বলদেব জিউরে শান্তি, শুদ্ধতা ঐশ্বরিক সহানুভূতিক প্রতীকে মা দুর্গা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:০৪ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ মঙ্গলবার



বলদেব জিউরে শান্তি, শুদ্ধতা ঐশ্বরিক সহানুভূতিক প্রতীকে মা দুর্গা

‘প্রতি বছরই ভক্ত দর্শনার্থীদের জন্য ব্যতিক্রম সব আয়োজন করেন শহরের নিতাইগঞ্জ বলদেব জিউর আখড়া ও শিব মন্দিরের দূগা পূজা কমিটি। তবে এবার অন্যবারের মতো প্রধান ফটকই মূল আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দু। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা ও প্রতিমা। সাদা রঙ শান্তি, শুদ্ধতা, পবিত্রতা, ঐশ্বরিক ও সহানুভূতিক প্রতীক যার জন্যই এবার প্রতিমা সাদা রঙের করা হচ্ছে।

শুক্লাপঞ্চমী বিহিত পূজা এবং সায়ংকালে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর সনাতন ধর্মালম্বীদের সর্ব বৃহৎ উৎসব শারদীয় দূর্গোৎব শুরু হয় যা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে বিজয়া দশমীর মধ্যে দিয়ে সমাপ্ত হবে।

সরেজমিনে বলদেব জিউর আখড়া ও শিব মন্দিরে গিয়ে দেখা গেছে, গত বছর মন্দির সামনে স্থায়ীভাবে যে ফটক তৈরি করা হয়েছিল জগবন্ধু বলরামকে মধ্যে রেখে ডানে বামে লক্ষ্মীনারায়ণ ও মহাদেব। তারই নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। দৃষ্টিনন্দন ঝর্ণা ও আলোকসজ্জায় আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। তাছাড়া স্থায়ী মন্দির হওয়ায় মণ্ডপের ভিতরে তেমন কোন কাজ না করতে পারলেও সেখানেও নতুনত্বের ছোঁয়া লেগেছে।’

শ্রী শ্রী বলদেব জিউর আখড়া ও শিব মিন্দর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, নারায়ণগঞ্জ বলদেব জিউর আখড়া পূজার আয়োজন সব সময় একটু ব্যতিক্রম করা চেষ্টা করা হয়। আর তার ধারাবাহিকতায় এবার প্রতিমা সাদা রঙের করা হয়েছে। সাদা রঙ শান্তি, শুদ্ধতা, পবিত্রতা, ঐশ্বরিক ও সহানুভূতিক প্রতীক।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা থাকলেও মন্দিরের দেবী মায়ের প্রতিমায় কোন কারুকাজ করা সম্ভব হয় না। ভক্তদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিমা ধর্মীয় নিয়ম নীতি অনুযায়ী করতে হয়। মূলত এটা একটি মন্দিরের পূজা। তাই প্রতিমা বিসর্জন করা হয় না। ১২ মাস মায়ের প্রতিমা রাখা হয় এবং পূজা করা হয় এজন্যই আমরা তেমন কিছু করতে পারি না। শুধু প্রতিমার পোষাক পড়ানোর কলা কৌশল পরিবর্তন করা হয়।’

পূজার বাজেট সম্পর্কে জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পি আরো বলেন, ‘এবছর পূজার ব্যায় ধরা হয়েছে ৭ লাখ টাকা। তবে তার মধ্যে থেকে মণ্ডপের প্রবেশ দ্বার, প্রসাদ বিতরণ, মায়ের প্রতিমাতে সব থেকে বেশি টাকা ব্যয় করা হয়ছে। পূজার ৩দিন মন্দিরের পুষ্পাঞ্জলী, প্রসাদ বিতরণ ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ দ্বারের আলোকসজ্জা থাকবে। বলদেব জিউর আখড়া মন্দির হওয়ার কারণে এবং দেবী দুর্গার আলাদা স্থান থাকায় প্রতিমা বির্সজন করা হয় না। দেবী বিসর্জনের পরিবর্তে সিধুর খেলা হয়। মায়ের আশীর্বাদ স্বরূপ একজন নারী আরেক জন নারীর মাথায় সিধুর দিয়ে দেয়।

পূজার আকর্ষণ সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, ‘মায়ের দর্শন করাই প্রদান আকর্ষণ। এবছর আমরা তেমন কোন কিছুই করছি না। তবে যা করছি সেটাও ব্যতিক্রম। সাদা প্রতিমা, মন্দিরের প্রধান ফটকে লাইটিং, নতুন রঙে সাজিয়ে তোলা এসব কিছুই করা হচ্ছে।’


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

এই বিভাগের আরও