আহলান সাহলান মোবারক হো মাহে রমজান

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩১ পিএম, ৬ মে ২০১৯ সোমবার

আহলান সাহলান মোবারক হো মাহে রমজান

আহলান সাহলান মোবারক হো মাহে রমজান। বছর ঘুরে আবারো মানবতার সুমহান আদর্শ, শান্তি, সম্প্রীতি, ত্যাগ ও তিতিক্ষার বার্তা নিয়ে মুসলমানদের দরবারে হাজির হলো সে-ই সংযমের মাস। অসীম রহমত, ফজিলত ও বরকতে পরিপূর্ণ যে মাসকে স্বয়ং আল্লাহ ‘নিজের মাস’ হিসেবে পবিত্র কুরআনে ঘোষণা দিয়েছেন। মর্যাদা ও মাহাত্ম্যের দিক দিয়ে আল্লাহ পবিত্র রমজানকে অভিষিক্ত করেছেন শ্রেষ্ঠত্বের শীর্ষ স্থানে।

পরম করুণাময় আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন, `হে ইমানদারগণ তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেমন তোমরা ``তাকওয়া`` অর্জন করতে পার`। (সুুরা আল-বাকারা ১৮৩ আ.)।

আরবি চন্দ্রমাসের মধ্যে রমজানকে সর্বোত্তম মাস করার পাশাপাশি আল্লাহতালা মানবজাতিকে আত্মশুদ্ধি এবং আত্মোৎসর্গ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এ সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাতে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মানুষ অধীর আগ্রহে সারাবছর অপেক্ষায় থাকেন পবিত্র রমজানের শুভাগমনের।

আল্লাহপাক রমজান মাসের রোজা ফরজ করেছেন এবং এর রাতগুলোতে আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে নফল ইবাদতরূপে সুনির্দিষ্ট করেছেন। হাদিস শরিফে উল্লেখ করা হয়েছে, যে ব্যক্তি এ রাতে আল্লাহর রেজামন্দি, সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কোনো ওয়াজিব, সুন্নাত বা নফল আদায় করবে, তাকে এর জন্য অন্যান্য সময়ের ফরজ ইবাদততুল্য সওয়াব প্রদান করা হবে। আর যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো ফরজ আদায় করবে, সে অন্যান্য সময়ের সত্তরটি ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব লাভ করবে। এ মাস ধৈর্য, তিতিক্ষা ও সবরের।

ধৈয্যের প্রতিফল হিসেবে আল্লাহর কাছ থেকে জান্নাত লাভ করা যাবে। এটা পরস্পর সৌজন্য ও সহৃদয়তা প্রদর্শনের মাস। এ মাসে মুমিন বান্দাদের রিজিক প্রশস্ত করে দেয়া হয়। এ মাসে যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে এর বিনিময়ে তার গুণাসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং জাহান্নাম থেকে তাকে মুক্তি ও নিষ্কৃতি দেয়া হবে। আর তাকে আসল রোজাদারের সমান সওয়াব দেয়া হবে। তবে সেজন্য আসল রোজাদারের সওয়াব বিন্দুমাত্র কম করা হবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা আরজ করলামথ ইয়া রাসুলুল্লাহ, আমাদের মধ্যে সবাই রোজাদারকে ইফতার করানোর সামর্থ্য রাখে না তাহলে তারা কীভাবে এই পুণ্য লাভ করবে? তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি রোজাদারকে একটা খেজুর, দুধ বা এক ঢোক সাদা পানি দ্বারাও ইফতার করাবে, তাকেও আল্লাহপাক এই সওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি একজন রোজাদারকে পূর্ণমাত্রায় পরিতৃপ্ত করবে আল্লাহপাক তাকে হাউসে কাউসার হতে এমন পানীয় পান করাবেন যার ফলে জান্নাতে প্রবেশ না করা পর্যন্ত সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না।

এটা এমন এক মাস যে, এর প্রথম দশ দিন রহমতের ঝর্ণাধারায় পরিপূর্ণ। দ্বিতীয় দশ দিন ক্ষমা ও মার্জনার জন্য সুনির্দিষ্ট এবং শেষ দশ দিন জাহান্নাম হতে মুক্তি ও নিষ্কৃতি লাভের উপায়রূপে নির্ধারিত। আর যে ব্যক্তি এ মাসে নিজের অধীনস্থ লোকদের শ্রম ও মেহনত হ্রাস বা হালকা করে দেবে, আল্লাহপাক তাকে ক্ষমা প্রদর্শন করবেন এবং তাকে জাহান্নাম হতে নিষ্কৃতি ও মুক্তিদান করবেন। আল্লাহপাক এর মহান বাণী পবিত্র আল-কুরআনসহ আসমানী কিতাবসমূহ এই মাসে নাজিল হয়েছে। এই মাসেই রয়েছে পবিত্র লাইলাতুল কদর। যার মূল্য হাজার মাস ইবাদতের ঊর্ধ্বে।

রমজান মাসের সম্মানজনক মর্যাদা সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, `যখন রমজান মাস আগত হয় তখন আকাশ বা বেহেশতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, সারা রমজান মাসে তা বন্ধ করা হয় না, আর দোজখের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়, সারা রমজান মাসে তা খোলা হয় না, আর শয়তানকে জিঞ্জিরে বন্দি করা হয়।` (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজা)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহতাআলা বলেছেন: আদম সন্তানের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, তবে রোজা ব্যতীত, কেননা রোজা আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দেব।` (বুখারি ও মুসলিম)।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও