৭ শ্রাবণ ১৪২৫, সোমবার ২৩ জুলাই ২০১৮ , ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জে জগন্নাথদেবের স্নান মহোৎসব


সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশিত : ০৯:১৫ পিএম, ২৮ জুন ২০১৮ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৩:১৫ পিএম, ২৮ জুন ২০১৮ বৃহস্পতিবার


নারায়ণগঞ্জে জগন্নাথদেবের স্নান মহোৎসব

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দিরে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওইদিন সকালে জগন্নাথ দেবের বিগ্রহ মন্দির থেকে বের করে ভক্তদের স্নান করানোর জন্য আলাদা ভাবে স্নান মণ্ডপে রাখা হয়। আর সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী পুরুষ সবাই জগন্নাথ দেবকে স্নান করান।

২৮ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে স্নান উৎসব শুরু হয়। যা চলে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী। ভক্তরা ফুল ফল জল দুধ সহ বিভিন্ন পূজার সামগ্রী দিয়ে স্নান করার জগন্নাথ দেবকে।

স্কন্ধ পুরাণ অনুসারে রাজা ইন্দ্রদুম্ন্য যখন জগন্নাথ দেবের কাঠের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করলেন তখন থেকে এই স্নান যাত্রার উৎসব শুরু। স্নান যাত্রার দিনটিকে জগন্নাথ দেবের আবির্ভাব তিথি বা জন্মদিন হিসেবে পালন করা হয়। স্নান যাত্রার আগের দিন জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা দেবী এবং সুদর্শন দেবকে বেদী  থেকে বিশেষ ভাবে তৈরি করা স্নান বেদীতে নিয়ে আসা হয়।

স্নান মহোৎসবের পূর্বে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা দেবীকে সিল্কের কাপড় দ্বারা আবৃত করা হয় এবং তারপর লাল এক ধরনের পাউডার দিয়ে প্রলেপ দেওয়া হয়। ১০৮ টি স্বর্ণ পাত্র জল দ্বারা পূর্ণ থাকে। এই জল দ্বারা অভিষেক করা হয়। অভিষেকের সময় বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ, কীর্তন এবং শঙ্খ বাজানো হয়। এরপর জগন্নাথদেব এবং বলদেবকে গজ বা হাতি বেশে সাজানো হয়। এই সময় সুভদ্রা দেবীকে পদ্ম সাজে সাজানো হয়।

ভারতের পুরীর মন্দির প্রাঙ্গনে বিশেষ ভাবে তৈরি করা এই মণ্ডপকে বলা হয় স্নান মণ্ডপ। এটা এত উঁচু যে মন্দির প্রাঙ্গনের বাইরে থেকেও বেদিতে উপবিষ্ট বিগ্রহ সমূহ অবলোকন করা যায়। অনুষ্ঠানের দিন স্নান মণ্ডপকে ঐতিহ্যবাহী ফুল, বাগান ও গাছের চিত্রকল্প দ্বারা সজ্জিত করা হয়। তোরণ এবং পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়। জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা দেবীর বিগ্রহ ফুল দিয়ে সাজানো হয়। এর পর বিগ্রহের উদ্দশ্যে ধুপ, ধুনা অর্পণ করা হয়। পুরীতে স্নানের জন্য সোনার তৈরি এক ধরনের কুয়া থেকে জল আনা হয়। জল আনার সময় পুরোহিতরা তাদের মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখেন যাতে জল তাদের মুখনিঃসৃত কোন কিছু দ্বারা এমনকি তাদের নিঃশ্বাস দ্বারা দূষিত না হয়।

স্নান যাত্রা উৎসবের পর ১৫ দিন ভগবানকে জনসাধারণ থেকে দূরে রাখা হয়। এই ১৫ দিন মন্দিরে কোন অনুষ্ঠান করা নিষেধ। এই সময় ভগবান জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা দেবীকে রতন বেদী নামে এক বিশেষ বেদীতে রাখা হয়। এই সময়কে বলা হয় অনাবাসর কাল মানে পূজা করার জন্য অযোগ্য সময়। স্নান করানোর ফলে বিগ্রহ সমূহ বিবর্ণ হয়ে যায়। এই ১৫ দিনে জগন্নাথ দেবকে আগের সাজে ফিরিয়ে আনা হয়। ১৬ তম দিনে রথযাত্রার দিন জগন্নাথদেব, বলদেব ও সুভদ্রা দেবী কে আবার সবার দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

রথ যাত্রার ১৬দিন পূর্বের পূর্ণিমায় ভগবান জগন্নাথদেবকে স্নান করানো হয়। তারপর ভগবান ১৪দিন অসুস্থ লীলা করেন । একে বলা হয় প্রভুর অনবসর লীলা। এই দিন থেকে ভগবান রথ যাত্রার আগ পর্যন্ত মন্দিরে ভক্তদের দর্শন দান করেন না। এইসময় মন্দিরে জগন্নাথের চিত্রপট দর্শন হয়।

স্নান যাত্রা মাহাত্ম্যকথা..
পুরাণের মতে, ব্রহ্মার পুত্র স্বায়ম্ভুব মনু পৃথিবীতে ভগবানকে দর্শন করবার জন্য একটি মহাযজ্ঞের আয়োজন করেন, সেই যজ্ঞের প্রভাবে জগন্নাথদেবের আগমন ঘটে। সেই দিনটি ছিল জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথি। সেইজন্য এইদিনটিকে বলা হয় জগন্নাথদেবের আবির্ভাব তিথি। এই তিথিতে আবির্ভূত হয়ে ভগবান শ্রী জগন্নাথদেব স্বায়ম্ভুব মনুকে বলেন যে উপস্থিত ভক্তগন যেন সবাই মিলে পবিত্র জলে শ্রী জগন্নাথদেবকে স্নান করান। ওইদিন ভগবানকে স্নান করিয়ে ভক্তগন বহু প্রকার কল্যান লাভ করেন। এই জন্য এই স্নান দিবসে সুসজ্জিত স্নান বেদীতে জগন্নাথকে মহাসমারোহে স্নান করানো হয়ে থাকে।

অন্য পুরান কথায় বলা হয় যে, বহু পূর্বে ইন্দ্রদ্যুম্ন নামে সূর্যবংশীয় এক পরম বিষ্ণুভক্ত রাজা মালবদেশের অবন্তীনগরীতে রাজত্ব করতেন। তিনি ভগবান জগন্নাথ বা নীলমাধবের দর্শনের জন্য অত্যন্ত ব্যাকুল হয়েছিলেন। বহু চেষ্টার পর ভগবানকে খুঁজে  পেলে এই তিথিতে তিনি ভগবানের বিগ্রহ মন্দিরে স্থাপন করেন। সেই উপলক্ষ্যে মঙ্গল অধিবাস পুরঃসর মহাসমারোহে পুরীর ইন্দ্রদুম্ন্য সরবোরে দিব্য স্নানবেদীর ওপর তিনি ১০৮ কলস জলে জগন্নাথদেবের মহাভিষেক পুণ্য স্নানসেবা সম্পাদন করেন।

জয় জগন্নাথ, জয় বলদেব, জয় সুভদ্রাদেবী...জয় নিতাই, জয় গৌর, জয় শ্রীরাধে-শ্যাম...

নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন:
Shirt Piece

ধর্ম -এর সর্বশেষ