তৃতীয় রমজান : কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত অপরিসীম

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১২ পিএম, ৮ মে ২০১৯ বুধবার

তৃতীয় রমজান : কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত অপরিসীম

মাহে রমজানের তৃতীয় দিবস ৩০ মে মঙ্গলবার। সবাই নিমগ্ন ইবাদতের মাধ্যমে সওয়াব হাছিল ও গুনাহ থেকে পরিত্রাণ এবং জাহান্নামের আগুন থেকে নিষ্কৃতি লাভের আশায়। তাই সবদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশের কাছে মাথা নত করে গভীর সাজদায় লুটিয়ে পড়ে আল্লাহর রিজামন্দি হাসিলের চেষ্টায় ব্যাকুল বিশ্বের শতকোটি মুসলমান। রোজার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন। তাই আমাদের উচিত এ মাসে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করা। রোজা পালন ও নামাজ আদায়ের পাশাপাশি কোরআন তেলাওয়াতে মনোযোগী হওয়া। রমজান কোরআন নাজিলের মাস। এ জন্য রমযান মাসে কোরআন তেলাওয়াত ও অনুশীলনের ফজিলত অপরিসীম। ঐচ্ছিক ইবাদতগুলোর মধ্যে কোরআন তেলাওয়াত সর্বোৎকৃষ্ট।

রমজানে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, `তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে তা শিক্ষা দেয়, সেই সর্বোত্তম।`-বুখারি শরীফ।

মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। প্রতি রমজানে জিবরাইল (আ.) বারবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কোরআন পুনরাবৃত্তি করতেন। এ সম্পর্কে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, `রমজান মাসের প্রতি রাতে জিবরাইল (আ.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর খিদমতে হাজির হতেন এবং তাঁরা উভয়ই কোরআনুল কারীম তেলাওয়াত করে একে অপরকে শোনাতেন।`-বুখারি শরীফ।

মহানবী (সা.) বলেছেন, `ইবাদতসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদত হচ্ছে কোরআন পড়া। তিনি আরো বলেন, তোমরা কোরআন পড়। কারণ কিয়ামতের দিন এই কোরআন স্বীয় পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে।` -মুসলিম শরীফ
মিশকাত শরীফে বর্ণিত আছে, `লোহায় পানি লাগলে যেমন মরিচা পড়ে তেমনি মানুষের অন্তরসমূহেও মরিচা পড়ে। মহানবীকে (সা.) জিজ্ঞাসা করা হলো `হে আল্লাহর রাসূল (সা.) এর প্রতিষেধক কী? উত্তরে মহানবী (সা.) বললেন, মৃত্যুকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করা এবং কোরআন তেলাওয়াত করা।`

কোরআন তেলাওয়াত মানবাত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। মনে আনে অফুরন্ত ও অনাবিল প্রশান্তি। কোরআন তেলাওয়াত করা মুমিনদের জন্য সওয়াবের কাজ। এ মর্মে রাসূল (সা.) বলেছেন, `যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পাঠ করে তার জন্য ১০টি নেকী রয়েছে।` (তিরমিযী)

কোরআন হলো জ্ঞানের সাগর। জ্ঞানাহরণ এবং আল্লাহর প্রদর্শিত পথে চলার জন্য কোরআন পাঠের কোনো বিকল্প নেই। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সংলাপ করা হয়।

রাসূল (সা.) বলেছেন, `যে ব্যক্তি কোরআন মাজিদ পড়বে ও তা হেফাযত করবে এবং তার হালালকৃতকে হালাল ও হারামকৃতকে হারাম জেনে চলবে আল্লাহপাক তাকে জান্নাতে স্থান দেবেন এবং তার আত্মীয়বর্গের মধ্য হতে এমন দশজন লোকের জন্য তার সুপারিশ গ্রহণ করবেন, যাদের জন্য জাহান্নাম সাব্যস্ত হয়েছিল।

বিশ্বনবী রাসূলে আকরাম (সা.) অন্যত্র আরো বলেছেন, `অন্তরের কলুষতা পরিষ্কার করার উপায় হলো বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করা এবং কোরআন তেলাওয়াত করা।-মিশকাত শরীফ

কোরআনুল কারীম রমজান মাসের `লাইলাতুল কদর`-এ অবতীর্ণ হয়। কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার শুরু থেকে কিয়ামত অবধি অপরিবর্তিত ও পূর্ণাঙ্গ সুসংরক্ষিত থাকা কোরআনুল কারীমের অনন্য এক বৈশিষ্ট্য। কোরআন হেদায়েতপ্রাপ্তির আলোকবর্তিকা। যে যত বেশি কোরআনের আলোয় আলোকিত হবে, সে তত বেশি সফলকাম হবে।

রমজান মাসের সঙ্গে কোরআনুল কারীমের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ জন্য উলামায়ে কেরাম, বুজুর্গানে দ্বীন এবং পীর-মাশায়েখরা এ মাসে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করতেন। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা.) প্রতিদিন একবার কোরআন খতম দিতেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) রমজানে সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত কোরআন তেলাওয়াত করতেন। হযরত ইমাম আবু হানিফা (রহ.) দিনে এক খতম, রাতে এক খতম, তারাবি নামাজে এক খতম আর আউয়াবিন নামাজে এক খতম এভাবে প্রতি রমজানে ৬২ খতম কোরআন তেলাওয়াত করতেন।

আমাদের পূর্ববর্তী বুজুর্গদের আমলই হলো আমাদের ইবাদত-বন্দেগির মাপকাঠি। সেই মাপকাঠির আলোকে রমজানে সঠিক ও বিশুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াতে অভ্যস্ত হতে হবে। কোরআন তেলাওয়াত, মুখস্থ ও এর আলোকে জীবন গড়ার ফজিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, `যে ব্যক্তি কোরআন তেলাওয়াত করে এবং তদনুসারে আমল করে, কিয়ামতের দিন তার পিতামাতাকে এমন এক উজ্জ্বল মুকুট পরানো হবে, যা দুনিয়ায় কোনো ঘরের মধ্যে অবস্থানরত সূর্যালোকের চেয়ে অধিক উজ্জ্বলতর হবে।`-আবু দাউদ

অতএব, কোরআনুল কারীমের অন্তর্নিহিত মর্মবাণী বুঝতে রমজানে কোরআন তেলাওয়াত অন্যান্য মাসের চেয়ে বাড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। মূলত কোরআন শুধু রমজানেই নয়; সারা বছরই নিয়মিত তেলাওয়াত করা উচিত। তারপরও রমজানে তেলাওয়াতের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় এই কারণে যে, রমজানের যে কোনো ধরনের ইবাদত-বন্দেগিতে অন্য সময়ের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি নেকি হাসিল হয়। তাই রমজান মাসে রোজাদার মুমিন বান্দারা কোরআন তেলাওয়াতে বেশি মনোযোগী হয়ে থাকেন।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও