২৪ রোজা : এখন ইস্তেগফার জোরদারের সময়

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৮ পিএম, ২৯ মে ২০১৯ বুধবার

২৪ রোজা : এখন ইস্তেগফার জোরদারের সময়

সংযম পালনের মাধ্যমে শুদ্ধতা অর্জনের মাস রমজানের ২৪ তারিখ। পবিত্র মাসের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেছেন রোজাদার মুমিনেরা। দীর্ঘদিন সংযম পালনে তাদের মানসিকতার আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ভক্তি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসার যে মাত্র সংযোজিত হয়েছে, তা তাদের জন্য শরিয়ত অনুযায়ী জীবন নির্বাহের চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে।

হাদিস শরিফে আল্লাহর প্রতি ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি ভালোবাসার তাগিদ ও প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ রয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা রা: বর্ণিত হাদিসে ঈমানের স্বাদ অনুভব করার জন্য তিনটি শর্ত বলা হয়েছে- আল্লাহ ও তার রাসূলকে অন্যসব কিছুর চেয়ে বেশি ভালোবাসা, আল্লাহর কোনো বান্দাকে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা এবং কুফরি জীবন থেকে মুক্তিলাভের পর আবার সে দিকে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো বিষয় অপছন্দ করা। হজরত আনাস রা: বর্ণিত হাদিসে মাতা-পিতা, সন্তান ও অন্য সব মানুষের চেয়ে আল্লাহর রাসূলকে বেশি ভালোবাসতে না পারলে ঈমান পরিপূর্ণ হবে না বলা হয়েছে। ভালোবাসা অর্থ মনের টান। ঈমানের জন্য বা ঈমানের স্বাদ লাভের জন্য আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি কোনো ধরনের ভালোবাসা থাকতে হবে- সহজাত না যৌক্তিক, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে তাত্ত্বিকদের মধ্যে। কিন্তু এতে তেমন সন্দেহের অবকাশ নেই যে, আল্লাহর নির্দেশ পালনে ও আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ অনুসরণে আগ্রহ এই ভালোবাসার মর্মকথা। তিরমিজি শরিফে সঙ্কলিত হজরত আনাস রা: বর্ণিত একটি হাদিসে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইরশাদ করেন, যে আমার সুন্নাহ ভালোবাসে সে আমাকে ভালোবাসে। আর যে আমাকে ভালোবাসে, সে জান্নাতে আমার সাথে থাকবে। এখানে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ অনুসরণে কোনো রকমের দ্বিধা ও অনাগ্রহ না থাকা বরং উৎসাহের সাথে তা পালন করাই তার প্রতি ভালোবাসার পরিচয়। রমজানের সিয়াম পালনের মাধ্যমে বান্দার মধ্যে দুনিয়ার মোহ হ্রাস পায়।

আখিরাতের জীবনের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে বলে সে আল্লাহর হুকুম মেনে চলতে আরো স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। এটাই তো আল্লাহর কাম্য এবং শরিয়ত মেনে চলা যখন মানুষের সহজাত প্রবণতা হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই হয় পরিপূর্ণ ঈমানদার। যক্তির দাবি কিংবা পার্থিব শৃঙ্খলা কিংবা পরকালের মুক্তির কথা বাদ দিয়ে নিছক প্রবৃত্তির চাহিদা যখন শরিয়ত অনুযায়ী চলা হয়ে দাঁড়ায়, তখন তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিরত থাকে অন্যায় ও অপরাধমূলক কাজকর্ম থেকে। রমজানের শেষ প্রান্তে রোজাদারদের কর্তব্য হয় নিজেকে যাচাই করা। দীর্ঘদিনের সংযম সাধনার প্রভাব কাজকর্মে কতটুকু প্রতিফলিত হয়, তা যাচাই করা। যদি শরিয়ত নিষিদ্ধ পানাহারের প্রতি ঝোঁক কমে যায়, যদি হাত পা, চোখ অন্যের দিকে অগ্রসর না হয়, মনে অসুন্দর খেয়াল আসা বন্ধ হয়, মস্তিষ্কে অপচিন্তার আনাগোনা কমে যায়, তাহলে সত্যিই রোজা পালনের সুফল পাওয়া গেছে। যদি ব্যতিক্রম হয়, অর্থাৎ রমাজানের আগের মনোভাব ও আচরণের সাথে এখনকার মনোভাব ও আচরণের কোনো পার্থক্য না হয়ে থাকে, তাহলে দুঃখ করা ছাড়া উপায় নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন - ওই ব্যক্তি হতভাগা, রমজান চলে গেলেও যার গুনাহ মাফ হয়নি। অন্যায় কাজকর্ম ত্যাগ করা অন্যায়ের জন্য অনুশোচনা বোধ করা ও ভবিষ্যতে ওই কাজ আর না করার অঙ্গীকার করলে আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দেন। রমজান তওবা ও ইস্তেগফারের খুব উপযুক্ত সময়। আল্লাহর বিশেষ রহমত নাজিল হওয়া, মুমিন বান্দাদের জন্য মাগফিরাতের দরজা খোলা থাকা ও তাদের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির ঘোষণা চলতে থাকা রমাজানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এই অনন্য সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে না পারাই সত্যিই অভাগার কাজ।

অতএব, বাকি দিনগুলো যেন আল্লাহর প্রিয় পাত্রদের তালিকায় স্থান পাওয়া যায়, তার মাগফিরাত লাভ হয় এবং ৭ জাহান্নাম থেকে মুক্তি মেলে, এ জন্য তওবা ইস্তেগফার ও প্রার্থনায় আরো আত্মনিয়োগ করাই এখন রোজাদার মুমিনদের একান্ত কর্তব্য।


বিভাগ : ধর্ম


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও