৬ কার্তিক ১৪২৫, রবিবার ২১ অক্টোবর ২০১৮ , ৫:১৯ অপরাহ্ণ

UMo

সোমবার ১১ রোজা : তাকওয়া মুমিনের কল্যাণের আধার


স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:৪৭ পিএম, ২৭ মে ২০১৮ রবিবার


সোমবার ১১ রোজা : তাকওয়া মুমিনের কল্যাণের আধার

তাকওয়া অবলম্বনকারীদের আল্লাহ নিজ হাতে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন এবং তার পথচলার জন্য আলোর ব্যবস্থা করবেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তার রাসুলের প্রতি ইমান আন, তিনি স্বীয় রহমতে তোমাদের দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন, আর তোমাদের নূর দেবেন যার সাহায্যে তোমরা চলতে পারবে এবং তিনি তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [সূরা হাদিদ : ২৮]

তাকওয়া অবলম্বনকারী ব্যক্তি পরকালে নাজাত পেয়ে ধন্য হবেন। আল্লাহতায়ালা এই মর্মে ইরশাদ করেছেন, আর আল্লাহ মুত্তাকিদের তাদের সাফল্যসহ নাজাত দেবেন। কোনো অমঙ্গল তাদের স্পর্শ করবে না। আর তারা চিন্তিতও হবে না। [সূরা জুমার : ৬১]

তাকওয়া শব্দের আভিধানিক অর্থ সাবধানতা অবলম্বন করা। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর শান্তি ও অসন্তুষ্টির কার্যকারণসমূহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সাবধানতা অবলম্বন করাকেই তাকওয়া বলা হয়। সহজভাবে বলতে গেলে সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর ভয় হৃদয়ে পোষণ করাই তাকওয়া। আল্লাহভীতি বা আল্লাহপ্রীতিই হলো তাকওয়া। কারণ মানুষ ভয় করে তাকে, যাকে ভালোবাসে।

তাকওয়ার সংজ্ঞা বর্ণনা করতে গিয়ে হজরত আলী [রা.] বলেছেন, মহা-মহীয়ানকে ভয় করা, কোরান অনুযায়ী আমল করা, অল্পে তুষ্ট থাকা এবং মৃত্যুদিনের জন্য প্রস্তুতি নেয়াই তাকওয়া।

তাকওয়া সব কল্যাণের আধার, আল কুরআনে সর্বাধিক উল্লিখিত মহৎ গুণ। প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য, কাছের অথবা দূরের সব কল্যাণের মূল হলো তাকওয়া। অনুরূপভাবে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য, কাছের অথবা দূরের সব অন্যায় ও পাপাচারের বিরুদ্ধে তাকওয়া হলো প্রতিরোধক দুর্গ। ইমান হলো তাকওয়ার প্রথম ধাপ। যাদের ইমান নেই তারা মুত্তাকিদের দলভুক্ত নয়। কেননা তাকওয়া হলো আল্লাহকে ভয় করার নাম। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে চেনে না, বিশ্বাস করে না; তার আল্লাহকে ভয় করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তাকওয়ার কারণে আল্লাহর কাছে একজন মুত্তাকি ব্যক্তির মর্যাদা বেড়ে যায়। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত সে, যে তোমাদের মধ্যে অধিক পরহেজগার বা মুত্তাকি। [সূরা হুজুরাত : ১৩]।

মুত্তাকি হওয়ার জন্য, তাকওয়া অবলম্বন করার জন্য একজন মুমিনের মাঝে বেশকিছু গুণাবলির সম্মিলন জরুরি। তাকওয়া শুধু অন্তরে সীমিত থাকার বিষয় নয়। বরং সত্যিকার তাকওয়াধারীর অন্তর ছাপিয়ে তাকওয়ার সৌরভ তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে, কর্মে ও আমলে ছড়িয়ে পড়ে। মুত্তাকির গুণাবলির মধ্যে কয়েকটি হলোথ এক. ইমান বিল গায়েব বা অদৃশ্যের প্রতি ইমান। দুই. যথাথরূপে নামাজ আদায়। তিন. আল্লাহর পথে অর্থসম্পদ ব্যয় করা। চার. আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। পাঁচ. আখিরাতের প্রতি ইয়াকিন বা বিশ্বাস রাখা।

আল্লাহ মহান ইরশাদ করেছেন, আলিফ-লাম-মীম। এটি (আল্লাহর) কিতাব, এতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকিদের জন্য হিদায়েত। যারা গায়েবের প্রতি ইমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। এবং যারা ইমান আনে, যা তোমার প্রতি নাজিল করা হয়েছে এবং যা তোমার পূর্বে নাজিল করা হয়েছে তার প্রতি। আর আখিরাতের প্রতি তারা ইয়াকিন রাখে। তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম [সূরা আল বাকারা: ১-৫]।

আল্লাহতায়ালা যেসব নেক আমল করতে বলেছেন কায়মনোবাক্যে সেসব আমল যথার্থরূপে আদায় করে যান একজন মুত্তাকি ব্যক্তি। অঙ্গীকার পূরণ করা ও কষ্ট দুর্দশায় ধৈর্য্যধারণ করাও মুত্তাকিদের গুণাবলির মধ্যে শামিল। ইরশাদ হয়েছে, ভালো কাজ এটা নয় যে, তোমরা তোমাদের চেহারা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফেরাবে; বরং ভালো কাজ হলো যে আল্লাহ, শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি ইমান আনে এবং সম্পদের প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও নিকটাত্মীয়গণকে, ইয়াতিম, অসহায়, মুসাফির ও প্রার্থনাকারীকে এবং বন্দিমুক্তিতে তা প্রদান করে। আর সালাত কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করে, যারা ধৈর্যধারণ করে কষ্ট ও দুর্দশায় ও যুদ্ধের সময়ে। তারাই সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকি [সূরা আল বাকারা: ১৭৭]।

মুত্তাকিদের গুণাবলির মধ্যে একটি হলো, কৃত পাপ ও গুনার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। ইস্তিগফার করা। ইরশাদ হয়েছে, আর তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতের দিকে, যার পরিধি আসমানসমূহ ও জমিনের সমান, যা মুত্তাকিদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যারা সুসময়ে ও দুঃসময়ে ব্যয় করে এবং ক্রোধ সংবরণ করে ও মানুষকে ক্ষমা করে। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজদের প্রতি জুলম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আর আল্লাহ ছাড়া কে গুনাহ ক্ষমা করবে? আর তারা যা করেছে, জেনে শুনে তা তারা বার বার করে না। [সূরা আলে ইমরান: ১৩৩-১৩৫]।

হাদিসে এসেছে, তাকওয়া অবলম্বনের বহু ফজিলত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো তাকওয়া দ্বারা অন্তর খুলে যায়। ইলম হাসিল হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আল্লাহ তোমাদেরকে শেখাবেন। [সূরা আল বাকারা : ২৮২]। তাই আমরা যদি আল্লাহর পথে চলার ইলমে নিজেদের সমৃদ্ধ করতে চাও, দীনি ইলমের বিশাল ভা-ার নিজেদের জন্য উন্মুক্ত করতে চাও, তবে তাকওয়া অবলম্বনই হবে তোমাদের বড় মাধ্যম।

তাকওয়া অবলম্বনের আরেকটি ফজিলত হলো, যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে আল্লাহ তাকে সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের মানদ- দান করেন। পাপ-পুণ্যের মাঝে পার্থক্য করার যোগ্যতা দান করেন। পাশাপাশি তিনি তার গুনাহসমূহও ক্ষমা করে দেন। ইরশাদ হয়েছে, হে মুমিনগণ, যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তাহলে তিনি তোমাদের জন্য ফুরকান প্রদান করবেন, তোমাদের থেকে তোমাদের পাপসমূহ দূর করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল। [সূরা আল-আনফাল : ২৯]

তাকওয়া অবলম্বনকারীর আমল সহজেই কবুল হবে। কেননা যে ব্যক্তির তাকওয়া নেই, সে হয়তো মোটেই আমল করবে না, আর যদি করে তাহলে তা তাকওয়াশূন্য হওয়ার কারণে ইখলাস বিবর্জিত হতে বাধ্য। তাই আল্লাহতায়ালা সে আমল কবুল করবেন না- এটাই স্বাভাবিক। ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকিদের থেকেই কবুল করেন [সূরা আল মায়েদা : ২৭। তাকওয়ার অর্জনকারীদের উদ্দেশে ইরশাদ হয়েছে, জান্নাত, আমি যার উত্তরাধিকারী বানাব আমার বান্দাদের মধ্যে তাদের যারা মুত্তাকি [সূরা মারয়াম:৬৩]।

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ধর্ম -এর সর্বশেষ