পঞ্চম রোজা : হালাল রুজির সন্ধান ফরজের পর ফরজ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০১ পিএম, ১০ মে ২০১৯ শুক্রবার

পঞ্চম রোজা : হালাল রুজির সন্ধান ফরজের পর ফরজ

১১  মে পঞ্চম রোজা। ইসলামে হালাল উপার্জনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘হে মানব জাতি, পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু তা হতে তোমরা আহার কর এবং শয়তানের পথ থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শক্র।’ (সুরা বাকারা-১৬৮)।

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘হালাল রুজি সন্ধান করা ফরজের পর একটি ফরজ।’ (তিরমিজি) হারাম কিছু আহার করার ব্যাপারে রাসূল (সা.) কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।’

হাদিসে এসেছে, যে দেহ হারাম খাদ্য বস্তু দ্বারা লালিত-পালিত তা কখনো জান্নাতে যাবে না। জাহান্নামই হবে তার একমাত্র ঠিকানা। (বুখারি)। তাই অবস্থান ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রত্যেক মুমিন মুসলমানকে হালাল জীবিকা উপার্জনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

হালাল রিজিক অনুসন্ধানের জন্য তিনি মানুষকে স্পষ্ট কিছু নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ রিজিক সন্ধান করবে।’ (সুরা জুম’আ-১০)। অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা জীবন উপকরণ কামনা কর আল্লাহর নিকট এবং তারই ইবাদত কর আর তারই প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (সুরা আনকাবুত-১৭)। হজরত উমর ফারুক (রা.) বলেন, ‘তোমরা কেউ জীবিকা অন্বেষণ ছেড়ে দিয়ে অলসভাবে বসে থেকো না, কেননা জীবিকা সন্ধান করার দায়িত্ব তোমাদেরই। নিশ্চয় যারা অলসভাবে বসে থাকে আর বলে জীবিকা তো মহান আল্লাহ তায়ালার হাতে, তারা বোঝে না প্রভুর হিকমত। তারা হলো অজ্ঞ, আল্লাহ মহান, সর্বজ্ঞ।’

অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা একে অপরের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে বা অবৈধ পন্থায় ভক্ষণ করো না। তবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারো।’ (সুরা নিসা : আয়াত ২৯)।’

এদিকে ইসলামে নিজ হাতের উপার্জনকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আল্লাহর রাসূল (সা.) নিজে উপার্জন করেছেন। সাহাবাগণ উপার্জন করেছেন। এমনকি নারী সাহাবাগণও সাধ্যমতো উপার্জন করেছেন। তাদের উৎপাদন, বিনিয়োগ, আয়, ব্যয় ও ভোগ ইত্যাদি সবক্ষেত্রে ইসলামের মৌল চেতনার প্রভাব কার্যকরভাবে বিদ্যমান ছিল। সে সময় উৎপাদনের প্রতি এতটা গুরুত্বারোপ করা হয় যে, জমি পতিত অবস্থায় রাখতে ইসলামে নিষেধ করা হয়েছে। জমি পতিত অবস্থায় ফেলে রাখার দায়ে হজরত উমর (রা.) সাহাবি হযরত বিলাল বিন হারেছ (রা.) হতে বন্দোবস্তকৃত জমি ফেরত নিয়েছিলেন।

অন্যদিকে সম্পদ অর্জনে পুঁজিকরণ ও মজুদদারিতাকেও হারাম করা হয়েছে। এ ছাড়া অপব্যয় করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। আর এসবেরই মূল কারণ হলো শোষণ রোধ করে সামাজিক ভারসাম্যতা রক্ষা করা।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি পৃথিবীর সবকিছু তোমাদের (ব্যবহারের জন্য) তৈরি করেছেন।’

তবে এক্ষেত্রে তিনি মানুষকে দিয়েছেন পূর্ণ স্বাধীনতা যা তার ইখতিয়ারভুক্ত একান্ত নিজস্ব ব্যাপার। ফলে প্রত্যেকে স্ব-স্ব যোগ্যতা, মেধা, শ্রম ও সময়ের যথোপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যেমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রয়াস চালায়।

এদিকে মহান আল্লাহ মানুষকে অর্থনীতির গুরুত্ব অনুধাবন বোধগম্য করার নিমিত্তে পবিত্র কোরআনে সালাতের পাশাপাশি যাকাত তথা অর্থের উল্লেখ ৮২ স্থানে করেছেন। শুধু তাই নয়, মহান আল্লাহ অর্থনৈতিক বিধানও নির্দেশ করেছেন। ফলে কোরআনুল কারিমকে একটি অর্থবিদ্যার মহাকোষ বললেও অত্যুক্তি হবে না। মানুষ কীভাবে উপার্জন করবে, কোন পন্থায় তা ব্যয় করবে এবং উপার্জনের ক্ষেত্রে যাবতীয় অর্জনীয় ও বর্জনীয় গুণাবলীর সম্পর্কে এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা বিদ্যমান। তাইতো ব্যক্তির উপার্জিত সম্পদে তিনি জাকাত ফরজ করেছেন, যেন সম্পদ একশ্রেণির লোকের মাঝে সীমাবদ্ধ না থাকে।

ইসলাম ব্যবসা-বাণিজ্যকে শুধু বৈধ বলেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং এ ব্যাপারে সবিশেষ উৎসাহ ও গুরুত্ব প্রদান করেছে। যেন মুসলিম উম্মাহ পৃথিবীর বুকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারে। মুরসাল হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তোমরা ব্যবসা-বাণিজ্য কর। কারণ তাতেই নিহিত রয়েছে নয়-দশমাংশ জীবিকা।

তাছাড়া সততা, বিশ্বস্ততা, ন্যায়পরায়ণতা, ধোঁকামুক্ত, কল্যাণমুখী মানসিকতাসম্পন্ন ব্যবসায়ীদের প্রশংসায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক হাদিস বিদ্যমান। এ ধরনের ব্যবসায়ীকে তিনি নবীগণ, ছিদ্দিক ও শহীদদের সমমর্যাদাপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যবসায়ী (পরকালে) নবী, সিদ্দিকীন ও আল্লাহর পথে জীবন বিসর্জনকারী শহীদদের সঙ্গী হবে।’


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও