শেষ হলো লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসব : অনুষ্ঠানে কলংকের তিলক

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩২ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৯ শনিবার

শেষ হলো লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসব : অনুষ্ঠানে কলংকের তিলক

বৃষ্টিতে দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দের পুণ্যস্নান সমাপ্ত হয়েছে। আয়োজকদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকান্ডে পুণ্যস্নানের ঐতিহ্যে নতুন করে কলঙ্কের দাগ লেগেছে। কিন্তু বরাবরই প্রশাসনের ভূমিকায় কোন প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ভাবে পুণ্যার্থীরা ফিরে গেছে নিজ নিজ গন্তব্যে।

১৩ এপ্রিল শনিবার সকাল ৮টা ৫৫মিনিট ২২ সেকেন্ড পুণ্যস্নানের তিথি শেষ হয়। কিন্তু এর আগে থেকেই লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে প্রণাম করে ভক্তরা যার যার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছুটতে শুরু করে। যা শুক্রবার সকাল ১১টা ৫মিনিটে লগ্ন শুরুর মাধ্যমে ভক্তদের ভীড় বাড়তে থাকে।

শুক্রবারের মতোই শনিবারও দেখা যায়নি ব্যবসায়ী নেতাদের যারা লাঙ্গলবন্দে স্নান উদযাপন কমিটির শীর্ষ পদগুলো দখল করে রেখেছেন। সকাল গড়িয়ে বিকেলেও স্নান উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান করতে দেখা যায়নি যা পুণ্যস্নানের ইতিহাসে প্রথম হয়েছে।

আয়োজকদের কয়েকজন জানান, স্নানের তিথি শেষ হওয়া মানে শীর্ষ ব্যবসায়ী হিন্দু নেতারা হাফ ছেড়ে বেঁচে গেছে। কারণ নেতাদের কারণে ভক্তদের যে দুর্ভোগ হয়েছে তাতে অনেকেই অনেক কিছু বলেছে। এবারের আয়োজন ছিল সম্পূর্ন ফ্লপ। নামেই নেতারা শীর্ষ পদে ছিল কিন্তু কোন কাজে ছিল না। স্টুডিও থেকে ক্যামেরা এনে ফটোসেশন করে স্মৃতি রেখেছে। কিন্তু এসব নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

নেতারা বলেন, এবছর নিরাপত্তার বিষয় ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পালনের সবচেয়ে বড় ভূমিকাই ছিল পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের। এর পুরো কৃতিত্ব যদি পায় তারাই পাবে। এর একটি উদাহরণ হলো বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই বিকেলে আলোচনা সভা হয়নি। সভায় প্রধান অতিথি করা হয় এমপি সেলিম ওসমানকে। এজন্য মঞ্চও করা হয়। এ সভা হবে না সেই বিষয়েও প্রশাসনকে কোন কিছু জানানো হয়নি। বিকেলে অনেক অতিথি হলেও নেতাদের কেউ খুঁজে পায়নি। তাদের ফোন করে জানতে হয়েছে আলোচনা সভা হবে না। এ ছিলো তাদের আয়োজন ও কর্মকান্ড। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে এ কৃতিত্ব নিতে আয়োজক কমিটির ওইসব শীর্ষ নেতারাই এগিয়ে থাকবেন।

এমপি সেলিম ওসমানের পরিদর্শনের সময়ও শীর্ষ নেতারা পাশে ছিলেন না জানান স্নান ঘাটের অনেক সাধারণ লোকজন। এদিকে শুক্রবার বিকেলে লাঙ্গলবন্দে স্নান করতে গিয়ে এক পুণ্যার্থী অসুস্থ হয়ে মারা যান। কিন্তু এ বিষয়ে নেতাদের তেমন কোন সহযোগিতা পাননি বলে নিহতের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন।

পুণ্যার্থীদের সেবায় যেকয়টি সেবা ক্যাম্প করা হয়েছে সেগুলোও বিভিন্ন অঞ্চল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে ছিল না একটি আশ্রয় কেন্দ্রও। আশ্রয় কেন্দ্র তো দূরের কথা পুণ্যস্নানের জন্যও এসব আয়োজকদের ঘাটে লাইন ধরে স্নান করতে দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আয়োজক কমিটির কয়েকজন জানান, সভাপতি ও সেক্রেটারী সহ আয়োজক কমিটির বড় বড় শীর্ষ পদে ধনী লোকেরা দখল করে রেখেছে। যারা মূলত তেমন কোন কাজ করেন না। নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পরিচয় জাহির করতে ব্যস্ত থাকেন। আর নিজেদের ব্যক্তিত্ব দেখাতে এসব কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারী সহ শীর্ষপদগুলো দখল করেছেন। আর এসব পদ ভাঙিয়ে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রশাসনের সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের আস্থা গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা শীর্ষ পদে থাকলেও এতো বড় অনুষ্ঠানের তাদের নামমাত্র অনুদান করে থাকেন। কিন্তু অনুষ্ঠানের বড় অংশই আসে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সহ ব্যক্তিগত অনুদান থেকে।

নেতারা আরো জানান, গুজব ছড়িয়ে নিহতের পর কমিটির মূল্য রহস্য বের হয়। তখনই প্রকাশ প্রায় কমিটির মধ্যে গন্ডগোল। এরপর নতুন করে কমিটি করা হয় যেখানে সভাপতি হয় ব্যবসায়ী সরোজ সাহা ও সেক্রেটারী হয় সুজিত সাহা। আরো একজন ব্যবসায়ী আছেন কার্যকরী সদস্য পদে শংকর সাহা। এছাড়াও আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী আছে। এ কমিটিতে এমন নেতা আছেন যাদের বিরুদ্ধে মন্দিরের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও আছে। তেমন একজন হলে মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সেক্রেটারী শিপন সরকার শিখন। এ ব্যবসায়ীরা কমিটিতে এসেছেন তাদের সামজে অবস্থান তৈরির পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুবিধা জন্য। আর কিছু আছেন উদযাপনের নামে আসা অর্থের সুবিধা নিতে।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও