১৮ রোজা : পর্দানশীন নারীর উপার্জন হালাল

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩২ পিএম, ২৩ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার

১৮ রোজা : পর্দানশীন নারীর উপার্জন হালাল

নশ্বর পৃথিবীর প্রতি মোহ ও আকর্ষণ কমাতে এবং চিরস্থায়ী নিবাস আখিরাতের প্রতি নিবিষ্টতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর ইসলামের অন্যতম বুনিয়াদি ইবাদত সিয়াম সাধনার মাস রমজানুল মুবারকের অষ্টাদশ দিবস আজ। আর মাত্র দুদিন পর শুরু হবে নাজাতের দশক।

পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধির মাস, মানসিক উৎকর্ষ সাধনের মাস ও দৈহিক সুষমা পূর্ণতার মাস। ধর্মীয় বিধিনিষেধ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের মাস। হালাল-হারাম সম্পর্কে হুশিয়ার হওয়ার দিন। বিশেষ করে উপার্জন সম্পর্কে মুমিন বান্দাদের সতর্ক হওয়ার সময়। কারণ হারাম উপার্জনে ক্রয়কৃত খাদ্যও ইমানদার মুসলমানের জন্য হালাল নয়।

আমাদের দেশে নানাবিধ কারণে বর্তমানে নারীর উপার্জন বিষয়ে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা ও তর্ক-বিতর্ক আছে। অতি রক্ষণশীলরা নারীদের উপাজর্নের বিষয়টি এখনো মেনে নিতে পারেননি। অবশ্য মধ্যপন্থীদের অভিমত হলো, নারী তার স্বকীয়তা, আলাদা বৈশিষ্ট্য ও মান-সম্মান বজায় রেখে আয়-উপার্জনের পথ বেছে নিতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ তারা নবী (সা.)-এর আমলের বেশ কয়েকজন মহিলা সাহাবির কথা উল্লেখ করেন। ওই সাহাবিরা মদিনার বাজারে বিভিন্ন ব্যবসা করতেন এমনকি অনেকে কৃষিকাজও করেছেন।

ধর্মীয় গ্রন্থে রয়েছে, ইসলাম সবসময়ই নারীদের শালীন পরিবেশে শিক্ষা, কাজ ও চলাফেরার কথা বলে। শরিয়ত নির্ধারিত গন্ডির মধ্যে থেকে নারীরা অবশ্যই শিক্ষা অর্জনসহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। ইসলাম কোথাও নারীকে বন্দি করে রাখার কথা বলেনি। এমনকি ইসলাম নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অধিকারও প্রদান করেছে। কুরআনে কারিমের সূরা বাকারার ১৮৬ নাম্বার আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আমি ব্যবসাকে হালাল করেছি এবং সুদকে হারাম করেছি।` এই আয়াতে ব্যবসা হালাল হওয়া এবং সুদ হারাম হওয়া নারী-পুরুষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। একজন পুরুষ হালাল পন্থায় যেসব ব্যবসা করতে পারবে। নারীও সে ধরনের ব্যবসা করতে পারবে। সে বিবাহিত হোক কিংবা অবিবাহিত হোক। সে তার অর্জিত সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী। সে কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই তার সম্পত্তির ব্যাপারে সব ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে, যা একজন পুরুষের জন্যও প্রযোজ্য।

কুরআন ও হাদিসের কোনো স্থানে নারীর কাজকর্মের ব্যাপারে কোনো বিধিনিষেধ আরোপিত হয়নি। শুধু দুটি বিষয়ের প্রতি সঙ্গত কারণে নির্দেশ দিয়েছে। শর্ত দুটি হলো প্রথমত, ব্যবসা হতে হবে হালাল পদ্ধতিতে ও শরিয়ত নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে। দ্বিতীয়ত, পর্দা রক্ষা করতে হবে। তাছাড়া ইসলাম নারীদের সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী কোনো পেশায় নিয়োজিত হতেও নিষেধ করেছে।

এ ছাড়া শরিয়ত অনুমোদিত সব ব্যবসা বা কাজ করার অনুমতি দিয়েছে ইসলাম। যদিও ইসলাম নারীদের কোনো আয়-রোজগারের দায়িত্ব দেয়নি। দেয়নি পরিবার লালন-পালন ও ভরণ- পোষণের কর্তব্য। ইসলামের পারিবারিক ব্যবস্থায় গোটা পরিবারের অর্থনৈতিক প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণের দায়িত্ব একমাত্র পুরুষের।

ইসলামের পারিবারিক ব্যবস্থায় নারীর আয়ের অনেক উৎস ও মাধ্যম থাকলেও ব্যয়ের বাধ্যতামূলক কোনো খাত নেই। ইসলাম নারীর ওপর অর্থনৈতিক কোনো দায়দায়িত্ব চাপায়নি। পরিবারের যাবতীয় আর্থিক দায়দায়িত্ব বহন করা পুরুষের ওপর অর্পিত হয়েছে। তাই নারীর চাকরি তার ইচ্ছাধীন। তবে পুরুষের উপার্জনে যদি সংসার চালানোর জন্য যথেষ্ট না হয় এবং প্রকৃত অভাবের সময়, সঙ্কটকালে উভয়েরই চাকরি করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে চাকরির বিষয়ে নারীর স্বাধীনতা রয়েছে। ইচ্ছা করলে সে চাকরি করতে পারে, ইচ্ছা করলে নাও করতে পারে। কেউ জোর করে তার ঘাড়ে চাকরির বোঝা চাপিয়ে দিতে পারে না। এমনকি তার উপার্জিত অর্থ-সম্পদও কেউ নিতে পারবে না। তার জমা-খরচে কেউ খবরদারি ও নজরদারি করতে পারবে না। উপার্জনকারী নারী তার ইচ্ছামতো খরচের অধিকার রাখে। এটাই ইসলামের বিধান।

একই সঙ্গে ইসলাম নারীকে পর্দার মধ্যে থেকে উপার্জনের হুকুম দিয়েছে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন : `(হে নারীগণ!) তোমরা তোমাদের ঘরের (বাড়ির চতুর্সীমানার) ভিতর অবস্থান কর এবং বাইরে বের হইও না যেমন ইসলামপূর্ব জাহিলি যুগের মেয়েরা বের হতো।` (সূরা আহজাব, আয়াত : ৪৩)

আল্লাহতায়ালা আরো ইরশাদ করেন, `(হে নবী!) আপনি আপনার পত্মীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, যখন কোনো প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হয়, তখন তারা যেন তাদের চাদরের কিয়াদাংশ নিজেদের ওপর টেনে নেয়। (যেন পর্দার ফরজ লংঘন না করে। এমনকি চেহারাও যেন খোলা না রাখে। তারা যেন বড় চাদরের ঘোমটা দ্বারা নিজেদের চেহারাকে আবৃত করে রাখে।) ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (সূরা আহজাব, আয়াত : ৬০)

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, `যে সতর দেখবে এবং যে দেখাবে, তাদের ওপর আল্লাহ লানত,। (বাইহাকি) রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো ইরশাদ করেন, `স্ত্রী জাতির পর্দায় গুপ্ত থাকার সত্তা। কিন্তু যখনই তারা পর্দার বাহিরে আসে, তখন শয়তান তাদের দিকে ঝুঁকে।` (তিরমিজি)।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও