নলুয়াপাড়া জামে মসজিদের টাকার হিসেব নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১০ পিএম, ১৮ মার্চ ২০১৯ সোমবার

নলুয়াপাড়া জামে মসজিদের টাকার হিসেব নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডে দক্ষিণ নলুয়া জামে মসজিদের আয় ব্যায়ের হিসেব নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা কাটছে না। এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশে আয় ব্যয়ের হিসেব প্রদান করা হলেও তা নিয়ে উঠেছে আপত্তি। পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে কার বক্তব্য সঠিক সেটা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

স্থানীয়রা বলছেন, এমপি সেলিম ওসমান সরাসরি এ নিয়ে হস্তক্ষেপ ও তিনি হিসেব না নিলে সহসাই বিতর্কের অবসান হবে না।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডে শহরের নলুয়া জামে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির হোসেন ও সাবেক কাউন্সিলর মোঃ কামরুল হাসান মুন্না সহ ২২জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মুন্না বর্তমানে মহানগর শ্রমিক লীগের সেক্রেটারী। ১৮ ফেব্রুয়ারী ভোরে নলুয়া এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে রোববার দিনগত গভীর রাতে মসজিদ কমিটির বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। গ্রেফতার ২২জনকে ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে পাঠায় পুলিশ। পরে আদালতে দুই পক্ষ সমঝোতায় আপোষনামা দাখিল করলে আদালত জামিন প্রদান করেন। ১৮ ফেব্রুয়ারী বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আহমেদ এর আদালত এ আদেশ দেন।

পরদিন কাউন্সিলর কবির হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, তিনি মারধরের শিকার হয়েছেন তাতে দু:খ নেই তিনি মসজিদের আয় ব্যয়ের হিসাব চান।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারী বিকেলে নলুয়াপাড়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছিলেন, ১৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলর দুজন প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন এটা খুবই দুঃখজনক। কেউ বলেছেন মসজিদ কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, আবার কেউ বলছেন মসজিদ কমিটির টাকার হিসেব নিয়ে দ্বন্দ্ব যা এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রুপ নিয়েছে। টাকার হিসেব অবশ্যই হবে। আমি নিজেই টাকার হিসেব চাইব। আর কাউন্সিলর কবির সাহেব জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি উনি মসজিদ কমিটির টাকার হিসেব চাইতেই পারে। আর মসজিদ কমিটিতে কে থাকবে, কে থাকবে না এটা কারো বলার অধিকার নেই। জনগণ যাকে চাইবে তাকে কমিটিতে রাখা হবে। আগামী ৭ মার্চের মধ্যে মসজিদ কমিটির টাকার হিসেব সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। এর পরে দুই পক্ষকে নিয়ে টাকার হিসেবের জটলা খোলাসা করবো। এতে এই সমস্যা আর থাকবেনা।’

জানা গেছে, এমপি সেলিম ওসমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ৭ মার্চের পূর্বেই গত ৫ মার্চ বাংলাদেশ পাট আড়তদার সমিতির সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন আহমদ লাভলুকে হিসেব বুঝিয়ে দিয়েছিল নলুয়া জামে মসজিদের বর্তমান কমিটির নেতৃবৃন্দ। ওই হিসাব বুঝে নেয়ার সময়ে তাতে সাক্ষরও করেছেন লাভলু। যাতে গত ২০১৮ সালের জুন থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সাড়ে ১৮ লাখ টাকার হিসেবে দেয়া হয়। যাতে ৯ মাসের খরচ বাদ দিয়ে দু’টি ব্যাংক একাউন্টে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা জমা ও মসজিদ কমিটির সভাপতির মোঃ কামরুল হাসান মুন্নার কাছে নগদ প্রায় ৩ লাখসহ সাড়ে ১২ লক্ষাধিক টাকা উদ্বৃত্ত দেখানো হয়। অর্থাৎ সকল উন্নয়ন কাজ ও ব্যয় নির্বাহের পরেও মসজিদ কমিটির কাছে বর্তমানে সাড়ে ১২ লক্ষাধিক টাকা জমা রয়েছে। যার মধ্যে সভাপতি মুন্নার কাছে নগদ ৩ লাখ ১৯ হাজার টাকার কথা উল্লেখ ছিল।

শুক্রবার ১৫ মার্চ জুমআর নামাজের সময় মসজিদে সভাপতি মুন্না মসজিদের নামে দু’টি ব্যাংক একাউন্টে থাকা ১২ লাখ টাকার হিসেব মুসল্লীদের মাঝে ঘোষণা দেন। এছাড়া মসজিদ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সামছুল আলমের হাতে ইমাম মুয়াজ্জিনের বেতন ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক খরচের জন্য রয়েছে নগদ ৪৭ হাজার ৬০৬ টাকা।

তবে লাভলু বলেছেন, মুন্না মসজিদের টাকার যে হিসাব দিয়েছেন সেটা সঠিক হয়নি। সেলিম ওসমানের কাছ থেকে পাওয়া ২০ লাখ, পপুলার জুটের ১১ লাখ এবং চামড়া বিক্রির টাকার হদিস নেই। মাত্র ১ বছরের হিসেব দিয়েছেন মুন্না। কিন্তু হিসেব দেওয়ার কথা ৭ বছরের। হিসেবে অনেক অসঙ্গতি আছে।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও