নারায়ণগঞ্জে শুরু থেকে দশমী পর্যন্ত মন্দির ফাঁকা না রাখার নির্দেশ

সিটি করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৭ পিএম, ৬ অক্টোবর ২০১৮ শনিবার



নারায়ণগঞ্জে শুরু থেকে দশমী পর্যন্ত মন্দির ফাঁকা না রাখার নির্দেশ

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শারদীয় দুর্গাপূজায় যাতে কোন প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করতে পারে সেই জন্য সোচ্চার থাকার জন্য আহবান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। পূজার শুরু থেকে দশমী পর্যন্ত মন্দির ফাঁকা না রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সিসি টিভি ক্যামেরা, স্বেচ্ছাসেবক, প্রহরী, বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের সকল নাম্বার সংরক্ষণ করার জন্য আহবান জানান তারা।

৬ অক্টোবর শনিবার দুপুরে শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকার বলদেব জিউর আখড়া ও শিব মন্দির প্রাঙ্গনে দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলা ও শহর পর্যায়ের পূজা মন্ডপের সভাপতি সেক্রেটারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ওইসব বক্তারা ওই সব কথা বলেন।

বিশুদ্ধ লোকনাথ পঞ্জিকা সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৮ অক্টোবর মহলায় অনুষ্ঠিত হবে। পরে ১৫ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৬ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৭ অক্টোবর মহাষ্টমী, ১৯ অক্টোবর মহানবমী ও ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমী।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি চন্দন শীল বলেন, নির্বাচনের বছর সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। অনেকেই সুযোগ সৃষ্টি করতে চাইবে। আর আমরা কোন সুযোগ দিতে চাই না। প্রতি ম-পে সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। প্রায় সময় দেখা যায় মন্দির ফাঁকা রেখে অনেকে বাসায় চলে যায়। এবার যেন তা না হয়। প্রয়োজনে একাধিক প্রহরী নিয়োগ দিয়ে তারপরই যেতে হবে।

তিনি আরো বলেন, যথাযথ নিয়মে পূজা করতে হবে। অনেকেই পূজায় মদপান করে গাঁজা খায়। আর সেই জন্য সকলের বদনাম হয়। তাই অনুরোধ করবো এ ধরনের কোন সুযোগ দিবেন না। পূজায় মায়ের আরতী হবে, মন্দিরে ধর্মীয় গান হবে, লাইটিং হবে এসব দিয়ে আনন্দ হবে। আমাদের যেন কেউ মিথ্যা অপবাদ দিতে না পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

এর আগে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপের সভাপতি সেক্রেটারী সহ প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দাবি জানান। তারমধ্যে ছিনতাইকারী রোধ, রাস্তায় বাতি, অতিরিক্ত পুলিশ, রাস্তার সমস্যা, বিসর্জনের সময় বাড়ানো ইত্যাদি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর সাহা বলেন, এ সব বিষয়ে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। তারা সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। এছাড়াও অপরাধ করলে কোন প্রকার ছাড় না দেওয়ারও কঠোর হুশিয়ারী দিয়েছেন। সেহেতু আমরা নিরাপদে পূজা করতে পারবো এ আশা আমরা রাখি। তারপরও দুষ্কৃতিকারীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টায় থাকে সেজন্য সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। 

তিনি আরো বলেন, মায়ের বিসর্জন মূলত মন্দিরে হয়ে যায়। পরে শুধু মন্দির থেকে জলে বিসর্জন দেয়া হয়। তাই সবকিছুর বিবেচনা করে দ্রুত বিসর্জন করাই ভালো। এছাড়া যেকোন সমস্যা আমাদের ফোন দিলে আমরা সহযোগিতা করবো। তবে অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে জোর দিতে হবে। 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শংকর সাহার সভাপতিত্ব ও সাংগঠনিক সম্পাদক দিলীপ কুমার মণ্ডলের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সুজন সাহা, সদর উপজেলা পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত মণ্ডল, বলদেব জিউর আখড়া ও শিব মন্দির পূজা কমিটির সভাপতি জয়কে রায় চৌধুরী বাপ্পী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত এবছর নারায়ণগঞ্জ জেলার পূজামণ্ডপ গুলোর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬৮টি, বন্দর উপজেলায় ২৫টি, সোনারগাঁ উপজেলায় ৩৪টি, রূপগঞ্জ উপজেলায় ৪৭টি, আড়াইহাজার উপজেলায় ২৯টি পুজা অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে গতবছর ১৯০টি পূজামণ্ডপে দূর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হয়। এর জন্য থাকবে কঠোর নিরাপত্তা।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও