘটতে পারে। ২০১৭ সালে জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের সময়ে তার মতামত নেওয়া হয়নি। অথচ ২০০৯ সালে জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের সময়ে তৈমূর প্রথম আহবায়ক ও পরে সভাপতি ছিলেন। এর আগের কমিটিতে ছিলেন সেক্রেটারী। কিন্তু ২০১৭ সালে যখন কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও মামুন মাহমুদকে সেক্রেটারী করা হয় তখন তৈমূরকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল মনে করেন দলের নেতাকর্মীরা।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনীতিতে পরিবর্তন আসছে। কাজী মনির ও তৈমূরের সঙ্গে আলোচনায় দিপু ভূইয়া। ঐতিহ্যবাহী ভূইয়া পরিবারের উত্তরাধিকার। গত দুটি নির্বাচনে মনোনয়ন চাইলে ‘বয়স কম’ ‘ভবিষ্যৎ’ ইস্যু দেখিয়ে আশ্বস্ত করা হয়।

রাজনীতিতে ক্রমশ তারুণের জয়যাত্রা চলছে। সর্বত্র এখন তরুণদের দোর্দান্ড দাপট। রূপগঞ্জে দিপু ভূইয়ার অনুগামীও বাড়ছে। কাজী মনিরের নিস্ক্রিয়তায় অনুগামীদের কেউ কেউ তৈমূরের সঙ্গে। তবে বিশাল একটি গ্রুপ তলে তলে যোগাযোগ রাখছেন দিপুর সঙ্গে। কারণ তাদের মতে ভবিষ্যতে রূপগঞ্জে দিপুর হাতেই উঠতে যাচ্ছে নেতৃত্বের ঝান্ডা। সে কারণেই নীরব থাকা দিপুর সঙ্গেই তাদের যোগাযোগ। বিগত দিনে এক ডজন মামলার আসামীও।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও